হুইসেল বাজিয়ে স্টেশনে, স্টেশনে ছুটছেন সালমা 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=120076 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

হুইসেল বাজিয়ে স্টেশনে, স্টেশনে ছুটছেন সালমা 

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৪ ১৭ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রথম নারী ট্রেন চালক সালমা খাতুন। নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে হুইসেল বাজিয়ে স্টেশনে, স্টেশনে ছুটছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন চালক সালমা খাতুন। দেশের হাজারো মানুষের কথা চিন্তা করে দক্ষতার সঙ্গে ট্রেন চালাচ্ছেন তিনি।  

মঙ্গলবার কমলাপুর থেকে কালিয়াকৈরে যাবার পর সালমা খাতুন নিজের ট্রেন চালক হওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো জয়দেবপুর ট্রেনস্টেশনে বর্ণনা করেন।

সালমা খাতুন বলেন, কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ যা পারে নারীরাও তাই পারে। দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন আমাদের উৎসাহিত করেন তখন কাজে আরো উৎসাহিত পাই। প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক বক্তব্য নারীর সাফল্য কেউ ঘরে এসে দিয়ে যাবে না। নারীদের সাফল্য নিজেদের অর্জন করতে হবে। এই বক্তব্য কাজে আমাকে বেশী উৎসাহিত করেছে। 

তিনি বলেন, কৃষিজীবী বাবার তিন ভাই বোনের সংসারে বড় ভাইয়ের উৎসাহে এ পেশায় আশা। আর ট্রেনচালক হিসেবে যোগদান করতে পেরে আমি গর্বিত।  

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামের সালমা খাতুন বললেন, এ পেশা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। খুব এনজয় করি। 

সালমা বলেন, যেহেতু ট্রেনচালনার উদ্দেশ্য নিয়েই এই চাকরিতে ঢুকেছি সেহেতু যেখানে যেতে বলবে সেখানে যেতে বাধ্য আমরা। এখানে ভয় পেলে চলবে না। এখানে কাজ হলো ট্রেনের ইঞ্জিন ও লোকো মাস্টারদের ডিউটি রোস্টার তৈরি করা। 

তিনি বলেন, যদিও লং রুটে ডিউটি করা অনেক কষ্টের। কারণ সিডিউল বিপর্যয়ের কবলে পড়ে ট্রেন যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গাতে দাঁড়িয়ে থাকে তখন যাত্রীদের বিরক্তি প্রকাশের সুযোগ থাকলেও চালক বা সহকারী চালকের সে সুযোগ নেই। যা-ই কিছু ঘটুক না কেন গন্তব্যে পৌঁছে আরেক চালককে ইঞ্জিনের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়া পর্যন্ত নিস্তার নেই। এসব বিষয়কেই চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তিনি।

সালমা খাাতুন বলেন, নারী হিসাবে নয় চালক হিসাবেই ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠি। এসময় সব ধরনের অসুবিধা বা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার মতো মন মানসিকতা তৈরি করে নিয়েছি। আশা করি খুব একটা অসুবিধা হবে না। ছোটবেলায় সালমার প্রিয় খেলনা ছিল ট্রেন। খেলতে খেলতেই ট্রেনের প্রতি ভালোবাসা যেনো তৈরি হয়েই ছিল। 

সালমা আরো বলেন, প্রথাগত পেশার বাইরে কিছু করার স্বপ্ন ছিল। তবে কাজটি সহজ নয়। যত বেশি মেয়ে এ পেশায় আসবেন, তত তাড়াতাড়ি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে। 

প্রথম নারী ট্রেনচালক বলেন, আমি এখন কমলাপুরে কাজ করছি। কোনো ট্রেন এলে ইঞ্জিন খুলে সেটি চালিয়ে আরেকটাতে লাগাই। কমলাপুরে হাজার হাজার মানুষের সামনে যখন এ কাজ করি তখন অনেকেই বিস্ময় নিয়ে থাকে। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীকে দেখান।

সালমা বেগম এইচ এস সি পাস করে যোগদেন এএলএম হিসেবে। চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে জান তিনি কাজী নজরুল সরকারি কলেজ থেকে এম এ, মতিঝিল টি এন টি কলেজ থেকে বি এস সি এবং মর্ডান টির্চার ট্রেনিং ইনষ্টিটিউশন থেকে বি এড সম্পন্ন করেছেন। বিয়ে করেছেন স্বামী ঢাকা জেলা দায়রা জজ কোর্টের অফিস সহকারীকে। সালমা দুই কন্যা সন্তানের জননী।

আর কিছুদিন পরেই সালমা ছুটবেন দ্রুতগামী ট্রেন নিয়ে দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সাব-লোকো মাস্টার (এসএএলএম) থেকে সালমা এখন প্রধান লোকো মাস্টার। পর্যায়ক্রমে ট্রেনিং শেষ করে তারা একদিন সারাদেশে দ্রুতগামী ট্রেন চালিয়ে বেড়াবেন।  

এ বছরের মধ্যেই আসবে স্টিলের অত্যাধুনিক কোচ, নতুন ইঞ্জিন। আন্তঃনগর ট্রেনে যুক্ত হবে ফাইভ স্টার আদলের নতুন কেবিন। দেশের এক প্রান্তথেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলবেন এই নারীরাই। হুইসেল বাজিয়ে ছুটবেন স্টেশনে, স্টেশনে!

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে