Alexa হলুদ রঙের মাঠ

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

হলুদ রঙের মাঠ

 প্রকাশিত: ১২:১৩ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ যেন হলুদের মেলা। হলুদ রঙে সেজেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর কোল ঘেঁষা ফসলের মাঠ। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠগুলোতে যেন রঙের উৎসব এনে দিয়েছে সরষে ফুল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাঠে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সমারোহ। যা প্রকৃতিতেও এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সরষে ক্ষেতের আইল দিয়ে হেঁটে চলা কৃষাণী অথবা শিশুর দল সৃষ্টি করছে অন্যরকম চিত্রকল্প ।

উপজেলার আলোকঝাড়ি, ভেড়ভেড়ী, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া, ভাবকি ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের ফসলের মাঠগুলো সেঁজেছে অপরূপ সাজে। দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে সরষে ফুলে মোড়া ক্ষেতগুলো। মৌমাছির দল ও প্রজাপতিরা ফুলে ফুলে পাখা মেলে মধু আহরণ করছে। হেমন্তের সকালে অথবা পড়ন্ত বিকেলে সরষে মাঠে গিয়ে নিখাদ হলুদের মাঝে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে ছবিও তুলছেন অনেকে।

জানা গেছে, সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার চলতি রবি মৌসুমে খানসামায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদন হবে।

চলতি বছরে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি সম্পাসারণ অধিদফতর।

অধিদফতরের হিসেব মতে চলতি বছরে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। আর চাষ হয়েছে ৭২৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর ছিল ৪৪০ হেক্টর।

ছাতিয়ানগড়ের সরিষাচাষী হরিদাস রায় জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় দেড় হাজার টাকা করে। প্রতি বিঘাতে ৭ মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ৭ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এ ছাড়া সরিষা আবাদে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। মাত্র দুই মাস সময়ে সরিষা তোলা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা। এবার জাব পোকার আক্রমণ না থাকার কারণে সরিষার ফলন ভাল হয়েছে।

ভান্ডারদহের সরিষা চাষী আফসার আলী বলেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করি। এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আশা করছি অন্য বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হবে। নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে ১২-১৫ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করতে পারব।

সরিষার তেলের রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। আর সরিষার খৈল জমির উর্বরা শক্তি বাড়ায়। এর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে। ফলে জমির উর্বরতা বাড়ে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, এবার রবিশস্য চাষের অনুকূল পরিবেশ ছিল। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পেলে মানুষ সরিষা আরো বেশি করে আবাদ করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, সরিষা চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। কৃষকদের অল্প সময়ে এই সরিষা চাষের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে দুই ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রুপান্তরিত হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে