হ্যারি পটার সম্পর্কিত অবাক করা সকল তথ্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৬ ১৪২৬,   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

হ্যারি পটার সম্পর্কিত অবাক করা সকল তথ্য

 প্রকাশিত: ১৪:১৯ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৪:১৯ ১৮ জুলাই ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হ্যারি পটারের জাদুকরী দুনিয়ায় মোহিত হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হ্যারি, হারমায়নি আর রনের সাথে হগওয়ার্টসের জাদুর দুনিয়ায় মাতোয়ারা হয়েছে ৯০ দশকের শিশুরা। জে কে রাওলিং এর এই সৃষ্টি এখনো প্রতিটি শিশুর শৈশবের অংশ হয়ে থাকছে। অনাথ এক ছেলের ধীরে ধীরে জাদুকর হয়ে ওঠার গল্পে বুঁদ হয়েছিল অনেক শিশুর কল্পনার জগত। কেবল শিশু নয় প্রাপ্তবয়স্কদের কাছেও হ্যারি পটার সমান জনপ্রিয়।

৭ খন্ডের কাল্পনিক উপন্যাস হ্যারি পটারের প্রথম খন্ড হ্যারি পটার এন্ড দ্যা ফিলোসফারস স্টোন প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। এই পুরো উপন্যাসটি ৬৪ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মূলত হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট এন্ড উইজার্ডরিতে মূল চরিত্র হ্যারির জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা নিয়ে এগিয়েছে কাহিনী। ভিলেন ভল্ডামর্টের বিরুদ্ধে হ্যারি ও তাঁর বন্ধু রন আর হারমায়নির বিভিন্ন দুঃসাহসিক অভিযানের বর্ণনা আছে উপন্যাসটিতে।

এই উপন্যাসের সাফল্য রাউলিংকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী উপার্জন করা লেখকের তালিকায় শীর্ষস্থান দিয়েছে। কেবল বইয়ের ক্ষেত্রে নয় হ্যারি পটারের সাফল্য রচিত হয়েছে সিনেমার জগতেও। উপন্যাসের ৭টি খন্ড নিয়ে তৈরী হয়েছে ৮টি সিনেমা। হ্যারি পটার সিরিজের সিনেমাগুলো হলিউডকে দিয়েছে ড্যানিয়েল রেডক্লিফ, এমা ওয়াটসন ও রুপার্ট গ্রিন্টের মতন তারকাদের।

পাঠকদের জন্য সারা জাগানো এই কল্পকাহিনীর মজার ও অবাক করা কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।

ট্রেনে গল্পের আইডিয়াঃ

অনেকের মনে নিশ্চয় এই প্রশ্ন এসেছে যে এত দারুন একটি গল্পের আইডিয়া লেখক কোথায় পেলেন। ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডন ট্রেনে লন্ডন যাওয়ার পথে লেখকের মাথায় প্রথম এই গল্পের আইডিয়া  আসে। এক সাক্ষাৎকারে লেখক জে কে রাওলিং বলেন,

“প্রায় ৬ বছর বয়স থেকে আমি নিরবচ্ছিন্ন ভাবে লিখছি কিন্তু কোনো আইডিয়া সম্পর্কে আমি পূর্বে এত উত্তেজিত ছিলাম না। আমি প্রচন্ড হতাশ ছিলাম তখন কারণ, আমার কাছে তখন কোন ভাল কলম ছিল না, এবং অন্যের কাছ থেকে কলম চাইতে আমার লজ্জা লাগছিলো। আমি এখন মনে করি, তা একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে, কারণ আমি তখন কেবল বসে বসে চিন্তা করেছি এবং সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আমার মগজে জমা হচ্ছিল। চর্মসার, কালো চুলের, চশমাপরা ছেলে যে জানত না যে সে একজন জাদুকর, আমার কাছে ক্রমেই আরো বাস্তব মনে হতে থাকে। আমি মনে করি যে আমাকে যদি একটু ধীরে কল্পনা করতে হতো যাতে আমি তার কিছু অংশ কাগজে লিখতে পারি তাহলে আমি হয়তো সেই কল্পনার কিছু অংশ বাদ দিয়ে দিতাম।“

পাঠকের নিশ্চয় মনে মনে ভাবছেন যে ভাগ্যিস সেদিন লেখিকা ট্রেনে চড়েচিলেন! প্রথম হ্যারি পটার বইটি যুক্তরাজ্যে প্রকাশ করে ব্লুমসবারি ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ করে স্কলাস্টিক প্রেস ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে।

শুরুর আগে শেষঃ

অবাক করা হলেও সত্যি যে পরো সিরিজটি শেষ করার অনেক আগেই তিনি সিরিজের শেষ খন্ডটি লিখে রেখেছিলেন।এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে লেখিকা উত্তরে বলেন যে তিনি জানতেন যে গল্প যেভাবেই আগাক না কেন শেষ পর্যন্ত হ্যারি আর ভল্ডামর্ট মুখোমুখি হবে এবং একটি যুদ্ধ হবে। তাই তিনি শেষ অংশটি আগেই লিখে রাখেছিলেন।

সংখ্যার আধিক্যঃ

গল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৩ ও ৭-এই দুটি সংখ্যার আধিক্য দেখা যায়। যেমন হ্যারি, হারমায়নি ও রন-এই তিনের দুঃসাহসিক একতা। হ্যারি বাসিলিক নামের জন্তুটিকে তিনবার আঘাত করে, হ্যাগ্রিড হগওয়ার্টসের দরজায় তিনবার কড়া নাড়ে। অন্যদিকে হগওয়ার্টসে ছাত্ররা ছাত্রীরা ৭ বছরের জন্য পড়তে আসে, কুইডিচ খেলাতে প্রতিদলে ৭ জন খেলোয়ার থাকে, সিরিয়াসকে হগওয়ার্টসের ৭ তলায় কাস্টডিতে রাখা হয়।

রাওলিং এর প্রিয় চরিত্রঃ

অবাক করা হলেও সত্য যে লেখিকা রাওলিং এর প্রিয় চরিত্র হ্যারি, রন, হারমায়নি, ডাম্বলডোর কিংবা ভল্ডামর্ট নয়। রাওলিং এর পছন্দের চরিত্র হল প্রফেসর ডাম্বলডোরের অফিসে রাখা ফনিক্স পাখিটি, যে পাখিটি ৫০০ বা ১০০০ বছর পড়ে নিজে নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ছাই থেকেই আবার জন্ম নেই নতুন ফনিক্স।

রনের মৃত্যুঃ

অনেকেই হয়ত অবাক হচ্ছেন এ কী করে সম্ভব! হ্যারির বন্ধু রন তো পুরো সিরিজ জুড়েই হ্যারির সাথে ছিল। তাহলে রনের মৃত্যুর কথা কেন! আসল ব্যাপার হল হ্যারি পটারের লেখক জে কে রাওলিং সিরিজের মাঝে রনকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। এমনকি রনের বাবা আর্থার উইসলিকেও মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করেননি। এমনকি তিনি চেয়েছিলেন রনের জায়গায় হ্যারিকে হারমায়নির প্রেমিক করতে। পাঠকরাও তাই অনুমান করছিল। হয়তো পাঠকদের চমকে দিতে তিনি শেষতক সিধান্ত পরিবর্তন করেন।

একই জ্ন্মদিনঃ

লেখিকা রাওলিং এবং প্রধান চরিত্র হ্যারির একই দিনে জন্ম, কেবল সালটা আলাদা। উভয়ের জন্ম ৩১ জুলাই। হ্যারির জন্ম ১৯৮০ সালে এবং রাওলিং এর জন্ম ১৯৬৫ তে। এর থেকেই অনুমান করা যায় যে কল্পকাহিনী হলেও হ্যারির জীবন কিছু ক্ষেত্রে লেখিকার জীবন দ্বারা প্রভাবিত।

নামঃ

লেখিকা যখন হ্যারি পটার সিরিজে ব্যবহার করা অদ্ভূত সব নামের উৎস সম্পর্কে প্রস্ন করা হয় তখন তিনি বলেন যে বিভিন্ন জায়গায় তিনি মজার নাম পেলে তা ডায়রীতে লিখে রাখতেন। যেমন হগওয়ার্টসের হাউজের নাম তিনি নিয়েছেন প্লেনের এয়ারব্যাগ কোম্পানির নাম থেকে। আবার ভল্ডামর্ট নামটি নেওয়া হয়েছে ফ্রেঞ্চ শব্দ থেকে যার অর্থ ‘মৃত্যু থেকে পালানো’। হ্যারির গডফাদার সিরিয়াসের নামটি নেওয়া হয়েছে গ্রিক শব্দ থেকে যার অর্থ  ‘আকাশের উজ্জ্বলতম তাঁরা’।

স্নেপের রহস্যঃ

হ্যারি পটারের প্রথম খন্ড থেকেই প্রফেসর স্নেপকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যায়। হ্যারিকে নানান ধরনের শাস্তি দিয়ে তিনি হ্যারি প্রেমীদের চোখে হয়ে উঠেন ভিলেন। কিন্তু সিরিজের শেষ খণ্ডে লেখিকা চমকে দেন সকলকে। দেখা যায় যে হাফ ব্লাড প্রিন্স খ্যাত প্রফেসর স্নেপ আসলে হ্যারির শ্ত্রু নয়। বরং পরো কাহিনী জুড়ে গোপনে তিনি হ্যারিকে সাহায্য করেছেনেবং শেষ সময়ে হ্যারিকে বাচাতে জীবন দেন তিনি। কারোন হ্যারির মা লিলি পটারকে ভাল্বাস্তেন তিনি। এই কাহিনী আমরা সকলেই জানি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল স্নেপের এই পরিবর্তনের কথা কাউকে জানাননি তিনি। শেষ খন্ড প্রকাশের আগে হ্যারি পটার সিরিজের পরিচালক এবং স্নেপ চরিত্রে অভিনয় করা এলান রিকম্যানও এই ব্যাপারে কিছু জানতেন না। শেষ খণ্ডের সুট্যিং এর সময় এই পরিবর্তনের কথা জেনে অবাক হন তিনি। সেইসাথে অবাক হয় পুরো বিশ্বের হ্যারি প্রেমীরাও।

রঙের অর্থঃ

হ্যারি পটারের পুরো সরজ জুড়েই দেখা গিয়েছে নির্দিষ্ট কিছু রঙের বিশেষ মানে। হ্যারি পটার হগওয়ার্টসের চারটি হাউজ গ্রিফিন্ডর, স্লিদারিন, র‍্যাভেনক্ল ও হাফলপাফের মধ্যে প্রথমটির ছাত্র ছিল। গ্রিফিন্ডর হাউজের সকল ক্ষেত্রে দেখা যায় লালের আধিক্য। এমনকি হগওয়ার্টসে যাওয়ার ট্রেনটির রঙও ছিল র‍্যাস্পবেরী। এই সিরিজে লাল রঙের অর্থ হিসেবে হয়েছে মানবিকতা ও দয়াশীলতা। অন্যদিকে সবুজকে বোঝানো হয়েছে নেতিবাচক হিসেবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ