সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ

 প্রকাশিত: ১৬:১১ ১০ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:১১ ১০ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে লালমনিরহাট জেলা ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি জনসচেনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে জেলার ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশের এসব উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসায় সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা। 

জানা গেছে, লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।বেড়েছে যানবাহন সেই সঙ্গে নানা কারণে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে সড়ককে নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশ ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যানবাহন চালক ও পথচারীসহ জনসাধারণকে সচেতন করার কাজ করছে। পুলিশের এসব উদ্যোগের ফলে আগের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসায় খুশি সাধারণ মানুষ।

বেপরোয়া চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জেলা সচেতনতামূলক বিলবোর্ড,সাইনবোর্ড,লাগনোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার, পথচারী পারাপারে ব্যস্ত রাস্তায় জেব্রাক্রোসিং সাইন সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছেন। এছাড়া  
পেট্রোল পাম্পগুলোতে, নো হেলমেট নো পেট্রোল কর্মসূচী মোটর বাইকারদের জন্য  ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ঢাকার সাভার থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক ড্রাইভার আইনুল মিয়া, জেলা শহরের বাসচালক সফিকুল ইসলাম (৪৫)সহ অনেক চালক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, চালকদের সচেতন করার জন্য মহাসড়কের পাশে সাইনবোর্ড দেখে অনেক চালক সতর্ক হয়ে যাচ্ছে। ফলে ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালক মিজানুর, আরিফুল, আবু বক্করসহ অনেকে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পেট্রোল পাম্পে এলে হেলমেটের কথাটা সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছে তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ, এতে করে অনেকেই সচেতন হচ্ছেন। এসব সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়কে চলছে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান। যারা আইন মানছেন না তাদের ভাগ্যে জুটছে মামলা জরিমানার খড়গ। যারা মানছেন তাদের আইন মানার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে দেয়া হচ্ছে ফুলেল শুভেচ্ছা।

ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ফরিদ আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, স্পিডগানের সাহায্যে যানবাহনের গতি তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, ফলে বেপরোয়া গতিজনিত দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব হয়। স্থানীয়দের দাবি পুলিশের এসব প্রসংশনীয় উদ্যোগের ফলে সচেতনতা বাড়ছে।

জেলা পুলিশের এসব উদ্যোগের স্বীকৃতিও জুটেছে সম্প্রতি। গত সেপ্টেম্বর মাসে মহাসড়কে ট্রাফিক সাইন স্থাপনে অবদান রাখায় রংপুর রেঞ্জের বিভাগীয় সম্মেলনে পুলিশ সুপার পেয়েছেন বিশেষ পুরষ্কার। এছাড়া একই মাসে রংপুর রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইউনিট নির্বাচিত হয়েছে লালমনিরহাট জেলা ট্রাফিক বিভাগ।

এসপি এস এম রশিদুল হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শুধু অভিযান আর মামলা দিয়ে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়, সড়ককে নিরাপদ রাখতে যানবাহন চালক, পথচারী সবাইকে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। এজন্য মালিক কর্তৃপক্ষ যদি সচেতন এবং প্রকৃত চালক দিয়ে তাদের যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেন তাতে হয়তো আরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিপি/জেডএম