Alexa হিজাব: একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ 

ঢাকা, শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হিজাব: একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ 

পর্ব-৪

হাশিম বিন আবদুল হামিদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৬ ২৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৮ ২৯ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দৃষ্টি সংযত রাখার মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ থাকে সুরক্ষিত: পদার্থ বিজ্ঞানে আলোর প্রতিফল (Refection of light) বলতে একটা ব্যাপার আছে। এর ক্রিয়া যে কত সূক্ষ্ন এবং অন্তর্ভেদী, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। মানব-দেহ হচ্ছে কতগুলো কোষ বা (Cell) এর সমন্বয়। মেয়েদের শরীরের কোষগুলো সাধারণত দুর্বল।

আরো পড়ুণ>>> হিজাব: একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পর্ব-৩

গর্ভধারণকালে এগুলো অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পুরুষ শরীরের প্রতিফল-ক্রিয়া রোধ করার ক্রিয়া শক্তি একেবারে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় পর-পুরুষের দৃষ্টি নিক্ষেপের ফলে প্রতিফলিত আলোক রশ্নিক গর্ভস্থ ভ্রণের গঠন (Configuration) বিকৃত করতে পারে। এ জন্যই কোনো কোনো সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ধার্মিক, চরিত্রবান-চরিত্রবতী হওয়া সত্বেও তাদের সন্তান বদ-ধার্মিক দুশ্চরিত্রবান কিংবা অন্য কোনো পুরুষের চেহারার মত হয়েছে। এটি হয়েছে প্রতিফলন ক্রিয়ার ফলে। এ জন্যই অনেকে তাদের মেয়েদেরকে গর্ভাবস্থায় পর পুরুষের নিকটে যেতে দেয় না। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা, পৃষ্ঠা-৮)। ফলে তাদের গর্ভস্থ ভ্রণ থাকে সুরক্ষিত।

৬ষ্ঠ পর্বের পর থেকে...

স্বর্ণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচা: স্বর্ণ একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। (Radio active element )। ১৯৬৩ সালে `International Atomic Energy Authority'তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলোর ক্ষতিকর দিক। (Toxicity) বিবেচনা করে, এগুলো চারটি ভাগে ভাগ করে। স্বর্ণ হচ্ছে এর তৃতীয় নম্বর। স্বর্ণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ হওয়ার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্নি বিকিরণ (Radiation) করে। এ কারণে নারী-পুরুষ যেই স্বর্ণ ব্যবহার করে, তার ওপর তেজস্ক্রিযতার প্রভাব পড়বে। তাই ইসলাম পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম করেছে। নারীদের জন্য জায়েজ করার একটা কারণ আছে। সেটি হচ্ছে: স্বর্ণ-ব্যবহারে পর্দাশীলা নারীদের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। বে-পর্দা নারীদের ক্ষতিকর আশঙ্কা বেশি। যে সব নারী ঘরের  বাইরে যায় না, গেলেও পুরোপুরি ঢেকে বের হন, তারা ভূত্বকে, কসমিক রশ্নি ও বায়ুমন্ডলের তেজস্ক্রিয়াতার প্রভাব থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকেন। তাই প্রাকৃতিক তেজস্কিয় বিকিরণ পর্দনশীল নারীদের তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা, পৃষ্ঠা-৯)।

সূর্যের বেগুনী রশ্মির (Ulta violet) প্রভাব থেকে বাঁচা: রসায়ন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শরীরের যে অংশ খোলা থাকে,সে অংশে‘মেলামিন’ নামক হরমোন বা প্রাণরস (যার কারণে মানুষ সাদা কিংবা কালো হয়) এর পরিমাণ বেড়ে যায়। কারণ ত্বকের নীচে অবস্থিত‘কোলেস্টরেল’নামক চর্বি যা সব ধরনের প্রাণিজ চর্বিতে কম-বেশি থাকে, তা সূর্যের বেগুনী রশ্মি (Ulta violet) দ্বারা ‘ভিটামিন ডি‘তে পরিণত হয়। ভিটামিন-ডি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই মেলামিনের কারণেই মানুষের শরীরের ত্বক
কালো ও ফর্সা হয়ে থাকে। ত্বকে মেলামিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের রং কালো হয়ে যায় এবং লাবণ্য যায় কমে। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা পৃষ্টা-১২)।

কিন্তু হিজাব করার মাধ্যমে মেয়েরা এর থেকে মুক্তি পায়।

হিজাব পরিধানে ক্যান্সারের ঝুকি কমায়: সূর্যের আলোতে বিদ্যমান বেগুনী (Ulta violet) রশ্নি প্রচন্ড গরমের সময় মেয়েদের নরম ত্বক ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। চর্ম ক্যান্সারের পূর্ব রোগ হচ্ছে ‍Solar Keratotis. সূর্যের আলো সরাসরি গায়ে লাগলেই এই রোগ হয়। অথচ শরীয়তের নিয়মানুযায়ী পর্দা করার মাধ্যমে কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকলে এ রশ্নিগুলো ত্বক ও দেহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পদৃদা পৃষ্টা-১৬)।

বেপর্দা থাকার কারণে শরীরের অনাবৃত অংশে সূর্যরশ্নির প্রভাবে ত্বক ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ইণ্ডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটির জয়েন্ট সেক্রেটারী জ্যোৎনা গোভিল এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, গ্রীষ্মে যারা খোলামেলা থাকে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয়রা, তারা এ কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি শুধু অন্ত্রের প্রদাহই সৃষ্টি করে না, সঙ্গে ত্বক ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। (সংক্ষিপ্ত পোশাক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়-আত-তাহরীক-১৪তমবর্ষ ৭ম সংখ্যা-এপ্রিল ২০১১ইং)।

তাই এ প্রেক্ষিতে নারীদের হিজাব পরিধান করা অবশ্যম্ভাবী।

মস্তিষ্কের সতেজতা: স্বাস্থ্যকে সুন্দরভাবে রক্ষার জন্য মাথা ঢেকে রাখা একান্ত জরুরি। বিখ্যাত মস্তিষ্কের গবেষক ভি.জি.রোসিন লক্ষ্য করেছেন-১০৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় মস্তিষ্কেরর ফসফরাস গলতে শুরু করে। মাথা আবরণবিহীন অবস্থায় প্রচণ্ড সূর্যতাপের মধ্যে একটা বিশেষ সময় পর্যন্ত থাকলে যেকোনো সময় এ উচ্চ তাপমাত্রায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। শুধু তাই নয় স্বরণশক্তি লোপ পেয়ে যাওয়ার ও ব্রেইনের কোনো কোনো অংশের কর্মপ্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। নেচার রোপাথ  ও কিরোগ্রাক্টর বার্নার্ড জেসন বলেন, এটি ঘটার কারণ হচ্ছে, খনিজ ফসফরাসের ওপর ব্রেইনের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া নির্ভর করে থাকে। ফসফরাস তাপের সংসর্গে অত্যন্ত সংবেদনাশীল হয়ে থাকে। সুতরাং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কথাটি বলতে হয় যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমাজ কর্মে  নিয়োজিত সকল কর্মীর উচিত তারা যেন মাথায় কোনো না কোনো ধরনের আবরণ ব্যবহার করেন। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা, পৃষ্টা-১৫)।

হিজাব বা বোরকা হচ্ছে নারীদের উত্তম পোশাক: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বোরকা বা হিজাব নারীদের জন্য সবচেয়ে উত্তম পোশাক। মেডিক্যাল টেষ্টে দেখা যায়, একজন নারী তার দেহের স্বভাবিক তাপমাত্রায় শতকরা ৮০-৬০ ভাগ মাথার মাধ্যমে  হারায়। অর্থাৎ-এ পরিমান তাপ মাথা দিয়ে বের হয়ে যায়। কাজেই সে যখন বোরকা পরিহিত থাকে তখন ওই তাপ শরীরে সঞ্চিত থাকে যা তাকে তার শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

আবার শীতের দিনে এ তাপ ধারণের ফলে তাকে অন্যদের তুলনায় (যারা বোরকা পরেনি) ৫% কষ্ট কম পেতে হয়। মেডিক্যাল টেষ্টে দেখা যায়, মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হলে দেহের ওপর ৪টি মৌলিক উপাদান যথা আগুন,পানি,বায়ু ও মাটির ব্যাপক মন্দ প্রভাব পরে যার ফলে নানা রকম শারীরিক সমস্য দেখা দিতে পারে। (ইভ টিজিং কারণ ও প্রতিকার, পৃষ্ঠা-১০০)।

উল্লেখিত আলোচনার ক্ষেত্রে বলতে হয়, নারীদের বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার জন্য তাদের বোরকা বা হিজাবই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পোশাক। 

আটসাঁট পোশাকের ক্ষতিকর প্রভাব: হাদিসে আটসাঁট পোশাকের প্রতি অনুৎসাহিত করে ঢিলেঢালা পোশাক পরিধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উসমাহ্ ইবনু যায়দ (রা) বলেন, দেহিয়া কালবী রাসূল (সা.)-কে যে সকল কাপড় উপহার দিয়েছিলেন সেগুলোর মধ্য থেকে একটা মোটা মিসরীয় কা‘বাতি কাপড় তিনি আমাকে উপহার দেন পরিধান করার জন্য। রাসূল (সা.)-আমাকে বলেন, কী ব্যাপার তুমি কা‘বাতি কাপড়টি পরিধান করনি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে প্রদান করেছি। তখন
তিনি বললেন, তুমি তাকে নির্দেশ দেবে, সে যেন কাপড়টির নিচে একটি (সেমিজ জাতীয়) আলাদা কাপড় পরিধান করে, কারণ আমি ভয় পাই যে, এ কাপড়টি তার হাড়ের আকৃতি বর্ণনা করবে। (আহমাদ, আল-মুসনাদ ৫/২০৬,হাসান)।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীগণ আটসাঁট ও সংর্কীণ পোশাকের অনেক ক্ষতিকর কথা উল্লেখ করেছেন, আঁটসাঁট পোশাকের কারণে মাংসপেশীতে অবস ও দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ, বাহিরের মাংসপেশীতে যেমন স্পন্দন হয়। এই কারণেই কোনো সূক্ষ্ন সূঁচ মাংসের ভেতর প্রবেশ করলে পরে হয়তো দেখা যাবে, তা এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলে গেছে। অর্থাৎ  দেহাভ্যন্তরের মাংসপেশীর স্পন্দনের কারণেই এইরুপ হয়। কিন্তু যারা নিয়মিত আঁটসাঁট পোশাক ব্যবহার করে, তাদের মাংসপেশীর স্বাভাবিক স্পন্দন বিঘ্নিত হয়ে পেশীর সঞ্চালন হ্রাস পায়। ফলে মাংসপেশীর খিঁচুনি এবং স্নায়ুর  চাপসহ আরো কতক সমস্য দেখা দিতে পারে। (সুন্নতের উপকারিতা বিজ্ঞানে আলোকে, পৃষ্ঠা-২২২)।

আর এর সঙ্গে আমাদের নারীদের ব্রা ব্যাবহারেও সতর্ক হওয়া উচিত। ক্যান্সার স্পেশালিস্ট ডাঃ খালেদা ওসমানী। লাহোরে জানিয়েছেন, আমার নিকট স্তন ক্যান্সারের অধিকাংশ রোগই এরুপ আসে। যাদের শুধু ব্রা ব্যবহারের কারণেই ক্যান্সার হয়েছে। (সুন্নতে রাসূল (সা.) ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা-২৬২-২৬৩)।

তাই শরীয়তে বর্ণিত নারীদের পোশাক অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। চলবে...

সংগ্রহে: প্রিয়ম হাসান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে