Alexa হজরত সোলায়মান (আ.) ও তার মুজেযা

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

হজরত সোলায়মান (আ.) ও তার মুজেযা

 প্রকাশিত: ১৭:১১ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৭:৪৮ ৩০ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হজরত সোলায়মান (আ.) ছিলেন হজরত দাঊদ (আ.) এর পুত্র ও হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বংশধর। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন শরীফে বলেন,

‘তারপর আমি ইব্রাহিমকে ইসহাক ও ইয়াকূবের মতো সন্তান দিয়েছি এবং সবাইকে সত্য পথ দেখিয়েছি, (সে সত্য পথ যা) ইতিপূর্বে নূহকে দেখিয়েছিলাম। আর তারই বংশধরদের থেকে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুণকে (হেদায়াত দান করেছি)। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকাজের বদলা দিয়ে থাকি।’ (সুরা আনাম-৮৪)

হজরত দাঊদ (আ.) এর ১৯ জন পুত্রের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত সোলায়মান (আ.)। মহান আল্লাহ পাক তাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নবুয়তের সম্পদে সমৃদ্ধ করেছিলেন। হজরত সোলায়মান (আ.) তার পিতা হজরত দাঊদ (আ.)-এর মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন। হজরত সোলায়মান (আ.) তের বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। বলা হয় মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৩ বছর। অর্থাৎ তার রাজত্ত্বকালের সময় ছিল দীর্ঘ ৪০ বছর। তিনি কতো বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন সে বিষয়ে জানা যায়নি তবে শেষনবী হজরত মুহাম্মাদ (স.) এর জন্মের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে তিনি নবী হন।

বালক সোলায়মান (আ.) বুদ্ধিমত্তা :

মহান আল্লাহ পাকের রহমতে সুলায়মান (আ.) তার বাল্যকাল থেকেই গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। একবার ছাগপালের মালিক ও শস্যক্ষেতের মালিকের মধ্যেকার বিরোধ পিতা হজরত দাঊদ (আঃ) অপেক্ষা বালক সুলায়মান উত্তম ফায়সালা পেশ করেছিলেন। যার ফলে হজরত দাঊদ (আ.) নিজের পূর্বের রায় বাতিল করে পুত্রের প্রস্তাব গ্রহণ করে সে মোতাবেক রায় প্রদান করে ছিলেন।

উক্ত ঘটনার ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মাজীদে বলেন-

وَدَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيْهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِيْنَ- فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلاًّ آتَيْنَا حُكْماً وَّعِلْماً (الأنبياء 
‘আর স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানকে, যখন তারা একটি শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল, যাতে রাত্রিকালে কারু মেষপাল ঢুকে পড়েছিল। আর তাদের বিচারকার্য আমাদের সম্মুখেই হচ্ছিল’। ‘অত:পর আমরা সুলায়মানকে মোকদ্দমাটির ফায়সালা বুঝিয়ে দিলাম এবং আমরা উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম’। (সূরা: আম্বিয়া ২১/৭৮-৭৯)

সোলায়মান (আ.) এর মুজেযা:

সোলায়মান (আ.)-কে মহান আল্লাহ পাক কিছু বিশেষ ক্ষমতার নিয়ামত দান করে ছিলেন যা অন্য কাউকে দান করেননি। নবী রাসূলদের এরুপ বিশেষ ক্ষমতাগুলোকে মুজেযা বলা হয়। সুলায়ামন (আ.)-কে দান করা বিশেষ মুজেযাগুলো হলো, যেমন: (১) জ্বীনকে অধীনস্ত করা (২) বায়ুর প্রবাহের অনুগত্য (৩) প্রানীকূলের ভাষা বুঝার ক্ষমতা(৪) তামার কঠিন অবস্থাকে তরলে পরিণত করা। নিম্নে মুজেযাগুলোর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো-

(১) জ্বীন জাতিকে অধীনস্ত করা:

মহান আল্লাহ তায়ালা জ্বীন জাতিকে হজরত সোলায়মান (আ.) এর অধীন করে দিয়েছিলেন। মূলত জ্বীনেরা সাগরে ডুব দিয়ে তলদেশ থেকে মূল্যবান মণি-মুক্তা, হীরা-জহরত তুলে আনত এবং সুলাইমানের হুকুমে নির্মাণ কাজসহ সকল প্রকার কাজ করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকত। এবং ঈমানদার জ্বীনেরা সওয়াবের নিয়তে স্বেচ্ছায় আনুগত্য করত। দুষ্ট জ্বীনগুলো বেড়ীবদ্ধ অবস্থায় সুলাইমানের ভয়ে কাজ করত।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন,

وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَّعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ 
‘আর জিনের মধ্যে কিছুসংখ্যক তার (সুলায়মানের) সম্মুখে কাজ করত তার পালনকর্তার (আল্লাহর) আদেশে...।’ (সূরা-সাবা ৩৪, আয়াত-১২)

অন্যত্র মহান আল্লাহ পাক বলেন,

وَمِنَ الشَّيَاطِيْنِ مَنْ يَّغُوْصُوْنَ لَهُ وَيَعْمَلُوْنَ عَمَلاً دُوْنَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِيْنَ 
‘এবং আমরা তার অধীন করে দিয়েছিলাম শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত এবং এছাড়া অন্য আরো কাজ করত। আমরা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতাম।’ (সূরা-আম্বিয়া ২১,আয়াত-৮২)

পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে,

وَالشَّيَاطِيْنَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَّغَوَّاصٍ- وَآخَرِيْنَ مُقَرَّنِيْنَ فِي الْأَصْفَادِ 
‘আর সকল শয়তানকে তার অধীন করে দিলাম, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী’। ‘এবং অন্য আরো অনেককে অধীন করে দিলাম, যারা আবদ্ধ থাকত শৃংখলে।’ (ছোয়াদ ৩৮,আয়াত-৩৭-৩৮)
 

(২) বায়ুর প্রবাহের অনুগত্য:

মহান আল্লাহ তায়ালা বায়ুর প্রবাহকে হজরত সোলায়মান (আ.) এর অনুগত করে দিয়েছিলেন। সোলায়মান (আ.) এর হুকুম মত বায়ু তাকে তার ইচ্ছামত স্থানে বহন করে নিয়ে যেত। তিনি বায়ুর পিঠে নিজ সিংহাসনসহ সদলবলে সওয়ার হয়ে দুইমাসের পথ একদিনে পৌঁছে যেতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা সাবা'য় বলেন,
 
وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ 
‘এবং আমরা সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ ও বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত...’ (সূরা-সাবা ৩৪, আয়াত-১২)

মহান আল্লাহ পাক সূরা আম্বিয়ায় বলেন,

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِيْ بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِيْ بَارَكْنَا فِيْهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِيْنَ 
‘আর আমরা সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে। যা তার আদেশে প্রবাহিত হতো ওই দেশের দিকে, যেখানে আমরা কল্যাণ রেখেছি। আর আমরা সকল বিষয়ে সম্যক অবগত রয়েছি।’ (আম্বিয়া ২১/৮১) 

বায়ুর ওপর ভর করে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে গমন করা এবং বায়ুকে আদেশ করে যেকোনো কাজ করানো ছিলো তার অন্যতম মুজেযা।

(৩) প্রানীকূলের ভাষা বুঝার ক্ষমতা:

মহান আল্লাহ তায়ালা হজরত সোলায়মান (আ.)-কে প্রানীকূলের ভাষা বোঝার মুজেযা দান করেছিলেন। পক্ষীকূল তার হুকুমে বিভিন্ন কাজ করত। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পত্র তিনি হুদহুদ পাখির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ‘সাবা’ রাজ্যের রাণী বিলকীসের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। 

পক্ষীকূলকে সোলায়মান (আ.) এর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তাদের ভাষা বুঝতে পারতেন। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন এ বলেন,

وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِيْنُ 
‘সুলায়মান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল এবং বলেছিল, হে লোক সকল! আমাদেরকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে সবকিছু দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি একটি সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব।’ (সূরা-নমল ২৭,আয়াত- ১৬)

হজরত সোলায়মান (আ.) পিপীলিকার ভাষাও বুঝতে পারতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মাজীদে বলেন,

حَتَّى إِذَا أَتَوْا عَلَى وَادِي النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوْا مَسَاكِنَكُمْ لاَ يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لاَ يَشْعُرُوْنَ- فَتَبَسَّمَ ضَاحِكاً مِّن قَوْلِهَا 
‘অবশেষে সুলায়মান তার সৈন্যদল নিয়ে পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল। তখন পিপীলিকা (নেতা) বলল, হে পিপীলিকা দল! তোমরা স্ব স্ব গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পিষ্ট করে ফেলবে।’ ‘তার এই কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসল... ’ (সূরা-নমল, আয়াত-১৮-১৯)

(৪) তামার কঠিন অবস্থাকে তরলে পরিণত করা:

পিতা দাঊদ (আ.) এর জন্য ছিল লোহা গলানোর মুজেজা এবং পুত্র সুলায়মানের জন্য ছিল তামা গলানোর মুজেজা। তামার মতো শক্ত পদার্থকে মহান আল্লাহ সোলায়মান (আ.) এর জন্য তরল ধাতুতে পরিণত করেছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ
‘আমরা তার জন্য গলিত তামার একটি ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম...’ (সূরা-সাবা ৩৪ আয়াত-১২)

এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ওই গলিত তামার তরল উত্তপ্ত ছিল না। যার ফলে ওই তরল দিয়ে অতি সহজে পাত্রাদি তৈরী করা যেত। কুরতুবী বর্ণনা করেছেন যে সুলাইমানের পর থেকেই তামার পাত্রাদি তৈরী করা শুরু হয়।

সূরা সাবা'র শেষ আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْراً وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ 
‘হে দাঊদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। বস্ত্তত: আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ’ (সূরা-সাবা ৩৪, আয়াত-১৩)

বাইতুল মোকাদ্দাস নির্মাণ ও মৃত্যু :

হজরত সোলায়মান (আ.) যেমন একজন নবী ছিলেন তেমনি ছিলেন অদ্বিতীয় ও অনুপম সম্রাজ্যের অধিকারী। শুধু সমগ্র পৃথিবীর নয়, বরং জ্বীন জাতি, বিহঙ্গকুল ও বায়ুর ওপরও তার আধিপত্য ছিল। এতকিছুর পরেও তিনি মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পাননি। নির্দিষ্ট সময়ে তাকেও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছে। 

বায়তুল মোকাদ্দাসের নির্মান কাজ শুরু করেছিলেন হজরত দাউদ (আ.) কিন্তু হজরত সোলায়মান (আ.) তা শেষ করেন। তার মৃত্যুর পূর্বে কিছু কাজ অবশিষ্ট ছিল। আর এই কাজ করার দ্বায়িত্ব অবাধ্য জ্বীনদের ওপর ন্যস্ত ছিল। তারা হজরত সোলায়মান (আ.)-এর ভয়ে কাজ করত। 

জ্বীনরা তার মৃত্যু সংবাদ শুনলেই তৎক্ষণাৎ কাজ করা বাদ দিত। যার ফলে নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থেকে যেত। এইজন্য মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে মেহরাবে প্রবেশ করলেন এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। যথা সময়ে তার আত্মা দেহপিঞ্জর ছেড়ে গেল। লাঠির ওপর দেহের ভর থাকায় বাইরে থেকে দেখে মনে হতো তিনি ইবাদতে মশগুল রয়েছেন। 

অবশেষে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাইতুল মোকাদ্দাসের নির্মাণ কাজও সমাপ্ত হয়ে গেল। হজরত সোলায়মান (আ.)-এর লাঠিতে মহান আল্লাহ তায়ালা উইপোকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআন পাকে এই উইপোকাকেই ‘দাব্বাতুল আরদ’ বলা হয়েছে। উইপোকা ভেতরে ভেতরে লাঠি খেয়ে ফেলল। লাঠি নষ্ট হয়ে গেলে সোলায়মান (আ.)-এর অসার দেহ মাটিতে পড়ে গেল। এবং তখনই জ্বীনেরা জানতে পারল যে সোলায়মান (আ.) এর মৃত্যু হয়ে গেছে আর তখন তারা সেই জায়গা ত্যাগ করল।

হজরত সোলায়মানকে এমন সাম্রাজ্যদান করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পৃথিবীতে আর কাউকে দান করা হয়নি। মহান আল্লাহর হুকুমে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
 
মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘সোলায়মান বলল, হে আমার পালনকর্তা ! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন এক সাম্রাজ্য দান কর, যা আমার পরে আর কেউ যেন নাপায়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।’ (সূরা-ছোয়াদ ৩৮, আয়াত-৩৫)

এই সম্রাট কখনো অহংকারের বশীভূত হননি। মহান আল্লাহ তাআলা’র প্রেমে মসগুল এই নবী তার সাড়া জীবন মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর ইবাদাত ও তার ওপর ন্যস্ত হওয়া দায়িত্ব পালনে সদা সচেতন ও যত্নশীল ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে