ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

হালাল পণ্য রফতানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা: বিডা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৮:১৭ ৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:১৭ ৯ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ ভাগই মুসলমান। ফলে হালাল পণ্য উৎপাদান ও রফতানিতে আমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে হালাল বিষয়টি খাদ্য পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের সঙ্গেও জড়িত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “হালাল সনদের মানদণ্ড এবং প্রতিবন্ধকতা: বাংলাদেশের সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনার একথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ আল-মেহেরি। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি, রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং আরো অধিক হারে জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে হালাল পণ্যের উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই সঙ্গে  হালাল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

বিডা’র চেয়ারম্যান আরো বলেন, হালাল খাদ্য মানুষের জীবন ধারণের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। যা কিনা মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও গ্রহণ করে। এর ফলে এ ধরনের পণ্যের সম্ভাবনা পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে। 

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, প্রাইসওয়াটার হাউস কুপারস বাংলাদেশ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ২৮তম এবং ২০৫০ সালে ২৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার পূর্বভাস প্রদান করেছে।    

অনুষ্ঠানে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ সাইদ বলেন, মুসলিম প্রধান দেশগুলোর পাশাপাশি অমুসলিম জনবহুল দেশগুলোতে হালাল পণ্যের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে হালাল পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে। 

তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি মার্কেট রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সারা পৃথিবীতে হালাল পণ্যের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে এটি প্রায় ১০.৫১ ট্রিলিয়নে এসে দাঁড়াবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশে শুধুমাত্র মাংস রফতানি করছে উল্লেখ করে গো-খাদ্যে যেন কোনভাবেই ক্ষতিকারক রাসায়নিক অথবা ঔষধ ব্যবহার কার না হয় সেদিকে আরো যত্নবান হতে হবে।

সাইদ মোহাম্মদ সাইদ আরো জানান, তার দেশ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে  প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরো বেশি হারে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। 

সেমিনারে দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠা আরএসিএস কোয়ালিটি সার্টিফিকেটস ইস্যুয়িং সার্ভিসেস এলএলসি-এর বিক্রয় ও বিপনন বিভাগের প্রধান ওসামা ইমাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ, সাবেক পরিচালক এম বশির উদ্দিন ভূইয়্যা, মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এমআরকে