Alexa হ্রদের বরফ গলতেই মিলছে শত-শত কঙ্কাল!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ১ ১৪২৬,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪০

হ্রদের বরফ গলতেই মিলছে শত-শত কঙ্কাল!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৫ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:৩২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হ্রদের নাম ‘রূপকুণ্ড’। বছরে আটমাস বরফে ঢাকা এই হ্রদ ঘিরেই রয়েছে অপার রহস্য! বরফ গলতে শুরু করলেই এই জলাশয়ের আশপাশে একের পর এক কঙ্কালের দেখা মিলত এক সময়ে। যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ওয়ান গ্রামে অবস্থিত এই লেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৪৯৯ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই লেকের কঙ্কাল রহস্যের কথা জানতে ফিরে যেতে হবে ১৯৪২ সালে! সে সময়ে এক ব্রিটিশ রক্ষী বরফে মোড়া লেকে প্রথম বার দেখতে পান বেশ কিছু হাড়গোড়। গরমে বরফ গলতে শুরু করলে হাড়গোড় ও কঙ্কালের পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রাথমিক ভাবে ব্রিটিশদের ধারণা হয়, ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্ঘাত জাপানিরা এই পথে ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় তারা পথ হারিয়ে ফেলেন এবং কোনো ভাবে দুর্ঘটনায় মারা যান।

তবে ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদদের দাবী, এই হ্রদের হাঁড়গুলি জাপানি সৈন্যদের হতেই পারে না! এখানে এক সময়ে পালা করে আত্মহত্যা করতো এক দল লোক। আত্মহত্যার নাকি প্রথাও ছিল এক সময়। রটে যায়, প্রেতাত্মারা নাকি এই লেকে বাস করে। কোনো কোনো পর্যটক তো এর পর রূপকুণ্ড অভিযানে যেতেই ভয় পেতেন!

ভয়ঙ্কর তথ্যগুলো মাথায় রেখে ২০০৪ সালে রূপকুণ্ড অভিযান করা হয়। জানা যায়, ৮৫০ শতকের কঙ্কাল এগুলি। বিজ্ঞানীদের অন্য একটি দল অবশ্য দাবি করেন, হাঁড়ের বয়স ২০০ বছরের কাছাকাছি। মারাত্মক ঠাণ্ডার কারণে হাঁড়, মাংস সবই প্রায় অক্ষত থেকেছে বছরের পর বছর। কিছু কঙ্কালের গায়ে মাংস লেগে থাকার কারণেই প্রথমে এই কঙ্কালগুলির বয়স বোঝা যায়নি। এদের মধ্যে দু’টি দলকে শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। জানা যায়, একটি দলের সদস্যরা একই গোত্রের, অপর দল একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর।

স্থানীয় এক উপকথা অনুযায়ী, এক দেবী রুষ্ট হয়ে অভিশাপ দেওয়ায় শিলাবৃষ্টি নেমে এসেছিল। যার ফলে ওই এলাকার সব বাসিন্দার মৃত্যু হয়। এই দেবীকে নন্দা দেবী রাজ জাট বলেন স্থানীয়রা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে