Alexa হলে ভোটকেন্দ্রের বিপক্ষে অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ডাকসু নির্বাচন : হলে ভোটকেন্দ্রের বিপক্ষে অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন

নুরুল আশফাক, ঢাবি

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৯ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হবে ১১ মার্চ। ভোট কেন্দ্র কোথায় হবে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মাঝে। কেউ বলছে হলে আবার বেশিরভাগ সংগঠন একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে।  

পরিবেশ পরিষদের আলোচনায় ১৪ টি সংগঠনের প্রস্তাবনায় ১২ টি ছাত্র সংগঠন একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান ৷ শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ হলে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ৷ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় আবাসিক হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে যা ছিলো অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবির বিরুদ্ধে। অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবির বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ও বুধবার (৩০ জানুয়ারি) প্রেস কনফারেন্স করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ ব্যাক্ত করেছেন কোটা আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ '। এ বিষয়ে অনান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন৷

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, আমাদের দাবিগুলো ছিলো যাতে সাধারণ ছাত্ররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে এসে ছাত্রলীগের দাবি পুরন করেছে ৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি প্রহশনের নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। ডাকসু বলে আসলে কিছু হবেনা শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীদের ছাত্রলীগের পদ থেকে ডাকসুতে বসানো হবে। অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবি মেনে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার সুযোগ এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে ৷ যদি তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে ডাকসুর বিশ্বাসযোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবেনা ৷

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি ৷ সেইসাথে আমরা প্রশাসন কে বলতে চাই আপনারা যদি ভোটকেন্দ্রকে হল থেকে একাডেমিক ভবনে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে আমরা ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

সালমান আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়না তার প্রথম ধাপ তারা প্রমান করলো ভোটকেন্দ্র হলে স্থাপন করে। এভাবে যদি অনিয়ম বাড়তে থাকে তাহলে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের পূর্ণ বিবেচনা করবো। আমরা প্রশাসনকে বলছি আপনারা একটা সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেন আমরা তাতে অংশগ্রহণ করবো। কিন্তু প্রশাসনের যদি একটা নাটক মঞ্চায়িত করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমরা সেই নাটকের অংশ হবো না৷

কোটা আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, সবাই মতামত দিয়েছেন যাতে সাধারণ ছাত্ররা নির্বিগ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আমারা একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছি৷ কিন্তু অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের মাতামত উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতে হলে ভোটকেন্দ্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ সবাই জানে হলে ছাত্রলীগের আধিপত্যের কথা, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেখানে জিম্মি করে রেখেছে৷ তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যদি আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করে তাহলে আমরা আন্দোলনের দিকে যাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ 

Best Electronics
Best Electronics