Alexa হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র

 প্রকাশিত: ১৭:১৬ ২২ ডিসেম্বর ২০১৭  

আগের দিনের মতো আর দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্রের তেমন চাহিদা নেই। যুগ পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় সংস্কৃতি ঢাক, ঢোল, কর তাল, তবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বাদ্যযন্ত্র।

আগের দিনের মতো আর দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্রের তেমন চাহিদা নেই। যুগ পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় সংস্কৃতি ঢাক, ঢোল, কর তাল, তবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বাদ্যযন্ত্র।

সংস্কৃতিতে আগের মত আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তেমন চাহিদা নেই। হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় ঢাক, ঢোল, কর তাল, তবলা। তবে অনেক কষ্ট করে বাপ-দাদার পেশা হাল ধরে রেখেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ী গ্রামের স্বপন দাস।

তিনি জানান, জন্মের পর থেকে বাবা ঠাকুর দাসের কাছ থেকে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করতে শেখেন তারা। পরে এসব তৈরি করতে শিখিয়েছেন তিনি। এক সময় দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাল দিতে না পেরে তাদের মূল ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

প্রথমে বাপ-দাদরাই ঢাক-ঢোল, করকা, খোল, তবলা, একতারা, খমর, দোতারা, ঢোলোকসহ সাইড ড্রাম তৈরি ও মেরামতের কাজ শরু করেন। বাবার বয়স বাড়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছেন স্বপন দাস। বাবা কিছুদিন হলো মারা গেছেন। এর পর পুরো দায়িত্বটাই তাকে নিতে হয়েছে।

ফুলবাড়ী বাজারের ননী গোপাল মোড়ে ছোট্র একটি রুম ভাড়া নিয়ে বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামত করেন স্বপন।

তিনি আরো জানান, এ কাজ করে সংসারের ভরণ-পোষণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বছরে তিন মাস আশ্বিন, কার্ত্তিক, অগ্রাহায়ণ মাস কাজের চাপ থাকলেও বাকি মাসগুলোতে তেমন কোন ব্যবসা হয় না।

এই তিন মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় অষ্টপ্রহরসহ প্রতি বাড়ীতে ও মন্দিরে হরিনাম কীর্তন করে বেড়ায়। এরাই মূলত দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্রের ক্রেতা। এ ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ কেউ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন কিছু কিছু বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামত করিয়ে থাকেন।

স্বপন জানান, প্রতিটি নতুনখোল ২৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। তবলা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, সাইড ড্রাম ৪ হাজার টাকা, দোতারা ৪ হাজার টাকা, জিপাসি তৈরিতে ৮শত টাকা এবং গোপি যন্ত্র(খমক) ৬শ’দামে বিক্রি হয়। তিনি জানান, খোল, সাইড ড্রাম, দোতারা তৈরিতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন। অন্যন্যা বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন। এসব তৈরি করতে যে মালামাল লাগে তা অনেক দামে কিনতে হয়। ফলে এখন আর পুষিয়ে উঠা সম্ভব হয় না।

বছরের তিন মাসে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতাদের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয় স্বপনের। বাকি নয় মাস উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লীলা কীর্তন, বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাদক(শিল্পী) হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ হয় তার।

ফুলবাড়ীতে বাদ্যযন্ত্র বিক্রেতা দাস মিউজিক্যাল-এর কর্নধার কন্ঠ শিল্পী প্রবীর কুমার দাস জানান, গীটার, প্যাড ড্রাম, কি-বোর্ড দিয়ে আগেকার গানগুলোর সঙ্গে তাল মিলেনা। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ও বিক্রয় করছি। সে কারনেও দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। এখনকার ছেলে/মেয়েদের প্রথম পছন্দ গীটার, কি-বোর্ডসহ আধুনিক বাদ্যযন্ত্র।

এ ব্যাপারে রংপুর বেতার কন্ঠ শিল্পী খালিদ হাসান বকুল জানান, ২৫ বছর ধরে এ পেশায় রয়েছি, বর্তমানে পশ্চিমা সাংস্কৃতির ছোঁয়া এবং তাদের গান মানুষ বেশি পছন্দ করে। সে কারণে দর্শক-শ্রোতার মন যোগাতে পশ্চিমাদের এসব গান আমাদেরও গাইতে হয়। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। ফলে তা আর তৈরি ও ব্যবহারে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায় না। নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে আমাদের মানসিকতা অত্যন্ত জরুরী। তা না হলে একদিন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢাক-ঢোল, তবলা, একতারা, দো-তারা, বিলীন হয়ে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে