Alexa হাড়িভাঙ্গা আমে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

হাড়িভাঙ্গা আমে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

 প্রকাশিত: ০৯:৪৯ ২৭ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝড়, শিলা বৃষ্টি আর বজ্রপাতের রংপুর অঞ্চলে আমের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমের অবস্থা করুণ।যে পরিমান মুকুল ধরেছিল সেই হারে ফলন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

কৃষি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তন, বিরূপ আবহাওয়া ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায়  দেখা গেছে, প্রতিটি গাছ  থেকে অসংখ্য আম ঝরে পড়ছে। অনেক গাছে আম নেই বললেই চলে।

আম চাষিরা জানিয়েছেন, সময়মত গাছের পরিচর্যা করেও তারা ফলন ধরে রাখতে পারেননি। আম চাষি খেদমত আলী জানিয়েছেন,  গাছের প্রতিটি ডালে মুকুলের সমারোহ ছিল।  সে হিসেবে গুটি কম।  যে কয়েকটি গুটি এসেছিল তার অধিকাংশ ঝরে পড়ছে।

রংপুর কৃষি বিভাগের কৃষি বিষেজ্ঞরা বলছেন, পদাগঞ্জ এলাকা খিয়ারী মাটি (লালমাটি) ও এখানে  বরেন্দ্র বিভাগের গভীর নলকূপ স্থাপন করায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে এসব এলাকার আমগাছগুলো মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারছে না। একারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে।

কৃষি বিভাগের মতে, অগভীর নলকূপ দিয়ে বোরো ধান ক্ষেতে পানি সেচ করা হলে তেমন  ক্ষতি হয়না। গভীর নলকূপ দিয়ে পানি সেচের কারণে পানির স্তর নেমে গেছে। এতে  হাড়িভাঙ্গা আমের গুটি ঝরে পড়ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপর অঞ্চলে বেশ কয়েকটি জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাড়িবাঙ্গা, রাজভোগ, বারি-৪, আম্র্রপালি, ল্যাঙ্গড়া, ফজলি, কপিল বাঙ্গরি  এসাক তেলি ইত্যাদি। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার উৎপাদন হয়ে থাকে সবচাইতে বেশি। এবার এ অঞ্চলে ৭৫৯১ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হচ্ছে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় হচ্ছে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে।  ছোট বড় প্রতিটি গাছে গড়ে এক মন করে আমের ফলন হয়ে থাকে।

হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয় রংপুর সদর, মিঠাপুকুর বদরগঞ্জ এলাকায়। এছাড়া অন্যান্য জাতের আম চাষ হয়, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, কাউনিয়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট, দিনাজপুর নীলফামারী বিরামপুর নবাবগঞ্জ, ফুলবাড়ি ও পাবর্তীপুরে।

রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ  অধিদফতরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তন, বিরূপ আবহাওয়া ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াকেই দায়ি করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ

Best Electronics
Best Electronics