Alexa হাসপাতালওয়ালাদের বিবেক নেই, লজ্জাও কি নেই?

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

হাসপাতালওয়ালাদের বিবেক নেই, লজ্জাও কি নেই?

 প্রকাশিত: ১৯:৪৬ ১৯ অক্টোবর ২০১৭   আপডেট: ১৯:৩২ ২০ অক্টোবর ২০১৭

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা। রাজধানীর আজিমপুর ‘মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান’ এর সামনে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন পারভিন নামের এক নারী। পরে সেখানে রাস্তায় ওপর সন্তান প্রসব করেন তিনি। কিন্তু সেই সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি আমাদের দেশ।

সোমবার রাত ৩টার দিকে তার ব্যথা শুরু হয়। এ সময় তিনি সোহেল নামের এক ব্যক্তির হাত-পা ধরে কেঁদে ফেলেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান সোহেল। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে বলেন, তার স্বাভাবিক ডেলিভারি হবে। চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা আবার পরীক্ষা করে জানান, পারভিনের সিজার করাতে হবে। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাদের ওখানের (ঢামেক) চেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক রয়েছেন। তারা ডেলিভারি রোগীর ভালো চিকিৎসা প্রদান করেন। এসব বলে তারা পারভিনকে মিটফোর্ডে প্রেরণ করে।

ভোর ৫টার দিকে পারভিনকে মিটফোর্ডে নেওয়ার পর তারাও পরীক্ষা করে বলেন, সিজারে বাচ্চা হবে। কিন্তু তাদের ওখানে ভালো হবে না। তারা পারভিনকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে বলেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৮টার দিকে মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যান পারভিন। কিন্তু সেখানে তার নামে কার্ড কিংবা রেজিস্ট্রেশন না থাকায় তারা পারভিনকে ভর্তি নেবে না বলে জানান। পারভিন আর টিকতে পারছে না, যেকোনো মুহূর্তে সন্তান প্রসব হয়ে যাবে বলে তাদের অনুরোধ করলে তাকে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে নিয়ে যায়। তখন লেবার রুমে কনসালট্যান্ট ডা: নিলুফা দায়িত্বরত ছিলেন। সেখানেও তার জায়গা হয়নি।

লেবার রুমে নেয়ার পর এক নারী চিকিৎসক এসে তাদের বলেন, এর (পারভিন) তো সিজার করতে হবে। ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগবে। তোমাদের কাছে কত টাকা আছে? তখন পারভিন ও সোহেল তাদের কাছে টাকা নেই বলে জানালে তাৎক্ষণাৎ ওই চিকিৎসক চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের পোশাক পরিহিত এক আয়া এসে পারভিনের হাত ধরে নিচে নামিয়ে দিতে টানাহেঁচড়া করতে থাকেন। তিনি বলেন, আপনার চিকিৎসা এখানে হবে না, আপনি অন্য হাসপাতালে যান। না হয় ঢামেকে যান, আমরা ফোন করে দিচ্ছি। এই বলে আয়া তাকে টেনে নিচতলায় আনেন। তখন পারভিনের ব্যথা আরো বেড়ে যায়।

অবশেষে রাস্তায় সন্তান প্রসব করতে হয়। কিন্তু সেই সন্তানটি বাঁচে নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই