সড়কে ফল বিক্রি করা পিএইচডিধারী তরুণীর বক্তব্য ভাইরাল

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

সড়কে ফল বিক্রি করা পিএইচডিধারী তরুণীর বক্তব্য ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ২৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৮:২৪ ২৩ জুলাই ২০২০

রাইসা আনসারি। ছবি: সংগৃহীত।

রাইসা আনসারি। ছবি: সংগৃহীত।

ঝরঝরে ইংরেজিতে লকডাউনের প্রতিবাদ করছেন রাইসা আনসারি নামের এক তরুণী। এ দৃশ্য দেখে থেমে যাচ্ছে মানুষ। তরুণীকে ঘিরে রেখে তার প্রতিবাদ শুনছে সবাই। তরুণীটি একজন ফল বিক্রেতা। সড়কে ফল বিক্রি করলেও তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কিন্তু পিএইচডি। যা শুনে সবাই হতবাক।

ভারতের ইন্দোর শহরের মালওয়া মিল এলাকায় ইংরেজি ভাষায় লকডাউনের প্রতিবাদ করেন ওই তরুণী। প্রতিবাদের এ দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। যা বুধবার থেকেই ভাইরাল হচ্ছে।

করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে ইন্দোরে বারবার লকডাউন জারি করছে প্রশাসন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, বারবার লকডাউন জারি করায় ফল ও সবজি বিক্রেতাদের উপার্জন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রাইসার দাবি, পদার্থবিদ্যায় এমএসসি করেছেন তিনি। ২০১১ সালে ইন্দোরের দেবী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেটেরিয়াল সায়েন্স নিয়ে গবেষণা শেষ করেছেন।

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, এখন শহরের একদিকে লকডাউন করা হচ্ছে তো কাল অন্যপ্রান্ত লকডাউন চলছে। এর ফলে বাজারে কোনো ক্রেতা নেই, বেচাকেনাও বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা নিজেদের পরিবারের খাবার জোগাড় করব কী করে?

রাইসার দাবি, ওই এলাকায় তার মতো অনেকেই পারিবারিক সূত্রে ফল বিক্রির পেশায় এসেছেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেন ফল বিক্রির পেশাকে বেছে নিলেন?

প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ রাইসা বলেন, কোনো জায়গায় চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়েই ফল বিক্রি শুরু করেছি। আগে আমার বাবা এ ব্যবসা দেখাশোনা করতেন।

রাইসা বলেন, কোথাও কোনো চাকরি জোটাতে পারিনি। আর যেহেতু আমার নাম রাইসা আনসারি, তাই কোনো কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আমাকে চাকরি দিতে রাজি নয়।

দেবী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রাজকুমার চৌহানও রাইসাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি বলেন, রাইসা খুবই পরিশ্রমী একজন ছাত্রী ছিলেন৷ মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে দেখাও হয়েছিল।

স্মৃতি স্মরণ করে ওই অধ্যাপক বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে এক ঝুড়ি ফল উপহার দিয়েছিল রাইসা। তবে কী কারণে রাইসার মতো একজন ছাত্রী ফল বিক্রি পেশাকে বেছে নিয়েছে তা ভেবে অবাক হচ্ছি। 

সূত্র- ইন্ডিয়া টিভি নিউজ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ