হুমায়ুন-জাফর ইকবালদের রাজত্ব বই মেলায়!

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

হুমায়ুন-জাফর ইকবালদের রাজত্ব বই মেলায়!

মেহেদী সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৫১ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অমর একুশে গ্রন্থমেলার হুমায়ুন-জাফর ইকবালদের রাজত্ব চলছে। মেলায় বই বিক্রির শীর্ষে থাকা স্টলগুলোতে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। ২০তম দিন বুধবারে বেলা ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত সারে আটটা পর্যন্ত মেলা চলে। এই দিন মেলায় ১৩৮টি নতুন বই এসেছে। বুধবারে মেলায় দর্শনার্থীর ভীর ছিলো তুলনামুলক কম। বেচা-বিক্রিও কম বলেই জানিয়েছেন একাধিক স্টলের বিক্রয়কর্মিরা। তবে কাকলী প্রকাশনীতে কিছুটা ক্রেতার ভীর লক্ষ করা গেল। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এ. কে নাছির আহমেদ সেলিম তাদের স্টলের বিক্রি নিয়ে সন্তষ্ট বলে জানান।


তিনি বলেন, ‘দর্শনার্থী তুলনামুলক কম হলেও আমাদের স্টলে যে বেচা বিক্রি হচ্ছে তাতে আমি খুশি। আমাদের পাঠক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে প্রায়ত হুমায়ুন আহমেদের বই। এরপরে দিকে রয়েছেন তার সহদর মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বই। তার পুরাতন ও নতুন সব রকমের বই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এবার আমাদের প্রকাশনী থেকে এসেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের নতুন বই ‘অবিশ্বাস্য সুন্দর পৃথিবী’। নতুন বইয়ের মধ্যে এই বইটি সব থেকে বেশি কিনছেন ক্রেতারা।


এছাড়া অন্যান্ন স্টলগুলোর মধ্যে বেহুলা বাংলা প্রকাশনীর স্টলে ক্রেতার ভীর দেখা গেল। স্টলটির বিক্রয় কর্মি আয়েশা খাতুন জানালেন বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে তাদের স্টলের বই। তাদের নতুন বইয়ের মধ্যে বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে আব্দুল আজিজের চলচ্চিত্র বিষয়ক বই ‘কিছু কথা কিছু ব্যাথা’, রনি রেজার ‘এলিয়েনের সঙ্গে আড্ডা’ ও আরাফাত আল মাসুদের ‘বন্ধুসময়’ বইগুলো।’

এদিকে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. হাবিব আর রহমান এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ।

প্রাবন্ধিক ড. ইসরাইল খান বলেন, সওগাত-যুগের অবসান ঘটেছে বটে, কিন্তু এখনও তার প্রভাব অনুভব করা যায়। সওগাতের প্রগতিবাদী সুচিক্কণ সাহিত্যরুচির অনুসারী পত্রিকা তরুণদের মধ্যে থেকে এখনও বের হচ্ছে। ভুললে চলবেনা আজ বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে তরুণদের যে সাহিত্যিক মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে-তারাতো সওগাত-কল্লোল-কালিকলম-প্রগতি-বুলবুল-চতুরঙ্গ-ছায়াবীথি-গুলিস্তাঁরই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, সওগাত বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করে দিয়েছে। ‘সওগাত’ তাই কালের দাবি পূরণকারী ইতিহাসের গতি-নিয়ন্ত্রক একটি সাহিত্য-পত্রিকা।
আলোচকবৃন্দ বলেন, সওগাত পত্রিকা বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রগতিশীলতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এ পত্রিকা নারীস্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উদার আবহ সৃষ্টিতে এই পত্রিকার ভূমিকা ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি রাখে। তারা বলেন, সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এই পত্রিকার মধ্য দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামসহ বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশ, পরিচর্যা ও লালনে যে ভূমিকা রাখেন তা এক কথায় অবিস্মরণীয়।  

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সওগাত পত্রিকার সামাজিক সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা ঐতিহাসিক। সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ তাই আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরে বিশেষ তাৎপর্যের দাবি রাখে। বাংলা একাডেমি এ উপলক্ষটিকে স্মরণ করে যেমন জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে তেমনি আমরা মনে করি আরও বৃহৎ পরিসরে সওগাত পত্রিকা বিষয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/