.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

মদ্যপ স্বামীর সংসার নয়, পড়াশুনা শেষ করতে চাই

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:০১ ১ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার লালমাইয়ের ইউএনও কেএম ইয়াসির আরাফাতের সহায়তায় অবশেষে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে আসা মাদরাসা ছাত্রী শারমিন আক্তার।

ইউএনওর কাছে শারমিনের আর্জি, স্যার, আমি পড়াশুনা করে অনেক বড় হতে চাই। আমাকে পড়া শুনার সুযোগ করে দিন। আমি বর্তমান মদ্যপ স্বামীর সংসার করতে চাই না। পড়াশুনা শেষ করে বিয়ের উপযুক্ত হয়েই বিয়ে করতে চাই, এর আগে নয়। তবে পড়াশুনা করার জন্য সংসারের যে স্বচ্ছলতা দরকার তা আমাদের সংসারে নেই।

বাগমারা চেঙ্গাটা মহিলা দাখিল মাদরাসার ছাত্রী শারমিন জেডিসি পরীক্ষার রুটিন পেয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠে। শ্বশুর -জামাতাকে হাতে পায়ে ধরেও পরীক্ষা দেয়ার জন্য রাজি করাতে পারেনি, অদ্যম শারমিন শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে আসে মাদরাসায়।

বুধবার মাদরাসা সুপার জুলেখা বেগম ডেকে আনেন শারমিনের দাদা আবু হানিফকে। এতে ঘটে হিতে বিপরীত। দাদা আবু হানিফ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে সুপার জুলেখা বেগম শিক্ষিকা মুর্তজা বেগমকে দিয়ে শারমিনকে পাঠিয়ে দেন ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাতের কাছে।  

বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে কুমিল্লা নগরীর শাকতলায় খালাতো বোনের বাসায় গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি শারমিনের। দাদা আবু হানিফ ও বড় মামা অহিদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণে নানা অপবাদ দিয়ে কুমিল্লা থেকে ধরে এনে সবার অগোচরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জোরপূর্বক বিয়ে দেয় শারমিনকে। বরুড়া উপজেলার আরিফপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে  শাহপরান শারমিনের স্বামী। বিয়ের সময় পড়াশুনা চালিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পড়াশুনা বন্ধ করে দেয় স্বামী । 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার অশোকতলা  গ্রামের সৌদী আরব প্রবাসী শাহজাহানের  তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে শারমিন সবার বড়।  বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কর্তার দায়িত্ব পান দাদা আবু হানিফ।

মেয়ে মানুষদের বেশি পড়াতে নেই, জমানা ভাল নেই এমন অভিযোগে দাদা আবু হানিফ ও বড় মামা অহিদ এ দুইজন মিলে মাদরাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া শারমিনকে জোরপূর্বক বিয়ে দেন। বিয়ের দ্বিতীয় দিন থেকেই শারমিনের উপর নেমে আসে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির নির্যাতন। জানিয়ে দেয়া হয় পড়াশুনা করার জন্য বিয়ে করে আনা হয়নি। আস্তে আস্তে কিশোরী শারমিন আবিস্কার করে স্বামী শাহপরান মদ গাজাসহ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সব কিছুই খায়। বাধা দিলেই চলে শারীরিক নির্মম নির্যাতন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ