হাতে ঝুড়ি নিয়ে পাথর বনে দাঁড়িয়ে আছে এক পাথুরে নারী!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191716 LIMIT 1

ঢাকা, সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

প্রকৃতির অপার বিষ্ময়!

হাতে ঝুড়ি নিয়ে পাথর বনে দাঁড়িয়ে আছে এক পাথুরে নারী!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৮ ৩ জুলাই ২০২০

ছবি: অদ্ভূত মানব আকৃতির পাথর রয়েছে এই বনে

ছবি: অদ্ভূত মানব আকৃতির পাথর রয়েছে এই বনে

ফরেস্ট অর্থ বন তা আমরা সবাই জানি। তবে বন বলতে আমরা সাধারণত গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ একটি স্থানকে বুঝি। তবে কখনো কি শুনেছেন স্টোন ফরেস্টের কথা? এই বনে কোনো গাছ নেই শুধু রয়েছে পাথর। 

চীনের উত্তর পশ্চিমে ইউনন প্রদেশ অবস্থিত। চির বসন্তের শহর কুনমিং ইউনন প্রদেশের রাজধানী। কুনমিং শহরের প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত শিলিন শহর। এই শিলিন শহরেই অবস্থিত প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়, তা হলো স্টোন ফরেস্ট। চীনা ভাষায় শি অর্থ পাথর আর লিন অর্থ বন। 

পাথরের বনশিলিনের পাথুরে বনে অসংখ্য গগনস্পর্শী বিশাল আকারের পাথরের দেখা মেলে। ফরেস্ট নাম হলেও গাছের সংখ্যা এখানে খুবই কম। প্রায় পুরো স্থান জুড়েই রয়েছে পাথর। সে কারণেই এটি স্টোন ফরেস্ট বা পাথুরে বন হিসেবেই পরিচিত। স্টোন ফরেস্টের চারদিকে পাথরের সব দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য চোখে পড়ে। 

স্টোন ফরেস্টের এই পর্বত অঞ্চলটি হিমালয় পর্বতমালার একটি অংশ। ছোট বড় অসংখ্য পাথরের স্তম্ভ যেন জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে এখানে। চীন ১৯৩১ সালে এই অঞ্চলটি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করে। ইউনেস্কো ২০০৭ সালে শিলিনের এই স্টোন ফরেস্টকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

বর্ষাকালে পাথরের রং গাঢ় খয়েরি হয়ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, স্টোন ফরেস্টের বর্তমান অবস্থা সৃষ্টি হতে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন বছর সময় লেগেছে। সাগর তলে লাখো বছর ধরে লাইমস্টোন জমা হয়েছিল। এরপর বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এই অঞ্চলের সাগর শুকিয়ে যেতে থাকে। ভূ-তত্ত্ববিদদের ধারণা, কোনো ভূমিকম্পের ফলেই এই অঞ্চলের সাগর শুকিয়েছিল। তারপরই প্রকৃতির বৈচিত্রময় লাইমস্টোনের পাহাড় দৃশ্যমান হয়। 

তবে এখনো স্টোন ফরেস্টের পাথরের স্তম্ভগুলোতে বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক ফসিল জমে আছে। পাথুরে বন সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে ভূ-তত্ত্ববিদরা যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করলেও স্থানীয়দের মধ্যে একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে। এই কাহিনিটি গড়ে উঠেছে, এই অঞ্চলের একটি মেয়েকে নিয়ে। 

এটাকেই আসিমার পাথর বলে বিবেচনা করা হয়!তারা বিশ্বাস করে, বহু বছর পূর্বে সেখানে আসিমা নামের একজন মেয়ে বসবাস করত। সে সুন্দরী এবং গুণবতী ছিল। ‘সানি’ বা ‘উই’ উপজাতি সম্প্রদায়ের মেয়ে ছিলে আসিমা। তার রূপ এবং সৌন্দর্যে সম্প্রদায়ের সবাই মুগ্ধ ছিল। ঘটনাক্রমে তার সঙ্গে দেখা হয় পাশের রাজ্যের এক যুবকের। 

তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই যুবক আসিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে ভালবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্নের দ্বার প্রান্তে চলে যায়। তবে বিধি বাম। সমাজ, রীতিনীতি তাদের বিয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। 

বনের উপরের দৃশ্যলোককাহিনী অনুযায়ী, কষ্ট সহ্য না করতে পেরে একসময় তারা পাথরে পরিণত হয়। তার কষ্টের সঙ্গী হতে চারপাশে অসংখ্য পাথরের সৃষ্টি হয়। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এভাবেই স্টোন ফরেস্ট গড়ে উঠেছে। এই লোককাহিনী হয়তো বিজ্ঞান মনস্ক কেউ বিশ্বাস করবে না। 

তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, স্টোন ফরেস্টে একটি অদ্ভুত পাথরের স্তম্ভ আছে। এটি দেখলে মনে হয়, মাথায় স্কার্ফ বাঁধা একজন তরুণী হাতে ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই পাথরটির নাম আসিমা। প্রতি বছর উই উপজাতির মেয়েরা এই পাথরের স্তম্ভের নিকট বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত এই লোককাহিনীর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। 

পাথরের বনে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকেভূ-তত্ত্ববিদরা অনেক গবেষণা করেছেন, এই পাথুরে বনের বিষয়ে। সাগরতলেই কোটি কোটি বছর আগে চুনা পাথরের স্তম্ভ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সাগর শুকিয়ে পাথুরে বনের রূপ ধারণ করে এখানকার অনেক পাথরের স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪০ মিটার। 

স্বাভাবিক অবস্থায় পাথরগুলোর রং অনেকটা ধূসর। তবে বৃষ্টির পানিতে ভিজলে কালো খয়েরি রং ধারন করে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য পাথুরে বন দেখতে চীনের উইনন প্রদেশে হাজারো পর্যটক ভিড় জমায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস