Alexa হাতের চিকিৎসায় রোগীর ঘাড় মটকালেন চিকিৎসক!

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হাতের চিকিৎসায় রোগীর ঘাড় মটকালেন চিকিৎসক!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২২ ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৪:০২ ৬ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপিতে আফরোজা বেগম নামে এক নারীর হাতের ব্যথার চিকিৎসায় তার ঘাড় মটকে দিয়েছেন এক চিকিৎসক।ঘাড় ও গলায় আঘাত পেয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ওই নারী।

মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী ওই নারী পাটগ্রামের ইউএনও ও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

আফরোজা বেগম পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপির নবীনগর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এন্তাজ উদ্দিনের মেয়ে।

রংপুরের পাগলাপীর এলাকায় ওই চিকিসৎকের খোঁজ নিতে চাইলে তার সহকারী আরিফ মিয়া জানান, স্যার বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন।

রোগী আফরোজা বেগম বলেন, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা বাজারে চিকিৎসক আবু সাঈদের কাছে হাত ব্যথার চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি চিকিৎসা দেয়ার পর রংপুরের পাগলাপীরের এক চিকিৎসকের কথা বলেন। 

আবু সাঈদ আমাকে বলেন, ওই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলে আপনি সুস্থ হবেন। 

গত ১০ অক্টোবরে রংপুর পাগলাপীরের হেল্থ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়নের কাছে তিন হাজার টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি সব শুনে প্রথমে আমার গলা ও ঘাড় মটকাতে শুরু করেন। এর পর আমি গলা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পাই। বাড়ি ফেরার পর গলায় ভীষণ ব্যথা শুরু হয়। এর পর দিনে দিনে গলা ফুলে যেতে শুরু করে। পরে ওই চিকিৎসক এ কথা শুনে বিভিন্নভাবে টালবাহানা শুরু করে। আর বলেন আপনি গলার ডাক্তারকে দেখান আমি এটা ঠিক করতে পারব না। 

তাদের ভুল চিকিৎসায় গলা ফুলে গেলে আমি নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করি। আমি ভুয়া ডাক্তারের বিচার চাই। আমাকে সুস্থ করে দিন। হাতে টাকা পয়সা না থাকায় চিকিৎসা নিতে পারছি না।

বাউরা বাজারের ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসক আবু সাঈদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার পরামর্শে তিনি সেখানে গিয়েছেন। তবে ভুল চিকিৎসার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

রংপুরে পাগলাপীর এলাকার হেল্থ কেয়ারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়ন বলেন, এটাই আমার চিকিৎসার পদ্ধতি। আমি ভুল চিকিৎসা প্রদান করিনি।

এ বিষয়ে পাটগ্রামের ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি যেহেতু জেলার বাইরে তাই লালমনিরহাটের ডিসির কাছে একটি অভিযোগ করতে বলেছি। 

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, অভিযোগের বিষয় আমি জেনেছি। অভিযোগটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ