হাবিপ্রবিতে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আশার আলো ‘ভালোবাসার উপহার’

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

হাবিপ্রবিতে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আশার আলো ‘ভালোবাসার উপহার’

মিরাজুল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ৯ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৭:২৬ ৯ এপ্রিল ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সমাজে নিম্নশ্রেণির মানুষের দুর্যোগের দিনগুলো সত্যিই ভয়াবহ। হাবিপ্রবির অনেক শিক্ষার্থী আছেন যাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেই থেকেই ভেবেছিলাম কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়। এই ভাবনা থেকেই ফেসবুকে একটি গ্রুপ চালু করেছি। নাম দিয়েছি ‘করোনা মোকাবিলায় হাবিপ্রবিয়ানের পাশে হাবিপ্রবিয়ান’।

কথাগুলো শহিদুল ইসলাম ফাহিমের। তিনি পড়ছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)।

‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই মূল মন্ত্রকে ধারণ করে গ্রুপটি খোলার উদ্দেশ্য ছিল একটি সেঁতুবন্ধন করে দেয়া সবার সঙ্গে। যেখানে জানা যাবে একে-অপরের সমস্যাগুলো। আমাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী সমস্যার কথা জানালে নাম পরিচয় গোপন রেখে তাকে সহায়তার জন্য সবাইকে বলে দিবো। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা হয়েছে।

গত ৭ (মঙ্গলবার) তিনি ফেসবুকে এই গ্রুপ চালু করেন। গ্রুপের মাধ্যমেই শুরু হয় হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অস্বচ্ছল পরিবারকে সহায়তা করার কাজ।

ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম ফাহিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এই সহায়তার নাম দেয়া হয়েছে ‘ভালোবাসার উপহার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে ভালোবাসার উপহার পাঠিয়েছেন এরইমধ্যে।

ফাহিম আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসা দরকার। কারণ তারা কারো কাছে গিয়ে হাত পাততে পারে না লজ্জায়। এখন পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী সাহায্য চেয়েছেন আমাদের কাছে। আমরা চেষ্টা করে যাব, আগামীতে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে। সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছেও আমি অনুরোধ করবো, তারা যেন নিজ নিজ স্থান থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এ শ্রেণির মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

ফাহিমের হাতধরে হাবিপ্রবিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘এইচএসটিইউ মজার ইস্কুল’। যেখানে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। এছাড়া নানারকম সেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ফাহিম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম