Alexa হিংস্র হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরচক্র

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

হিংস্র হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরচক্র

 প্রকাশিত: ১২:৫০ ২৩ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৩:১৬ ২৩ মার্চ ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দিন দিন হিংস্র হয়ে উঠছে মোটরসাইকেল চোরচক্র। এক সময় বাসাবাড়ির গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল চুরির সময় মানুষের উপস্থিতি আঁচ করতে পারলে পালাতো চোর। এখন এর ব্যাতিক্রম ঘটেছে। কেউ চুরিতে বাধা দিলে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে প্রশিক্ষিত চোরচক্র। রাজধানীর অন্তত ৫টি ফ্ল্যাটবাড়িতে গেলো একসপ্তাহের ব্যবধানে হানা দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে এই চক্রগুলো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত সপ্তাহে দারুস সালাম থানার টোলারবাগে ওমর ফারুক নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় এমন একটি চোরচক্র। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর, খিলগাঁও ও হাজারীবাগে মোটরসাইকেল চোরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন আরো ৬ নিরাপত্তাকর্মী।

একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে চললেও, হিংস্র এই চক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আগে রাস্তাঘাটে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারিরা আরোহীদের আঘাত করতো। বাসাবাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চুরির সময় হামলার ঘটনা ঘটতো না। আগে চোর কারও উপস্থিতি আঁচ করতে পারলে পালিয়ে যেতো। চুরি ও হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে এরা একই চক্রের চোর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এসব ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। গুরুত্বের সঙ্গে মোটরসাইকেল চুরি ও হামলার ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, ১৬ মার্চ ভোররাতে রাজধানীর মুগদার মানিকনগরের ৮২/৮৩ নম্বর নুর ফাতেমা ভবনে প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীসহ দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে ২টি মোটরসাইকেল নিয়ে পালায় চোরচক্র। ওই ঘটনায় আহত হন মো. মিজান ও আব্দুল গণি। ১০ তলা ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক রাসেল আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ফ্ল্যাটের মালিক রাসেল জানান, ভোর ৫টার দিকে ৩-৪ জন লোক ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের দেখে নিরাপত্তারক্ষী মিজান এগিয়ে গেলে, তারা তাকে চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। চিৎকার শুনে আব্দুল গণি এগিয়ে গেলে, তারা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তারা ভবনের নিচতলায় রাখা দুইটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ৯ মার্চ  শুক্রবার ভোর রাতে মিরপুর, খিলগাঁও এলাকায় দুটি বাসার গ্যারেজে ঢুকে মোটরসাইকেল চোরের দল। নিরাপত্তাকর্মীদের কুপিয়ে জখমের পর তারা দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।  মিরপুরের ২ নম্বর সেকশনের `ই` ব্লকের নোভা রহমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার সিকিউরিটি গার্ড অপু সরকার ও আনিসুর রহমানকে কুপিয়ে ১টি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় চোরচক্র।

এছাড়া খিলগাঁও থানাধীন উত্তর গোড়ানের ৬৬ নম্বর বাসার কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে তিন চোর। চোরেরা মনিরুজ্জামান মনির নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে ১টি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

১০ মার্চ ভোরে হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী মুরাদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় চোর শিবলিকে আটকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ওই দিন  ভোরে হাজারীবাগের বউবাজারের বালুর মাঠ এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাততলা ভবনে মোটরসাইকেল চুরি করতে যায় শিবলি। দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে মোটরসাইকেল চুরি করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী মুরাদ হোসেন তা দেখে ফেলেন। মুরাদ বাধা দিতে গেলে শিবলি তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় মুরাদ হোসেনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিবলিকে আটক করে পিটুনি দেয়। আহত মুরাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া জানান, শিবলি চিহ্নিত চোর। সে মাদকাসক্ত। গণপিটুনীর শিকার হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে চোরচক্রের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি তার কাছ থেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এলকে