Alexa সড়কে সীমাহীন নৈরাজ্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সড়কে সীমাহীন নৈরাজ্য

মো. মসিউর রহমান জিহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৭ ৫ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমাহীন নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে চলছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। সড়কে চলছে লক্কর-ঝক্কর ও রুট পারমিটবিহীন সব বাস। এতে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছে পরিবহন ব্যবস্থা। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা।

তিন বছর ধরে আঞ্চলিক পরিবহন পরিচালনা কমিটি’র কোনো সভা হয়নি। এ কারণে প্রতিনিয়ত আইন লঙ্ঘন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। চলাচলের অযোগ্য সব বাস সড়কে নামিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করছে অসাধু মালিকরা। এতে যাত্রিরা পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত সেবা, উল্টো শিকার হচ্ছেন হয়রানির।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে কোনো এসি বাস সার্ভিস নেই। এ কারণে ফিটনেসবিহীন এসব বাসেই গাদাগাদি করে চলাচল করতে হয়। মালিক সমিতির প্রভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে পারছে না বহু আগ্রহী প্রতিষ্ঠান।

যাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন, বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে মালিক-চালকরা ইচ্ছামতো গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছে। পর্যাপ্ত সেবা না দিয়েই নেয়া হচ্ছে গলাকাটা ভাড়া।

শুধু যাত্রীরাই নন, এসব অব্যবস্থাপনায় ভুগছেন পরিবহন মালিকরাও। তারা জানান, অসাধু মালিকরা বাস সার্ভিসকে জিম্মি করে রেখেছে। এ কারণে আধুনিক সার্ভিস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় সব বাসেই পারমিশনের অতিরিক্ত সিট বসানো হয়েছে। বাসের ভেতরের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অকট্রয় মোড়ের গেটলক কাউন্টারে যাত্রী ছাউনি ও টয়লেট নেই। মহানন্দা বাসস্ট্যান্ডে রাতে বসে গাঁজার আসর। টয়লেট আর যাত্রী ছাউনিতে মানুষ তো দূরের কথা, গরু-ছাগলেরও থাকার পরিবেশ নেই। সেবার মান তলানিতে থাকলেও ভাড়া নেয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত।

রাজশাহীগামী রিপন বলেন, বাসগুলোতে দুই সিটের দূরত্ব এতটাই কম যে, বসে পা রাখা যায় না। গেটলক-সিটিং সার্ভিস নাম দেয়া হলেও স্টপেজ ছাড়াই ইচ্ছামতো যাত্রী তোলা হয়। এ কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

বিআরটিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া বন্ধ বহুদিন ধরেই। কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে পুরনো বাসগুলোকে আর ফিটনেস দেয়া যায় না। সড়কে এসব বাস বন্ধে মন্ত্রণালয়ে আরটিসি সভা হবে। এরপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান শুরু হবে।

বিআরটিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল কিবরিয়া বলেন, আমি সাত মাসে ২৩টি অভিযান চালিয়েছি। এ সময় ২১০টি মামলা করেছি। ফিটনেসবিহীন পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকরের লক্ষ্যে গণমাধ্যম কর্মী, পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে এসপি টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেছেন, নতুন আইন কিছুটা কঠিন। তবে জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তা প্রণয়ন করা হয়েছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর