Alexa হীরা কেড়ে নিলো প্রাণ!

ঢাকা, শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

হীরা কেড়ে নিলো প্রাণ!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৬ ৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:২৭ ৯ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নীল রঙের একটি হীরা। চোখের সামনে নিশ্চয়ই তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন! অনেকেই তো আসল হীরার দেখা পাননি! তবে কল্পনায় তো সবাই হীরা দেখেছি তাই না! ভাবা যায়, একটি হীরা কীভাবে অভিশপ্ত হতে পারে? এতো সুন্দর একটি রত্ন কীভাবেই বা মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে? 

সতেরো শতকে ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী জিন ব্যাপ্টিস্ট ট্যাভার্নিয়ার ভারতে এসে এক দেবীর মূর্তি থেকে ১১৫ দশমিক ১৬ ক্যারটের নীল রঙের একটি ডায়মন্ড চুরি করেন। রত্নটি সেই দেবীর চোখের জায়গায় লাগানো ছিল। এই বিখ্যাত রত্নের কোনো একটি অংশ যখনই যার কাছে ছিল তারই কপালে নেমে এসেছে দূর্গতি। এমনকি ধারণা করা হয়, যিনিই এর মালিক হয়েছেন তিনিই ধ্বংস হয়েছেন।  

অভিশপ্ত নীল হীরা১৬৬৯ সালে ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই এটি ট্যাভার্নিয়ারের কাছ থেকে কিনে নেন। ১৬৭৩ সালে তিনি একে আবার কাটানোর ব্যবস্থা করেন। তখন এটি ‘দ্য ব্লু  ডায়মন্ড অব দ্য ক্রাউন’ অথবা ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ নামে পরিচিত ছিল। ৭২ বছর বয়সে গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। চতুর্দশ লুইয়ের রাজস্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রক ছিলেন নিকোলাস ফুকুয়েট। তিনি কিছু উৎসবে এ ডায়মন্ডটি নিজের শোভাবর্ধনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

এর কিছুদিন পরই রাজার সঙ্গে কিছু কারণে তার সম্পর্ক খারাপ হয় এবং তাকে ফ্রান্স থেকে নির্বাসন দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাজা এ শাস্তি পরিবর্তন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পিগনেরল দুর্গে ফুকুয়েটকে ১৫ বছর বন্দি রাখা হয়। এরপর উত্তরাধিকার সূত্রে এ ডায়মন্ডটি পান রাজা ষোড়শ লুই। তার স্ত্রী মেরি অ্যান্টোইনেট এটি ব্যবহার করতেন। ফরাসি বিদ্রোহে দু’জনেরই শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।

এভালিন ওয়ালশ ম্যাকলিনের গলায় সেই হীরাটিএকসময় এ ডায়মন্ডটি যায় ইংল্যান্ডের লর্ড ফ্রান্সিস হোপের কাছে। তিনি আমেরিকার এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। দু’জনেরই টাকা ওড়ানোর অভ্যাস ছিল। ফলে একসময় তারা ডায়মন্ডটি বেঁচে দেন। পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্য তাদের আরও ঘিরে ধরে। ডাচ রত্ন ব্যবসায়ী উইলহেলম ফলসের হাতে ডায়মন্ডটি পড়লে তিনি এটিকে আবারো কেটেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলের হাতে তিনি খুন হন। ছেলেটি নিজেও আত্মহত্যা করেছিল।

গ্রিক বণিক সাইমন মাওনকারিডস একবার ডায়মন্ডটির মালিক হয়েছিলেন। খাঁড়া পাহাড় থেকে গাড়িসহ পড়ে স্ত্রী, সন্তানসহ মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপরে সেটা চলে যায় তাভেরনিয়ার নামের এক ব্যক্তির  কাছে, যাকে তার পোষা কুকুর জীবন্ত অবস্থায় খেয়ে ফেলে। নীল রঙের এ ডায়মন্ডটির সর্বশেষ মালিক ছিলেন আমেরিকার নাগরিক এভালিন ওয়ালশ ম্যাকলিন। ডায়মন্ডটি কেনার আগ পর্যন্ত তার জীবন বেশ চমৎকারভাবেই কাটছিল।

হীরাটি তিন খণ্ড করা হয়ডায়মন্ডটি তিনি মাঝে মাঝেই গলায় ঝোলাতেন। এমনকি কখনো নিজের পোষা কুকুরের নেকলেসেও শোভা পেতো সেটি। এরপরই যেন তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। প্রথমে মারা যান তার শাশুড়ি। এরপর মাত্র নয় বছর বয়সে মারা যায় তার ছেলে। পরবর্তী সময়ে আরেক নারীর আশায় তাকে ছেড়ে যান তার স্বামী। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত এক মানসিক হাসপাতালে মারা যান। পঁচিশ বছর বয়সে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে মারা যায় তার মেয়ে। অর্থ সংকটে ভুগে নিজের সহায়-সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। ঋণগ্রস্ত অবস্থায়ই মারা যান এভালিন।

এভালিনের বেঁচে থাকা সন্তানরা এ ডায়মন্ডটি হ্যারি উইনস্টন নামের এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেন। নয় বছর পর তিনি এ ডায়মন্ডটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে কিছু অর্থের বিনিময়ে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন। সেই ডায়মন্ড নিয়ে যাওয়া ডাকপিয়ন জেমস টড এক ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়েও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে কিছুদিন পরই বেচারার স্ত্রী ও পোষা কুকুরটি মারা যায়। আরেকটি দুর্ঘটনায় মাথাতে আঘাতও পেয়েছিলেন টড। আরেকবার তার বাড়িতেও আগুন ধরে গিয়েছিল। অবশেষে ১৯৫৮ সাল থেকে ডায়মন্ডটি স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামেই আছে। এরপর থেকে রত্নটিকে ঘিরে আর কোনো দুর্ঘটনার কথা শোনা যায়নি। 

এই নীল রত্নের মতো আরো কিছু হীরা রয়েছে যেগুলোও অভিশপ্ত বলে প্রচলিত-

 ব্ল্যাক অরলোভ ডায়মন্ড১.  ব্ল্যাক অরলোভ ডায়মন্ড 

পন্ডিচেরীতে অবস্থিত হিন্দু দেবতা ব্রহ্মার মূর্তির তিন চোখের ভেতরে এক চোখ খুলে নিয়ে আসা হয় অনেক আগে। আর সেই একটি চোখই হচ্ছে এই ব্ল্যাক অরলোভ ডায়ামন্ড। যাকে কিনা দ্যা আই অব ব্রহ্মা ডায়মন্ড বলেও ডাকা হয়। ১৯৩২ সালে আমেরিকায় রত্নটিকে নিয়ে আসেন জে.ডব্লিউ প্যারিস আর মারা যান কিছুদিনের ভেতরেই। এর পরবর্তী মালিক রাশিয়ার দুই রাজকন্যাও আত্মহ্যা করেন। তবে এরপর রত্নটির অভিশাপ কাটাতে একে ভেঙ্গে ফেলা হয় বেশ কয়েকটি টুকরোয়।

কোহিনুর হীরা পরেছেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ২. কোহিনুর হীরা

এই অত্যন্ত মূল্যবান হীরাটিকে লন্ডন টাওয়ারে মুকুটের বেশ বড় একটা জায়গা দখল করে বসে থাকতে দেখা যায়। ১৮৫০ সালে এটিকে ভারত থেকে নেয়া হয় এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারে দেয়া হয়। বর্তমানে রানী অ্যালিজাবেথের মুকুটে শোভা পেতে দেখা যায় এটিকে। তবে এতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ কোহিনুরের অভিশাপ কেবল পুরুষদের জন্যেই। আর তাই এখন পর্যন্ত যত পুরুষই এই রত্নকে ধারণ করেছেন, মারা গিয়েছেন অকালেই!

৩. দ্য লাইডিয়ান হোয়ার্ড

লাইডিয়ান হোয়ার্ড গহনাটি সোনার অনেকগুলো প্লেট, পট ও অন্যান্য জিনিসের সমন্বয়ে তৈরি। তবে গহনাটির ব্রুচ পিন ও নেকলেস এর মালিকদের জন্যে শুধু সমস্যা ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসেনি। প্রথমে এটি রাজা ক্রোয়েসাসের মালিকানায় ছিল। পরবর্তীতে সেটাকে হামলা করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাত দল ৫৪৭ বিসিতে। তবে এর আসল সমস্যা শুরু হয় ১৯৬৫ সালের মাঝামাঝিতে। অপরিচিত এক রাজকন্যার ঘরে পাওয়া যায়িউক্ত গহনা। যেখান থেকে তুলে আনা হয় রত্নটিকে। আর যারা এই কাজটি করে তাদের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে মারা যায়।

দ্য দিল্লী পার্পল স্যাপফায়ার৪. দ্য দিল্লী পার্পল স্যাপফায়ার

পিটার ট্রেন্ডি নামের এক ব্যক্তি ৩০ বছর আগে প্রথম এই রত্নটি খুঁজে পান। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে এটিকে দান করেন। সেই থেকে এটি একটি বাক্সে বন্দী ছিল। এর সামনে লিখে রাখা ছিল- যেই এটা খুলবে, প্রথমেই এই সতর্কবাণী পড়ে নেবেন। এরপর রত্নটির সঙ্গে যা খুশি তাই করতে পারবে। তার প্রতি আমার পরামর্শ এটাকে সমুদ্রে ফেলে দেয়ার। 

মনে করা হয় ১৮৫৭ সালে কনপুরের ইন্দ্র মন্দিরে সংঘর্ষের সময়কার রত্ন এটি। এই অভিশাপকে ইংল্যান্ডে এনেছিলেন কলোনেল ডব্লিউ. ফেরিস। যিনি খুব তাড়াতাড়িই দেউলিয়া হয়ে পড়েন। এরপর সেটাকে কিনে নেন অ্যাডওয়ার্ড হিরণ অ্যালেন। যিনি নিজের দুর্ভাগ্যের জন্যে দোষী মনে করে বন্ধুকে দিয়ে দেন রত্নটি। তার বন্ধু খুব দ্রুতই ফিরিয়ে দেয় সেটা অ্যাডওয়ার্ডকে যখন নিজের কন্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে অনেক চেস্টাতেও এই রত্নের পিছু ছাড়াতে পারেননি অ্যাডওয়ার্ড। অবশেষে একটা সময় মারা যান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস