Alexa ‘হাওয়া ভবন’ এখন ‘অ্যাজোর’

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

‘হাওয়া ভবন’ এখন ‘অ্যাজোর’

 প্রকাশিত: ১১:০১ ১ জুন ২০১৭  

এক সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানো ‘হাওয়া ভবন’ এখন আর নেই। সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর দ্বিতল সেই হাওয়া ভবন ভেঙে এখন তৈরি করা হয়েছে নয়তলা ভবন। নামেও এসেছে পরিবর্তন। বহুল আলোচিত-সমালোচিত সেই বনানীর সেই ১৩ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাড়িটিতে ও নিকটস্থ সড়কে নেই কোনো কোলাহল। ভবনটির মালিক আমেরিকা প্রবাসী মিসেস হুয়ারুন আহমেদ ও আশেক আহমেদ। হুয়ারুন থেকেই ‘হাওয়া’ নামকরণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অবশ্য এখন ভবন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেড (বিটিআই) ভবনটির নাম দিয়েছে ‘অ্যাজোর’। বর্তমান ভবনটির সামনে সেই আগের নারিকেল গাছটি এখনো রয়েছে। বেইজমেন্টে গাড়ি পার্কের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভবনটির আশপাশে এখন আর আগের মতো ভিড় নেই। দেশি-বিদেশি টাইলসে দৃষ্টিনন্দিত ভবনটির বেইজমেন্টসহ নয়তলা সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশ্য ভবনের সামনে নামফলকে ‘অ্যাজোর’ নামটির শুধু ‘এ ও জেড’ দুটি অক্ষর রয়েছে। বাকি অক্ষর কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে। নিরাপত্তারক্ষী এনায়েত জানান, ভবনটির নাম এক সময় হাওয়া ভবন ছিল বলে তিনি শুনেছেন। বাড়ির মালিক ভবনে থাকেন না বলেও জানান এনায়েত। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতা আলী আসগর লবী হাওয়া ভবন ভাড়া নেন। পরে এখানে নিয়মিত বসা শুরু করেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া সে সময় ওই ভবনে নিয়মিত দেখা যেত তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল, আশিক ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, বগুড়ার সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ছেলে জয়, কামরুল ইসলাম, অমিতাভ সিরাজসহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে। ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়নসহ পরবর্তীকালে বিএনপির রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড এখান থেকেই পরিচালিত হতো। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান ‘হাওয়া ভবন’ থেকেই দল পরিচালনা করেন। এরপর থেকেই মূলত নানা কারণে আলোচনা-সমালোচনায় পড়ে ওই ‘হাওয়া ভবন’। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই হাওয়া ভবনে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটারসহ নানা সামগ্রী জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকেই  ওই ভবনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, হাওয়া ভবন ভেঙে বর্তমান ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় জানুয়ারি ২০১১ ও শেষ ডিসেম্বর-২০১২। বিটিআইয়ের সেলস কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির তিন, পাঁচ ও সাততলার কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। দোতলা, চারতলা ও আটতলায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন বাড়ির মালিক। এ ছাড়া আটতলায় একাংশে বাড়ির মালিকের এক ভাই থাকেন বলেও জানা গেছে। বাড়ি নির্মাণ শেষ হওয়ায় ভবনটিতে নতুন বাসিন্দা উঠেছেন। অনেকেই জানেন না, ভবনটির নাম হাওয়া ভবন ছিল। ডেইলি বাংলাদেশ/আইজেকে