.ঢাকা, রোববার   ২৪ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১০ ১৪২৫,   ১৭ রজব ১৪৪০

হ্যানয়ে কুকুরের মাংস না খাওয়ার অনুরোধ

অান্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হ্যানয়ের পথে বিক্রি হচ্ছে কুকুরছানা

হ্যানয়ের পথে বিক্রি হচ্ছে কুকুরছানা

রাজধানী হ্যানয়ের নাগরিকদের কুকুরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে আহ্বান করেছে ভিয়েতনামের 'হ্যানয় পিপলস কমিটি' নামের একটি সংগঠন।

কুকুরের মাংসের প্রতি ভিয়েতনামবাসীর আগ্রহ চিরায়ত। অন্য প্রাণীর চেয়েও কুকুরের মাংস তাদের ডিশে অধিক জনপ্রিয়। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু রাজধানী হ্যানয়েই হাজারেরও বেশি দোকানে কুকুরের মাংস পাওয়া যায়।

বুধবার এক নির্দেশনায় হ্যানয় পিপলস কমিটি জানায়, এতে শহরের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে জলাতঙ্কের মতো গুরুতর রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুকুরের মাংস খাওয়ার এ প্রথা ‘আধুনিক ও সভ্য’ রাজধানী গড়ে তোলার প্রধান অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছে হ্যানয় পিপল্‌স কমিটি।

কমিটি থেকে আরো বলা হয়, কুকুরের মাংস খাওয়ার ফলে জলাতঙ্কের পাশাপাশি লিপটোসপিরোসিস নামক রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ভয়ানক ব্যাধি।

হ্যানয় পিপলস কমিটি সেখানকার বাসিন্দাদের বিড়ালের মাংস খাওয়া বন্ধ করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও সেখানে বিড়ালের মাংস খুব বেশি জনপ্রিয় না হলেও দোকানে এটি সহজেই মেলে। মূলত নিষ্ঠুরভাবে মারা হয় বলে বিড়ালের ব্যাপারেও আপত্তি জানান তারা।

এক পরিসংখ্যান মতে, প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার কুকুর ও বিড়ালের বাস হ্যানয়ে, যার অধিকাংশই পোষা ও গৃহপালিত।

বিবিসির ভিয়েতনাম সার্ভিসের সাংবাদিক লিন এনগুয়েন জানান, সম্প্রতি ভিয়েতনামের মানুষ কুকুরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে সচেতন হচ্ছে। এরপরেও এ খাদ্যাভ্যাস এতই প্রচলিত যে, চাইলেও মানুষ ছাড়তে পারছে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মানুষ নগর কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সেখানেও এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছে অনেকে। এতেই বুঝা যাচ্ছে, ভিয়েতনামের মানুষ চাইলেও সহজে কুকুরের মাংস খাওয়া ছাড়তে পারবে না। ড্যাং এনগোস কুয়াং নামের এক ফেসবুক ইউজার যুক্তি দেখান যে, এ খাদ্যটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা কোনভাবেই উচিৎ নয়। কারণ মানুষেরও খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা থাকা উচিৎ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড