হাসপাতাল নয় ফুলের বাগান

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

হাসপাতাল নয় ফুলের বাগান

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৩ ১৪ মার্চ ২০১৯  

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের মূল ফটক থেকে ছাদ পর্যন্ত ৮০০ টবে আছে ৪০ রকমের ফুলের গাছ। ফুলে-ফুলে সাজানো হয়েছে নীচতলা থেকে চতুর্থ তলার করিডোর। শোভ পাচ্ছে গোলাপ, গাঁদা, জবা, মালতী, চন্দ্র মল্লিকা, মোরগ ফুল, কসমস, ডালিয়া। সবমিলিয়ে হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে একটি ফুল বাগান। 

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, পুরাতন ভবনের পাশে চোখে পড়বে পুষ্টি উদ্যানের সাইনবোর্ড। খানিকটা সময় চোখ আটকে যাবে উদ্যানে। এ উদ্যানে আছে ১৩ রকমের সবজি। যার মধ্যে রয়েছে পাতাকপি, বেগুন, মুলা, শালগম, ফুলকপি, মরিচ, গাজর, আলু, সীম, লাউ, পেঁপে। নতুন ভবনের সামনে সাইকেল গ্যারেজের পাশ ঘেষেই আছে ভেষজ উদ্যান। লাগানো হয়েছে আঁদা, রসুন, পেঁয়াজ, ধনেপাতা, আকন্দ পাতা, তেজপাতা, ঘৃত কাঞ্চন, ওলট কম্বল ও ধুতরার গাছ।

নতুন ভবনের প্রবেশ মুখের বাম পাশেই আছে একটি লাইব্রেরি। তিনটি জাতীয় দৈনিক পাওয়া যায় এখানে। এছাড়াও আছে গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,অ্যানাটমি, ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি, সার্জারিসহ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জ্ঞান সমৃদ্ধ প্রায় ২৫০ বই। 

লাইব্রেরির তত্ত্ববধায়ক ডা. মর্তুজা আল মামুন বলেন, স্যার এবং নিজেদের সংগ্রহে কিছু বই লাইব্রেরিতে রেখেছি। আর কিছু বই নিজেদের টাকায় কিনেছি। এবারের বইমেলা থেকেও কিছু বই সংগ্রহ করা হয়েছে।  

নরমাল ডেলিভারি করা হয় এ স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারিয়া তাসমিন দিশা বলেন, ২০১৬ সালে ৭১ জন, ২০১৭ সালে নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে ১৪৯ জন প্রসূতি মায়ের।২০১৮ সালে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ৩২৯ জনের।চলতি বছরের ১ম মাসে এ যাবত ১৪জন প্রসূতি মায়ের নরমাল ডেলিভারি করা হয়। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবে  প্রসূতি মায়েদের উদ্বুদ্ধ করতে তারা চালিয়েছেন বিভিন্ন রকম প্রচার প্রচারণা। 

জগন্নাথপুর বাংলা বাজার থেকে আসা শিরিন আক্তার এর নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে। শিরিন বলেন, নরমাল ডেলিভারিতে বাড়ির আশেপাশের কয়েকজনের কথায় ভয় পেয়েছিলাম। অনেকে ক্লিনিকে সিজার করার পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী এবং ডাক্তার আমাকে সাহস দেয়। এরপর আমি নরমাল ডেলিভারি করাতে রাজি হই। এখন আমার ছেলে সন্তানসহ সুস্থ্ আছি।

ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে এন্টি ন্যাটাল কেয়ার। এখানে রাখা হয়েছে পুষ্টি ট্রে। যাতে রাখা হয়েছে নানান ধরনের সবজি ও ফলমূল। গর্ভবতী মায়েরা চেকআপে আসার সময় তাদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে ট্রেতে রাখা সবজি ও ফলমূলের পুষ্টি গুনাগুণ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয় এবং ফলোআপ গ্রহণ করা হয়। 

নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে টেলি মেডিসিন ও ভিডিও কনফারেন্সিং সেন্টার। প্রসূতি মায়েরা ছাড়াও এখানে রোগীরা আসে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। হাসপাতালে যে সব বিষয়ের সমাধান পাওয়া যায় না সেক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে টেলি মেডিসিন বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তারের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই বিভাগে কর্মরত সাপোর্টিং ইঞ্জিনিয়ার খাদিজাতুল কোবরা বলেন, সাধারণত স্কিন সমস্যা নিয়ে এখানে বেশি রোগী পাওয়া যায়। রেজিস্ট্রার খাতা দেখে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই টেলি মেডিসিন কর্নার থেকে ২ হাজার ৯৫৬ জন রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজমল হক বলেন, সহকর্মীরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে সহযোগিতা করছেন। ক্লিন হাসপাতাল ইনোভেটিভ থিউরি বাস্তবায়ন করবার চেষ্টা করেছি। অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় আমরা গ্রহণ করিনি। তবে এই ধরনের কাজে প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসবার আহবান জানান তিনি। 

দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন অফিসার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিবেশ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ আমরা পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশে যেকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মডেল ঘোষণা করা হবে তার মধ্যে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম থাকবে। খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ক্লিন হাসপাতাল ইনোভেটিভ থিউরির মধ্যে নিয়ে আসবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics