Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

হারিয়ে গেছে চন্দনা

 করিম ইসহাক, রাজবাড়ী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

১৯৯ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালূখালী উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত চন্দনা নদীতে এখন মাছের পরিবর্তে ধানের চাষ করছে কৃষকরা। জেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার জুড়ে চন্দনা নদীর বুকে স্থানীয় কৃষকরা ধান চাষ করছে। কোন কোন স্থানে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতেও দেখা গেছে।

লাগামহীন দখলের ফলে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় ভরা বর্ষা মৌসুমেও চন্দনায় পানি থাকে না। যে নদীতে এক সময় বড় বড় লঞ্চ, ইস্টিমার, পালতোলা পানশি নৌকা চলতো সেই নদীতে এখন ডিঙ্গী নৌকা চলার মতো পানিও থাকে না।

জানা যায়, চন্দনা নদীটি রাজবাড়ীসহ ২টি জেলার ৬-৭টি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গোপালঞ্জ জেলার কুমার নদীর সঙ্গে শিলিত হয়েছে। এ নদীর পানির উপর নির্ভর করে এক সময়ে প্রায় দেড় লাখ একর জমিতে সেচের আওতায় উচ্চ ফলনশীল ধান, গম, আখ, পাটসহ নানা রকমের সবজি উৎপাদন করা হতো।

বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার মধ্যে দিয়ে চন্দনা নদী দিয়ে এক সময় ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতো। এ নদীতে এলাকার মৎস্যজীবিরা প্রচুর মাছ আহরন করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন পানি না থাকায় নদীর মধ্যেই ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ শুরু হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া, গোবিন্দপুর, নারায়ণপুর, নবাবপুর পদমদী, বাড়াদীসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর মধ্যে ইরি ধান চাষ করতে দেখা গেছে। নদীর জমিতে মাটি পলি হওয়ায় ফলনও বেশি পাচ্ছে কৃষকরা।

বালিয়াকান্দি উপজেলার বাড়াদী গ্রামের মো. সেলিম শেখ, সমির উদ্দিন, সোনাই মণ্ডল, আনোয়ার হোসেন জানান, চন্দনা তো এখন মরা খাল। বর্ষার সময় একটু পানি থাকে আর অন্য সময়ে এই নদী শুকিয়ে চৌচির হয়ে থাকে। যাদের বাড়ি চন্দনার পাড়ে তারা ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে।

কালূখালী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো. গনি মিয়া বলেন, এক সময় এই চন্দনায় বড় বড় নৌকা চলতো। ব্যবসায়ীরা নদীর বুক দিয়ে দেশ বিদেশে যেত। চন্দনার যৌবন আজ আর নেই। বিভিন্ন এলাকায় দখলদারা নদীর পাড়ে কেউ পুকুর, কেউ বাড়ি আবার কেউ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নদীর স্রোত বাধাগ্রস্ত ও সরু খালে পরিণত করেছে।

দু’একজন মুরব্বির মুখ থেকে শোনা যায়, চন্দনা নদীটি পাংশা উপজেলার গৌতমপুরে পদ্মার মুখ থেকে উৎপত্তি হয়ে চন্দনা নাম ধারণ করেছে। এ নদীটি এক সময় প্রবল খরস্রোতা ছিল। তখন এ নদী দিয়ে বড় বড় পানশি নৌকা, পাল তোলা নৌকা চলতো। আজ সেই নদীটির বুক শুকিয়ে হাহাকার করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান চন্দনা-বারাশিয়া  প্রকল্প চালু করেছিলেন। যে প্রকল্প থেকে নদী পাড়ের কৃষকরা সারাবছর পানি পাবে আর সেই পানি দিয়ে নদী পাড়ের জমি চাষাবাদ হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার বাবার স্বপ্নের বারাশিয়া প্রকল্পটি চালু করে ২০১৫ -১৬ অর্থ বছরে চন্দনা নদী খনন করেছেন। তবে অবৈধ দখলদারদের কারণে আজ সেটিও  কাজে আসছে না।

চন্দনা নদীর এপাশ ওপাশের আয়তন ছিল ২০০ ফুট। বর্তমানে এর আয়োতন মাত্র ৪০-৫০ ফিট।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর সহকারী প্রকৌশলী নুরুন্নবী জানান, চন্দনা নদীটির দুই পাড় স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে কিছু বাড়ি ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। তাদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে খুব তাড়তাড়ি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজা জানান, চন্দনা নদীর বিভিন্ন অংশ প্রভাবশালীরা দখল করেছে এবং দখল করার চেষ্টা করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চন্দনা নদীর ম্যাপ, জমির সীমানা নির্ধারন কাজ শুরুহয়েছে। এ নদী আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে। চন্দনা নদীকে দখলমুক্ত করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

সর্বাধিক পঠিত