Alexa হাসপাতালটি অসুস্থ!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল

হাসপাতালটি অসুস্থ!

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ নানান প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার ও জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চলছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। 

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, শিশু বিভাগ, অর্থপেডিক ও গাইনি বিভাগে ডাক্তার নেই। এখনো চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ৬৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২১টি পদ খালি। 

নৈকট্য ও যোগাযোগ সুবিধায় মেঘনা নদীর পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে শরীয়তপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষীপুর জেলার অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা নিতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আসেন। প্রতিদিন প্রায় চার শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৯০০-১২০০ রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে এক বছরের বেশি সময় ধরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের ডিজিজাল এক্স-রে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রেডিওলোজিস্ট সনোগ্রাফী চিকিৎসক সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি। সরকারি নিদিষ্ট খরচে হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে না পেরে অধিক খরচ দিয়েই বাধ্য হয়ে বাহিরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিকগুলোতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাচ্ছেন রোগীরা। এর জন্যও রোগীদের ওই পরীক্ষাটি করাতে হাসপাতাল থেকে অন্যস্থানে আসা যাওয়ায় অনেক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

হাসপাতালে মাসুদ নামের এক রোগী জানান, টিকিট কেটে দেড় ঘন্টার মত অপেক্ষা করেও ডাক্তারের দেখা পাচ্ছি না। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য ডাক্তারকে দেখাতে হয়েছে। সেখানে আমাকে কয়েকটি টেস্ট করতে দেয়। এর মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগে কেউ না থাকায় আমাকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোগান্তি নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যদিয়েও শতভাগ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডাক্তার থাকার কথা সেখানে কিছু পদ খালি রয়েছে। এছাড়া ইমারজেন্সিতে মাত্র তিনজন কাজ করছে। যেখানে কমপক্ষে ১৫ জন দরকার। অপরদিকে মাস্টার রুলে সব মিলিয়ে দেড়শ জনের মত লোকবল প্রয়োজন। এসব স্থানগুলো পূরণ হলে এখানে চিকিৎসা সারাদেশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে জুলাই মাস পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৫৬৭টি অর্থপেডিক সার্জারি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩১টি মেজর সার্জারি। 

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এখানে বিদ্যমান লোক দিয়েই কিন্তু আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। সংকট আর বিভিন্ন প্রতিক‚লতার মধ্যেও আমাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হয়।

তিনি আরো বলেন, আলট্রাসনোগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা রেডিওলোজিস্ট সনোগ্রাফী বিশেষজ্ঞ পদোন্নতি পেয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। তিনি বিদায় নেবার পর পরই আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবরে পত্র প্রদান করেছি। কর্তৃপক্ষ এ পদে চিকিৎসক নিয়োগ না দেয়ায় এখন পর্যন্ত এ বিভাগটি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে চাঁদপুরসহ ৪০ জেলায় জটিলতার কারণে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে। তবে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ খুব সহসাই শুরু হওয়ার কথা জানালেন এ কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস