Alexa সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইট, কাজ বন্ধ করে দিলেন পৌরবাসী

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইট, কাজ বন্ধ করে দিলেন পৌরবাসী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৬ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৭ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

সড়কের সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন পৌরবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভায়।

পৌরবাসী জানান, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে এক কোটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে সড়কের সংস্কার কাজ। এতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সড়কের এ সংস্কার কাজ চলছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণেই তারা সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন। 

আইইউডিপি-২ প্রকল্পে অধীনে পাটগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য তিনটি প্যাকেজে গত এপ্রিলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

এর একটি প্যাকেজে ছিল রাবার ড্যাম থেকে সুইচ গেটের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত ৮৫২ মিটার সড়ক সংস্কার। ৯৮ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৫ টাকা চুক্তি মুল্যে কাজটি পায় রংপুরের শেখ ফুল মোহাম্মদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিল। 

বুধবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান খুবই নিম্নমানের ইট ট্রাকে করে এনে সড়ক সংস্কারের জন্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করেন। এরপরও বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরুর একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন উপস্থিত স্থানীয় লোকজন। 

পৌর বাসিন্দা মনোয়ার, আজাদ, জিয়ারুলসহ অনেকেই ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়কের কাজ করা হচ্ছে দেখে তারা সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

পাটগ্রাম পৌর এলাকার ট্রাকচালক হোসেন আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরে পাটগ্রাম পৌরসভায় অর্জন বলতে কিছুই নেই, অযোগ্য নেতৃত্ব আর দুর্নীতি খেয়ে ফেলেছে পৌরসভার সব উন্নতি ও উন্নয়নকে। চোখের সামনে এমন জঘন্যতম অপরাধ প্রতিবাদ করারও কেউ নেই।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারের ব্যাবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি এবং পৌরসভার ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট কিছু সময়ের জন্য না থাকার সুযোগে ইট ভাটার মালিক এই নিম্নমানের ইট পাঠায়। আমরা ভাটার মালিককে ইটগুলো ফেরত নিতে বলেছি। আজকের মধ্যেই হয়তো তারা এগুলো নিয়ে যাবে। তবে কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ীই সড়কের কাজ হচ্ছে।

পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নিম্নমানের ইটের কথা শুনে আমিই স্থানীয়দের কাজ বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তা তারা করেননি। ঠিকাদারের এখানে কোনো দোষ নেই। পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার জরুরি কাজে ঢাকায় থাকার সুযোগে ইট ভাটার মালিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আর যেসব ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা সরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে ঠিকাদারকে।

এ ব্যাপারে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ