সড়কের অবৈধ দখলে যানজট

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

সড়কের অবৈধ দখলে যানজট

 প্রকাশিত: ১৭:৫৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের পাশে প্রধান সড়ক দখল করে অবৈধ অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের সামনে অবস্থানরত গাড়ীর কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে সড়কে যান চলাচল। ফলে উপজেলা পরিষদ এলাকায় তৈরি হয় যানজট।

স্থানীয় প্রভাবশালী এবং সড়ক জনপদ বিভাগের লোকজন মাসিক ভাড়ায় বসিয়েছে দোকান। তারাই আবার সড়কে শৃঙ্খলার জন্য সভা সেমিনার করে। 

পিএমখালীর বাড়ি থেকে কক্সবাজার ডিসি কার্যালয়ে যাতায়াত করেন জসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, প্রতিদিন কয়েকটি জায়গায় যানজটে পড়তে হয়। লিংকরোড ও বাসটার্মিনালে যানজটের শিকার হই।  যানজটে পড়তে হয় উপজেলা পরিষদের পাশেও। এখানে সড়কের দু’পাশের রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গ্যারেজসহ অনেক অবৈধ দোকান। এই এলাকা দু’টি বাস একসাথে পার হতে পারে না।

উপজেলা পরিষদের পাশে সরকারি খাদ্য গুদামের পাশে গড়ে উঠেছে ৪টি গ্যারেজ ও ২টি ভাঙ্গারির দোকান। রাস্তার অপর পাশেও বেশ কয়েকটি অবৈধ গ্যারেজ আর ওয়াসব্লক।

গ্যারেজ মালিক আকবর বলেন, আমরা ভুতু মুন্সি নামের একজনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে গ্যারেজ করছি। এখানে স্থায়ী বা পাকা কোনো স্থাপনা নেই।

ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, আমরা মাসিক ভাড়া দিয়ে এখানে কাজ করছি। যারা ভাড়া নেয় তাদের রাস্তায় নিজস্ব জমি পড়েছে। আমরা শুধু ভাড়াটিয়া কিছু বলার থাকলে জমিদারের সঙ্গে কথা বলুন।

গ্যারেজে মেরামতের জন্য আসা গাড়ি মূলত প্রধান সড়কে রেখে মেরামত করা হয়। আবার কিছু গাড়ি দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে পড়ে আছে।

ঝিলংজার মোক্তারকুল এলাকার কলেজ ছাত্রী আসমাউল হুসনা বলেন, ‘আমি সরকারি মহিলা কলেজে পড়ি।  কলেজে জন্য বাড়ি থেকে ১ ঘণ্টা আগে বের হলেও যানজটে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই বেশিরভাগ জায়গাতেই যানজট থাকে। বেশি চোখে পড়ে উপজেলা পরিষদের পাশের রাস্তা।

গ্যারেজের কারণে সেই রাস্তাতে বেশি যানজট লেগে থাকে।  প্রধান সড়কের উপরেই মেরামতের জন্য গাড়ি এবং ভাঙারির দোকানের মালামাল রাখা হয়। শুনেছি এগুলো প্রভাবশালী লোকজন বসিয়েছে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী রিফাত বিন সামশ বলেন, আমার বাড়ি শহরের কালুর দোকানে। আগে রাস্তায় এত বেশি যানজট হতো না কিন্তু ইদনীং কেন এত বেশি যানজট হয় বুঝতে পারছি না। শুধু উপজেলা গেইটের পাশে নয় সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সরকারের দায়িত্ব। রাস্তার পাশে কোন স্থাপনা গড়তে না দিলেই যানজট কমে যাবে।

স্থানীয়রা বলেন, এখানে ১২/১৫টি অবৈধ দোকান আছে।  এগুলো যানজটের মূল কারণ।  এসব দোকান থেকে মাসিক ভাড়া নেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও সড়ক বিভাগের লোকজন। তারাই আবার বিভিন্ন জায়গায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কথা বলে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেইন করার কাজ চলছে। সে সময় সব কিছু এমনিতেই উচ্ছেদ হয়ে যাবে। জনগণের সুবিধার জন্য কিছু করতে হলে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে/আরআর