Alexa হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ রেল যাত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ রেল যাত্রী

সাইফুল ইসলাম শান্ত ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৬ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

সংগৃহীত

সংগৃহীত

ট্রেনে তৃতীয় লিঙ্গ খ্যাত হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। প্রতিদিন দলবেঁধে কোনো না কোনো ট্রেনে উঠে চাঁদাবাজি করে তারা। এদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও মারমুখী আচরণে আতঙ্কিত ও বিব্রত যাত্রীরা বাধ্য হয় চাঁদা দিতে। অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠে হিজড়াদের জন্য টাকা আলাদা করে রাখেন। আর সঙ্গে নবজাতক থাকলে তো কথাই নেই। গুণতে হয় দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা। টাকা না দিলে অশালীন আচরণ এমনকি যাত্রীদের হেনস্তা করে হিজাড়া চক্রটি। ট্রেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতায় এ ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর রুটে নীলসাগর, একতা, দ্রুতযান, বরেন্দ্র, তিতুমীর, সীমান্ত, রূপসা ও দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস চলাচল করে। এর মধ্যে দোলনচাঁপা বাদে সাতটি আন্তনগর ট্রেন সীমান্তবর্তী হিলি স্টেশন হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করে। ওই সব ট্রেনে প্রতিদিন পার্বতীপুর, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট অঞ্চলের হিজড়ারা দলবেঁধে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদাবাজি করে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে হিজড়ারা। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে যাত্রীরা তখন চাহিদামতো টাকা দিয়ে হিজড়াদের বিদায় করতে বাধ্য হয়।

এদিকে পূর্বাঞ্চল রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-লাকসাম-নোয়াখালী-ময়মনসিংহ রুটের ২২টি আন্তঃনগর ট্রেন এ জংশনে থামে। এ সুযোগে হিজড়ারা দল বেঁধে ট্রেনে উঠে চাঁদাবাজি করে। টাকা দিতে না চাইলে কিংবা দেরি হলে যাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করে তারা।

নোয়াখালী থেকে আসা আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী ইশতিয়াক বলেন, আখাউড়া স্টেশন থেকে ভাতশালা স্টেশনে আসার পর একদল হিজড়া ট্রেনে উঠে উত্ত্যক্ত শুরু করে। প্রথমে টাকা দিতে চাইনি। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে ৫০ টাকা দিয়েছি।

আশরাফ আলী নামের অপর যাত্রী বলেন, কুমিল্লা স্টেশন থেকে একদল হিজড়া ট্রেনে উঠে বিরক্ত করতে থাকে। টাকা দিতে না চাওয়ায় তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। পরে ৩০ টাকা দিলে তারা চলে যায়। আবার আখাউড়া স্টেশন থেকে আরেকদল হিজড়া ট্রেনে উঠে চাঁদাবাজি শুরু করে। তাদেরও ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। এভাবে দেখছি ট্রেনের ভাড়া থেকে হিজড়াদেরই বেশি টাকা দেয়া লাগছে। তাহলে ট্রেনে উঠে লাভ কি? বাসেই যাওয়া ভালো।

ঢাকা থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে কুলাউড়া আসেন হাসান আলী নামে এক যাত্রী। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার পর এক গ্রুপ এসে টাকা চায়। ১০ টাকা দিয়ে ভাবলাম যন্ত্রণা বিদায় হলো, কিন্তু না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার পর আরেক গ্রুপ। এবার বিরক্ত হয়ে দিলাম আরো ১০ টাকা। কিন্তু ট্রেন শ্রীমঙ্গল ছাড়ার পর আরেক গ্রুপ এসে হাজির। টাকা দিতে না চাইলে সবার সামনে তার গাল চেপে ধরে এক হিজড়া। এবার বাধ্য হয়ে দিতে হলো আরো ১০ টাকা। কুলাউড়া স্টেশনে নেমে তিনি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। একই কথা জানালেন ট্রেনের অন্য যাত্রীরা।

ট্রেন যাত্রী শরিফুল ইসলাম জানান, যাত্রীরা টাকা দিতে বাধ্য। নয়তো হেনস্তা করে হিজড়ারা। তার পাশে এক দম্পতি নবজাতক নিয়ে সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গল ফিরছিলেন। তাদের কাছে হিজড়ারা ৫শ টাকা দাবি করে। কিন্তু তিনি প্রথমে ৫০ টাকা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কোনোমতে অন্য যাত্রীদের সহযোগিতায় ১০০ টাকা দিয়ে রক্ষা পান।

শুধু পারাবত নয় সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর সব ট্রেনেই এভাবে বেপরোয়া চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তৃতীয় লিঙ্গ খ্যাত হিজড়া। তাদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ট্রেন যাত্রীদের মতে, এসব হিজড়াদের উৎপাত ও চাঁদাবাজি থামাতে উদ্যোগ নিতে হবে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীকে। অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা এই চাঁদাবাজির ভাগ পায়। ফলে তারা যাত্রীদের নয় উল্টো হিজড়াদের নিরাপত্তায় বেশি ব্যস্ত থাকে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন যাত্রীরা।

আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ভিক্ষুক, হকার ও হিজড়াদের উৎপাত বন্ধ করতে রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকলেও সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতায় তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে হিজড়াদের উৎপাত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখাউড়া স্টেশনের এক হিজড়া বলেন, বেঁচে থাকার জন্যই আমাদের এসব কাজ করতে হয়। অশ্লীল আচরণ করলে যাত্রীরা ভয় পেয়ে টাকা দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস