Alexa হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে একদিন

ঢাকা, শনিবার   ১৭ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে একদিন

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৮ ১৯ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১২:২২ ১৯ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এ এক শান্তির জায়গা। গ্রামের বিশাল সবুজ মাঠ, চারদিকে প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ। আছে ডিম্বাকৃতির সুইমিংপুল। সবচেয়ে নজর কাড়ে মৎস্যকন্যার মূর্তিসহ পানির রিজার্ভারটি। এটির পাশে একটি রাক্ষস ও ডাইনোসারের মূর্তিও আছে। লেকের মাঝে বসার জন্য একটি ছোট দ্বীপ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে শালবন, অর্কিড বাগানসহ তিনটি বাংলো। এমন জায়গায় তো দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়াই যায়।

বলছিলাম নুহাশ পল্লীর কথা। এটি কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের জন্য ছিল একটি স্বর্গ। জায়গাটিতে যেতে যেতেও সেটা টের পাওয়া যায়। গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের বেশিরভাগ পথই ঘন শালবনে আচ্ছাদিত। আলো আধারিতে ঢেকে থাকা এমন একটি পথে ২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে নুহাশ পল্লীর। ১৯৯৭ সালে ২২ বিঘা জমির উপর স্থাপিত জায়গাটির বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। অভিনেতা ডা. ইজাজ এখানকার জমিটি কিনতে সহায়তা করেন। হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের একমাত্র পুত্র নুহাশের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।

হুয়ায়ূন আহমেদ জীবনের বহু সময় নুহাশ পল্লীতে হেঁটে বেড়িয়েছিলেন এবং একান্ত অনেক মুহূর্ত প্রকৃতির কাছে থেকে অতিবাহিত করেছিলেন। নুহাশ পল্লীর উত্তর প্রান্তে একটি বড় পুকর রয়েছে যেটির উপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। পুকুরের মাঝে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে একটি তাঁবু টানানো হতো। হুমায়ূন আহমেদ ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের একটি কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা যায়। হুমায়ূন আহমেদ তার সেই কন্যার নাম দিয়েছিলেন লীলাবতি। এই পুকুরটির নামও রাখা হয়েছে লীলাবতি।

নুহাশ পল্লীর ভেতরে অসংখ্য মূর্তি রয়েছে

নুহাশপল্লীর সবুজ মাঠ, দীঘি লীলাবতীর জল, ঔষধি বাগান, ছাতিম গাছের ছায়া, লেখার টেবিল, দেয়ালে টানানো প্রিয় ফটোগ্রাফি কিংবা বুক শেলফে সাজানো শতশত বই—সবই আছে সেই আগের মতোই। শুধু নেই প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। এখানে এলে এখনো দেখা মিলবে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি ও সমাধিস্থল, সরোবরে পাথরের মৎস্য কন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের মূর্তি, প্রাকৃতিক নকশায় তৈরি করা সুইমিং পুল —যেখানে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং হুমায়ূন আহমেদ একসঙ্গে জলে নেমেছিলেন, দাবার গুটির প্রতিকৃতি, টি-হাউসসহ নানা রকম দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপত্য। ভূত বিলাস, বৃষ্টি-বিলাসসহ তিনটি বাংলো রয়েছে এই বাগানবাড়িটিতে।

নুহাশ পল্লীতে না ঢুকেও একটু বাম পাশ দিয়ে যে সরু রাস্তা গেছে, সেদিক দিয়ে আপনি হুমায়ুন আহমেদ এর কবর জিয়ারত করে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতে পারেন।

নুহাশ পল্লীর সাঁকো

জেনে রাখুন

নুহাশ পল্লী যেতে চাইলে মহাখালী থেকে সম্রাট লাইন, রাজদূত পরিবহন, ডাউন টাউন বাসে উঠুন। এবার আপনি হোতাপারা নামক স্থানে নেমে সিএনজি বা লেগুনায় নুহাশ পল্লীতে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন ময়মসিংহের বাস ও প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের বাসগুলো গাজীপুর চৌরাস্তায় অনেকক্ষণ দেরি করে।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নুহাশ পল্লী সকল দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন খোলা থাকে। ১২ বছরের উপরে জনপ্রতি টিকেট লাগবে ২০০ টাকা। নভেম্বর থেকে মার্চ মূলত পিকনিকের জন্য ভাড়া দেয়া হয়। প্রতিদিন পিকনিকের জন্য ১টি গ্রুপে সর্বোচ্চ ৩০০ জন আসতে পারবে। সরকারি ছুটির দিনে পিকনিকের জন্য গুনতে হবে ৬০ হাজার টাকা, অন্যদিন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনে পিকনিকের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা, অন্যদিনগুলোতে ভাড়ার জন্য গুনতে হবে ৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics
Best Electronics