Alexa হত্যার প্রতিশোধ নিতেই আনসার হোসেন আলীকে হত্যা 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

হত্যার প্রতিশোধ নিতেই আনসার হোসেন আলীকে হত্যা 

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫২ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরে আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। 

ঢাকা, মাগুরা ও যশোর সদর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং ‘হত্যার প্রতিশোধ’ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। 

রোববার দুপুরে যশোর এসপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 

গত ৩০ নভেম্বর দিনের বেলায় প্রকাশ্যে যশোর সদরের হাশিমপুর বাজারে গুলি করে হত্যা করা হয় বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদারকে। 

গ্রেফতাররা হলো, যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর এলাকার রাসেল, আনোয়ার, হাবিল ওরফে বার্মিজ, বিজয় কুমার বিশ্বাস, সুজন, সজল হোসেন ও আলী রাজ বাবু ওরফে ছোট বাবু।

যশোরের অ্যাডিশনাল এসপি (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ৩০ নভেম্বর হোসেন আলী হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটি ১২ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মফিজুল ইসলাম। এর আগে পুলিশ সদর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের আমিনুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতার করে। মিঠুর দেয়া তথ্যসহ গোয়েন্দা তথ্য, সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান শুরু করে। 

গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম গত ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার ভাসানটেক ও কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি রাসেল, আনোয়ার, হাবিল ওরফে বার্মিজ ও বিজয় কুমার বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। ১৪ ডিসেম্বর হাশিমপুর বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় সুজন ও সজল হোসেনকে। এদিন গভীর রাতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আলী রাজ বাবু ওরফে ছোট বাবুকে। ছোট বাবুর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি মোটরসাইকেল ও আসামিদের ১০টি মোবাইল ফোন আটক করেছে। 

অ্যাডিশনাল এসপি আরো জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত জুয়েল ও মুন্নার সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তার বিরোধ ছিল। বছর দু’য়েক আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় মুন্নার বাবা বুলি ও জুয়েলের ভাই বাবলা। জুয়েল ও মুন্নার ধারণা ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আনসার সদস্য হোসেন আলীর হাত রয়েছে। এছাড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন নিয়েও আসামিদের সঙ্গে হোসেন আলীর বিরোধ ছিল। এসব কারণে আনসার সদস্য হোসেন আলীকে হত্যা করা হয়েছে। 

মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহত আনসার সদস্য আগে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিল। সাবেক চরমপন্থী এ সদস্য ১৯৯৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দিয়ে আনসার ব্যাটালিয়নে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও তার আগের সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এসব বিষয়ই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। 

হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি জুয়েল ও মুন্নার নেতৃত্বে ওই এলাকায় একটি কিশোর অপরাধী গ্যাংও রয়েছে। ১৫ থেকে ২০ সদস্যের এ গ্যাংসহ সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড এবং ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করে। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডিশনাল এসপি (ক সার্কেল) গোলাম রব্বানী জানান, একসময় মুন্নার বাবা ও বুলি ওই সন্ত্রাসী চক্রকে পরিচালনা করতো। এখন এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মুন্নার হাতে। পুলিশ মুন্না ও জুয়েলকে আটকের জন্য বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান পারিচালনা করেছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এএসপি শফিকুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও ডিবি ওসি মারুফ আহমেদ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ