Alexa সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা খেললেন ক্রিকেট 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা খেললেন ক্রিকেট 

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪৮ ১০ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভোগান্তির শিকার হয়ে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ পথচারী। অপরদিকে সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ক্রিকেট খেলছেন রিকশাচালকরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কুড়িল-রামপুরা-মালিবাগ সড়কের বিভিন্ন অংশে এমন দৃশ্য অনেকের নজরে আসে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনর মেয়র সাঈদ খোকন রিকশাচালকদের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নগর ভবনে। তিনি আশা করছেন উভয় পক্ষের কথা বলার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে।

রিকশাচালকদের এ বিক্ষোভে রাজধানীজুড়ে স্থবিরতা দেখা দেয়। থেমে থেমে কিছু বাস চলাচল করলেও বেশিরভাগ বাসে যাত্রীসংখ্যা খুব কম। সকাল থেকেই গাজীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলোর সায়েদাবাদ হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল বন্ধ থাকে। আশেপাশের সড়কগুলোতেও সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলের দিকে ছুটেন। দাবি আদায়ে রিকশা চালকরা বলছেন সড়ক আছে যেখানে, রিকশা চলবে সেখানে, চলবে চলবে-রিকশা চলবে, আমাদের দাবি মানতে হবে, না মানলে আন্দোলন চলবে। রামপুরার আবুল হোটেলের সামনের চিত্র ছিলো এটি।

মুগদায় কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে মানববন্ধন করছে রিকশা চালক-মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সীমিত আকারে কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়।

একইভাবে রামপুরা বাজার, খিলগাঁও, রামপুরা ব্রিজ, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা এবং কুড়িল এলাকায়ও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এতে করে এসব এলাকায় সড়কে থাকা যানবাহনগুলো আটকা পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ।

বিশ্বরোড থেকে রামপুরা যাওয়ার সড়কে সকাল থেকে দেখা দেয় তীব্র যানজট। যানবাহনের সারি পড়ে আছে সড়কের দুদিকে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না নগরবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে পথ ফুরোচ্ছে না। চরম দুর্ভোগে পড়ে অনেকে উপায়ান্তর না পেয়ে বাস থেকে নেমে যান।

রিকশাচালকরা বলছেন, তারা গরিব মানুষ। রিকশা না চালালে খাবেন কী। পরিবার নিয়ে চলবেন কীভাবে।

অধিকাংশ রিকশাচালক বলেন, আমরা যারা রিকশা চালাই সবাই গরিব মানুষ। সরকার ঘোষণা দিয়েছে মেইন রোডে রিকশা চালানো যাবে না। কিন্তু এ ঘোষণা মানলে আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে। কারণ শুধু অলিগলি থেকে রিকশার ভাড়া পাওয়া যায় না।

রামপুরা থানার ওসি মো. আব্দুল কুদ্দুছ ফকির বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা চেষ্টা করছি। এ ছাড়া রিকশাচালকদের অবরোধ কর্মসূচিতে যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ৩ জুলাই যানজট নিরসনে পৃথক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গত রবিবার থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হয়। যে তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর; সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ