Alexa হাতিয়ায় সবুজের সমারোহ

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

হাতিয়ায় সবুজের সমারোহ

 প্রকাশিত: ১৮:০৬ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ০৮:৪৯ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জেগে উঠা নতুন চরগুলোতে শিম চাষে ভাগ্য বদলেছে কৃষকদের। এক সময়ের পতিত ওই জমিগুলো চলতি মৌসুমে সবুজের সমারোহে শিমের বেগুনী আর সাদা ফুলে ভরে উঠেছে।

গত পাঁচ বছর যাবৎ ওই পতিত জমিগুলোতে শিম চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে শিম চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন এ অঞ্চলের শত শত কৃষক।

চলতি মৌসুমে উপজেলার চরগুলোতে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। ফলে চরের কৃষকদের মধ্যে নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে আধুনিক ভিত্তিতে শিম চাষের অভিজ্ঞতা ছিলো না। বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি অফিসারদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, চর নঙ্গলিয়ার জনতা বাজারের কৃষক মো. রফিককে পরামর্শ দিচ্ছেন হাতিয়া কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমরান আহমেদ। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিতে তারা কাজ করছেন। চলতি মৌসুমে শিম চাষে কৃষকদের পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা প্রদানসহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

চর নঙ্গলিয়ার মিয়াজী গ্রামের কৃষক মো.হানিফ চলতি মৌসুমে ১ একর ৫০ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এরইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকার শিম এবং শিমের বিচি বিক্রি করেছেন।

চর নঙ্গলিয়ার ফরিদপুরের কৃষক বাবুল মিয়া শিম চাষ করেছেন ২ একর জমিতে। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করেছেন।

নলের চরের আল-আমিন সমাজের আকলিমা খাতুন এবার ১ একর জমিতে শিম চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। তিনি শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করেছেন ৭৩ হাজার টাকার।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি বিভাগের সহায়তায় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার চর নঙ্গলিয়া, নলের চর ও ক্যারিং চরসহ আশ-পাশের চরগুলোতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিম চাষ। কারিগরি জ্ঞানের অভাবে এক সময় শিম চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। এসব চরের জমিগুলো পতিত পড়ে থাকতো। এতে অভাব অনটন ও কষ্টে জীবন-যাপন করতেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নোয়াখালীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ও হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এক সময় এই চরের জমিগুলো পতিত পড়ে থাকতো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, বীজ সহায়তাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চরের কৃষকদের মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে এক অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে। চলতি মৌসুমে এ চরের কৃষকরা সার্জন পদ্ধতিতে শিম চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন।

আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছর এসব চরে ৪ হাজার মেট্রিক টন শিম ও ১০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি শিমের বিচি উৎপাদন হয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে