Alexa হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের বিখ্যাত চরিত্রগুলো

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের বিখ্যাত চরিত্রগুলো

তানভীর আহম্মেদ সরকার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৪ ১৯ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নান্দনিক কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বিশাল সাহিত্য ভান্ডার বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। তার সৃষ্ট চরিত্র হিমু, মিসির আলী ও শুভ্র বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। হলুদ পাঞ্জাবি পড়া কোনো যুবক যখন চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যায় মনে পড়ে যায় হিমুর কথা, মনে পরে যায় হুমায়ূন আহমেদের কথা। 

হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য যুবকদের বৃষ্টি আর জোছনাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, তরুণীদের অবলীলায় প্রেমে পড়তে শিখিয়েছে।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনন্য উপন্যাস ‘দিঘির জলে কার ছায়া গো’ শুধু হিমু চরিত্র পছন্দকারীদের কাছে নয়, হুমায়ূন আহমেদের পাঠক গোষ্ঠীর প্রায় সকল শ্রেণীর কাছেই উপন্যাসটি প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। উপন্যাসের মূল চরিত্র মুহিব। মুহিবের ‘মুহি‘ অক্ষর দুটি উল্টালে ‘হিমু’ হয়। নামের কারণে বা অন্য কোনো ভালো লাগা থেকেই হোক সে হিমু পাগল! অনেক সময় সে হিমুর মতো হতে চায়, খালি পায়ে হাঁটতে চায়, তার কর্মকান্ড অনুসরণ করতে চায়। হিমুর কিছু কিছু কথা তাকে প্রায় সময় সান্তনা দিয়ে থাকে। 

‘দিঘির জলে কার ছায়া গো’ মূলত একটি নাটকের নাম। যে নাটকে মুহিব অভিনয় করেছিল। তার জীবনে নাটকে অভিনয় করাটা কাকতালীয়। এই নাটক থেকে অনেক সম্মান পেলে আর নাটক ছাড়তে পারে নি। 

অন্যদিকে মুহিবেরও হিমুর রূপার মতো রূপা আছে। তার নাম লীলা। লীলাই মুহিবের রূপা! তবে লীলার বিয়ে ঠিক হয়েছে। এরপরও দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব অসাধারণ। মুহিব লীলার সঙ্গে আনন্দ ঝলমলে দিন গুলো যখন কাটছিলো তখনি নেমে আসলো এক কঠিন ঝড়। মুহিবের বাবাকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলে নেয়া হয়। বাবাকে বাঁচাতে মুহিব বাড়ি বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। এভাবেই উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহিত হতে থাকে। বইটি হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় বই গুলোর একটি।

নান্দনিক কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস গুলোর মধ্যে ‘মধ্যাহ্ন’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। দুই খন্ডের উপন্যাসটির প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে এবং এর দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ৪০৮ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি অখন্ড রূপে প্রকাশিত হয়। 

উপন্যাসের গল্প ১৯০৫ সালের গ্রামীন প্রেক্ষাপট কে কেন্দ্র করে। এ উপন্যাসের কাঠামোয় হুমায়ূন আহমেদ একটি ঐতিহাসিক পটভূমিকে পরোক্ষ করেছেন। উপন্যাসটি লেখকের জন্মপূর্ববর্তী বিংশ শতাব্দীর একটি কালখন্ড পূর্ণ নির্মানের প্রয়াস মাত্র। 

ঐতিহাসিক পটভূমি হিসেবে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের নেত্রকোনা অঞ্চলকে বেছে নিয়েছেন তিনি। উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সফল সৎ ব্যবসায়ী হরিপদ সাহা। যিনি এক মুসলিম ছেলেকে আদর করার দায়ে সমাজচুত্য হন এবং পরবর্তীতে ঋষি সূলভ জীবন বেছে নেন। একি দায়ে দোষী হলে এলাকার ব্রাহ্মণ অম্বিকা ভট্টাচার্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সিরাজুল ইসলাম ঠাকুর হয়ে যান। 

এছাড়া এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে তৎকালীন সময়ের বেশ্যালয়ের চিত্র। এলাকার কাঠ মিস্ত্রি সুলেমান তার স্ত্রী কে তালাক দিলে ঠিকানা হয় বেশ্যালয়! মধ্যাহ্ন শুরু থেকে শেষ অবধি আবর্তীত হতে থাকে নানাকাহিনীর সমন্বিত অবয়ব! উপন্যাসে বিশেষ পাওনা হিসেবে কখনো কখনো অতি অলৌকিকতা বা আধিভৌতিক ঘটনার জাদুকরি ছোঁয়া পাওয়া যায়।

এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসটিতে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কিছু ঘটনা। যা উপন্যাসে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

‘দারুচিনি’ দ্বীপ হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র শুভ্র সিরিজের বহুল পঠিত বই। ১৯৯১ সালে প্রথম বই মেলায় প্রকাশিত হলে বইটি পাঠক মহলে খ্যতি অর্জন করে। উপন্যাসে কানাবাবা নামে খ্যত শুভ্র ও তার বন্ধু-বান্ধবরা মিলে সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার আয়োজন করতে দেখা যায়। যদিও উপন্যাসের শেষে তাদের আর সমুদ্র সৈকতে যাওয়া হয় নি। 

পুরো উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি তুলে ধরেছেন। শেষে সবার সমুদ্রে যাওয়ার উদ্দ্যেশে ট্রেনে উঠে উপন্যাসের ইতি করে। এই উপন্যাস অবলম্বনে ২০০৭ সালে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচিত্র নির্মাণ করা হলে দর্শক মন ভিন্ন নান্দনিকতার ছোঁয়া পায়।

‘ময়ূরাক্ষী’ হুমায়ূন আহমেদের লেখা হিমু সিরিজের প্রথম উপন্যাস। ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হলে বিশেষ করে তরুণদের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই জনপ্রিয়তার হাত ধরেই হিমু সিরিজের সূচনা।

ময়ূরাক্ষী অর্থ ময়ূরের চোখ হলেও উপন্যাসে ময়ূরাক্ষী একটি নদীর নাম। যেটি হিমু স্বপ্নে দেখেছিল। এই নদীটি শুধু তার। এই নদীর রূপ পরিবেশ তার মনে গেঁথে গেছে। কোথাও বসে কল্পনা করলে সে সহজেই নদীটি দেখতে পারে। সে নদীর পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে পারে, নিজেকে শীতল করতে পারে। 

গল্পের প্রধান চরিত্র হিমু তার জীবনের লক্ষ্য মহাপুরুষ হওয়া। ছোটবেলায় সে তার বাবার স্কুলে লেখাপড়া করেছে। যে স্কুলের ছাত্র ছিল মাত্র একজন। আর সেটা হিমু! তার বাবার বিশ্বাস, ট্রেনিং দিয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা গেলে মহাপুরুষও করা যাবে। হিমুর বাবা চাইত হিমু যেন বড় হয়ে মহাপুরুষ হয়। বাবার স্বপ্ন পূরণে হিমুর পথ চলা। হলুদ পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে হাঁটা ও মহাপুরুষ হওয়ার সাধনা। 

এছাড়াও উপন্যাসে দেখা যায় অসম্ভব রূপবতী মেয়ে রূপা কে। যে হিমুকে ভালোবাসে। হিমুর জন্য রূপার অপেক্ষার শেষ নেই। হিমুর শৈশব থেকে বড় হওয়ার, হিমুর জীবনে রূপার প্রবেশ ইত্যাদি ভাল করে জানতে হলে অবশ্যই ময়ূরাক্ষী পড়তে হবে। এই বইটি তে লুকিয়ে আছে হিমু সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য। যা হিমু প্রেমিদের মনে এখনো জায়গা করে আছে।

‘দেবী’ হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ মিসির আলীর প্রথম উপন্যাস। ১৯৮৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে ব্যপক সাড়া ফেলে। যারা হুমায়ূন আহমেদ কে চিনেন তাদের কম বেশি সবাই মিসির আলী চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত। দেবী উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ প্রথম মিসির আলী কে অবতরন করেন। 

মিসির আলী একজন অতি সাধারণ মানুষ। যিনি মানুষের মন নিয়ে পড়ালেখা করেন এবং মাঝে মাঝে চেষ্টা করেন অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে। দেবী উপন্যাসে দেখা যায় রানু নামের এক নববিবাহিত মহিলার অলৌকিক ক্ষমতা ও মানসিক সমস্যার সমাধানের জন্য মিসির আলীর স্মরণাপর্ণ হতে। তার স্বামী আনিসের মতে রানু অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী। 

রানুর সঙ্গে মিসির আলীর কথা বলার এক পর্যায়ে মিসির আলী রানুর অতীতের দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। মিসির আলীর মতে রানুর অডিটরি হ্যালুসিনেশন সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্যা কে কেন্দ্র করে উপন্যাসের ঘটনাবলী আবর্তীত হতে থাকে। অতীন্দ্রিয়তা আর যুক্তির মাঝে রহস্য রেখে হুমায়ূন আহমেদ সাবলীল ভাষায় উপন্যাসটি শেষ করেন। দেবী উপন্যাসের অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার প্রভাব আপনার কল্পনা কে শিহরিত করবেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস

Best Electronics
Best Electronics