Exim Bank Ltd.
ঢাকা, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

হিজরি সনের ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
হিজরি সনের ইতিহাস
ফাইল ছবি

হিজরি সনের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর আদর্শ ও ঐতিহ্যের ভিত্তি সম্পৃক্ত।

হিজরি নববর্ষের শুরুর মাস হচ্ছে মহররম, যার অর্থ হচ্ছে অলঙ্ঘনীয় পবিত্র। এই মহররমের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। এই আশুরা সৃষ্টির আদিকাল থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নীরব সাক্ষী।

পৃথিবীব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামের পবিত্র দিনসমূহ উদযাপনের জন্য ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত বন্দেগি ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধ-এ এই বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে পালন করেন।

যার সঙ্গে জড়িত আছে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গমনের ঐতিহাসিক ঘটনা। প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) তাঁর জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করার ঘটনাকে ইসলামে ‘হিজরত’ আখ্যা দেয়া হয়।

মানুষ তাদের প্রয়োজনে, বিভিন্ন কাজের সুবিধার্থে দিন-তারিখ ঠিক রাখতে কোনো না কোনো বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণ তিনটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়। সেগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি ও হিজরি সন। এর মধ্যে হিজরি সনের সম্পর্ক চন্দ্রের সঙ্গে।

বিশ্বের প্রায় দেড়শ' কোটি মুসলমান এই সন ব্যবহার করে থাকেন। হিজরি সন প্রচলন হয় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের (রা.) খিলাফতকালে।

মুসলমানদের কাছে হিজরি সন গুরুত্ব হওয়ার কারণ হলো, মুসলিম বিশ্বে চাঁদের হিসাবে অনেক ইবাদত-বন্দেগি, আমল-অনুশাসন পালিত হওয়ায় হিজরি সনের পবিত্র মাহাত্ম্য ও প্রাচুর্য প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরজুড়ে সমানভাবে বিশেষ মর্যাদায় সমাসীন হয়েছে। হিজরি সনের মাসগুলো হলো- মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ।

হিজরি সনের প্রচলন:

প্রাচীনকাল থেকে আরব দেশে চাঁদের হিসাবে মাস গণনা করার রেওয়াজ চালু ছিল। মাসের গণনা আরবদের মাঝে থাকলেও সাল বা বর্ষ গণনার রীতি তাদের মধ্যে ছিল না। আরব দেশে প্রাচীনকালে ১২টি মাসের মধ্যে সফরে আউয়াল, রজব, জিলকদ, জিলহজ এই চারটি মাসকে বলা হতো আল মহররম অর্থাৎ অলঙ্ঘনীয় পবিত্র। এ চারটি মাসে সব ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মারামারি-খুনাখুনি থেকে তারা বিরত থাকত। পরবর্তীকালে আরবি মাসগুলোর প্রথম মাস সফরে আউয়ালকে মহররম নামকরণ করা হয়।

হিজরি সনের প্রবর্তন করেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। তিনি ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করে একে একে যেমন ইসলামের বিজয় পতাকা তদানীন্তন পৃথিবীর বৃহৎ এলাকাজুড়ে উড্ডীন করেন; তেমনি বহু সংস্কারমূলক কাজ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। হিজরি সন তার এক অমর কীর্তি। আর এই হিজরি সনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি।

হজরত ওমর (রা.) খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করে লক্ষ্য করলেন যে, সরকারি নথিপত্রে তারিখ লিখতে শুধু মাসের নাম লেখা হয়। ফলে বোঝা যায় না যে এই মাস কোন বছরের। আর নিজস্ব সাল না থাকার কারণে শুধু মাসের নাম উল্লেখ করা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ ছিল না। যথাযথভাবে তারিখ না লেখার কারণে বহু জটিলতা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রদেশের শাসনকর্তাদের কাছে পত্রাদি ও ফরমানাদিতে শুধু মাসের উল্লেখ থাকায় কোন বছরের মাস তা নির্ধারণ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে সাহাবি হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) কর্তৃক খলিফা ওমরের (রা.) দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একটি নিজস্ব সাল উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা ভীষণভাবে অনুধাবন করলেন। তিনি হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.)সহ বিশিষ্ট কয়েকজন সাহাবির কাছে নতুন সনের ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন। হজরত আলীর (রা.) পরামর্শে হিজরতের বছরকে নতুন সন গণনার শুরু ধরে হিজরি সন প্রবর্তিত হয়।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরত করেন ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল। হিজরতের ঘটনা রবিউল আউয়াল মাসে ঘটলেও আরবের প্রচলিত মাস গণনার প্রথম মাস সফরে আউয়াল বা মহররমের ১ তারিখকেই হিজরি সনের শুরু হিসেবে স্থির করে এই নতুন সনের প্রবর্তন ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশে হিজরি সনের প্রচলন:

৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক হিজরি সন প্রবর্তিত হওয়ার এক বছর পরই আরব বণিকদের আগমনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয়।

পরবর্তীতে ৫৯৮ হিজরি মোতাবেক ১২০৯ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গবিজয়ের মাধ্যমে বাংলার জমিনে মুসলিম শাসনের ইতিহাস সূচিত হয়।

এর ফলে হিজরি সন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভের মাধ্যমে জাতীয় সন গণনায় পরিণত হয়। সন গণনায় ৫৫০ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর থাকার পর ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের পরাজয়ের মধ্যমে হিজরি সনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবসান হয়।

প্রতিটি নতুন চন্দ্র গণনায় বরকতের দোয়া:

প্রতিটি নতুন হিজরীবর্ষ যেমন গোটা মুসলিম জাতিকে দ্বীনের জন্য ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিগত বছরে দ্বীনি কাজের হিসাব-নিকাষ এবং আগামী বছরের নতুন উদ্যমে দ্বীন ও ঈমানি কাজ আঞ্জামে ঈমানের মজবুতি গঠনেরও তাগিদ দেয়।

এ ধারবাহিকতা বজায় থাকে প্রতিটি নতুন চাঁদে নতুন মাসে। এ কারণেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে প্রতিটি নতুন চাঁদ দেখার সময় দোয়া পড়ার তাগিদ দিয়েছেন।

দোয়া: ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনিা বিলইউমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি এই চাঁদকে আমাদের সৌভাগ্য, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের জন্য ওঠান। আমার ও তোমার রব হলেন আল্লাহ।’ (মুসনাদে আহমদ)

মুসলিম উম্মাহর জন্য চন্দ্র মাসের হিসাব রাখা ফরজে কেফায়া। প্রিয়নবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত। যার অনুসরণ, অনুকরণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য পূন্যময় ও কল্যাণকর আমল।

আরো পড়ুন>>> বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার ৫ দোয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশের গাড়ি ভাঙায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
পুলিশের গাড়ি ভাঙায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল
নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
কাজলকে ‘জোর করে’ চুমু, ছিল অশ্লীল আচরণ!
কাজলকে ‘জোর করে’ চুমু, ছিল অশ্লীল আচরণ!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
যে তারকারা কিনেছেন বিএনপির মনোনয়ন ফরম
যে তারকারা কিনেছেন বিএনপির মনোনয়ন ফরম
শিরোনাম:
জনগণই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে: প্রধানমন্ত্রী জনগণই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে: প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন: ইইউ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন: ইইউ বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত