Alexa হাসির মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালায় সোহেল

ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৬,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

হাসির মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালায় সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:২৫ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন র‌্যাব-৪ এর সিইও মোজাম্মেল হক

কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন র‌্যাব-৪ এর সিইও মোজাম্মেল হক

হাসির চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে। এরপর খাটের নীচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে ঘাতক সোহেল।

সোমবার দুপুরে র‍্যাবের কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাব-৪ এর সিইও মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় হাসির মাথা থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়ে ফ্লোর ভিজে যায়, রক্তাক্ত নিথর দেহ ফ্লোরে পড়ে থাকে। হাসির মৃত্যু নিশ্চিত জেনে সোহেল আলমারীর ড্রয়ার থেকে তিন ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

সাভার আমিন বাজারের চাঞ্চল্যকর হাসি আক্তার হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গতকাল রোববার কুমিল্লার ধর্মসাগর পার্কের সামনে থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। 

চাঞ্চল্যকর হাসি আক্তার হত্যা মামলার ছায়াতদন্ত করে জানা যায়, হাসি আক্তারের সঙ্গে ঘটনার ৪ মাস আগে মো. সোহেল রানার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবন ভালভাবে শুরু করার আগেই হাসির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোহেলসহ তার পরিবারের অন্যদের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তার উপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায় ভিকটিম নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ঘটনার দুই মাস আগে উভয় পক্ষের অভিভাবকের উপস্থিতিতে আসামি সোহেলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান।

এরপর হাসি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপরেও বেঁচে থাকার তাগিদে সে একটি এনজিওতে চাকরি নেয় এবং সাভার থানার আমিন বাজারের শিবপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। 

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সোহেল হাসিকে তার অফিসে যাওয়া আসার পথে এবং তার বাসায় গিয়া বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করাসহ টাকা দাবি করে। হাসি এসবে রাজি না হলে সোহেল তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আরো বেশি করে উত্যক্ত করতে থাকে এবং হুমকি দেয়।

এরপর থেকেই সোহেল হাসিকে হত্যার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের ১ মে অফিস বন্ধ থাকায় হাসি বাসাতেই ছিলেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮ টার সময় আসামি সোহেল তার বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে টাকা দাবি করে। এবার হাসি আক্তার সোহেলকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে সোহেল  এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুসি মারে। এতে হাসি চোখে ও মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।

পরে হাসির চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসে ফের মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং সবশেষে খাটের নীচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে। এতে রক্ত ক্ষরণে ফ্লোর ভিজে যায়। তার রক্তাক্ত নিথর দেহ ফ্লোরে পড়ে থাকে। হাসির মৃত্যু নিশ্চিত জেনে সোহেল আলমারির ড্রয়ার থেকে তিন ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

বাড়ির মালিক ভিকটিমকে রক্তাক্ত অজ্ঞান অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে ভর্তি করলে নিউরোলজি সায়েন্সের আইসিওতে লাইফ সাপোর্টে ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৭মে বিকেল ৪টায় মারা যান।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীকে আসামি সোহেল রানা ও তার পরিবার নানাভাবে হুমকি দেয়। এ মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পারিপার্শ্বিক অবস্থাসহ সার্বিক বিবেচনায় র‌্যাব-৪ মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাতক আসামি মো. সোহেল রানা (২৫) গত প্রায় ৫ মাস ধরে কুমিল্লা শহরে আত্মগোপনে আছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি  দল অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমআরকে/আরএইচ