.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

স্যুপে মিললো মরা ইদুঁর

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০০ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চপস্টিকে তুলে আনা ইদুরছানা

চপস্টিকে তুলে আনা ইদুরছানা

স্যুপের মধ্যে ইদুঁর! ভাবতেই নিশ্চয় গাঁ ঘিনঘিন করছে। তবে ভাবুন, যিনি স্যুপ খেতে গিয়ে এ বিরুপ পরিস্থিতির সম্মুখীণ হলেন তার কি হাল! চীনের একটি জনপ্রিয় হটপট চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট ‘শিয়াবু শিয়াবু’তে গিয়ে ইদুঁর স্যুপ খেলেন এক গর্ভবতী নারী। যদিও না জেনে কয়েক চামচ পেটে পড়তেই স্যুপের বাটিতে ইদুঁর খুঁজে পান তিনি। মোবাইল ফোনে ধারণ করেন সিদ্ধ হয়ে যাওয়া ইদুরছানার ছবিটি। সঙ্গে সঙ্গেই সেই ইদুঁর মিশ্রিত স্যুপের ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এ কারণেই রেষ্টুরেন্টটির শেয়ার মাটিতে পড়তে বসেছে মুহুর্তেই। ঘটনার পর বহুল শাখাবিশিষ্ট এই রেষ্টুরেন্টটি সম্মুখীন হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ডলার ক্ষতির।

৬ সেপ্টেম্বর শানডং প্রদেশে অবস্থিত উক্ত রেষ্টুরেন্টের এক শাখায় গর্ভবতী মহিলা তার স্বজনদের সঙ্গে রেষ্টুরেন্টটিতে খেতে যান। আর সেখানে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মুখীণ হন। চপস্টিক দিয়ে স্যুপের বাটি থেকে মাংস তুলতে গিয়ে তুলে ফেলেন ইদুরছানা‍! যদিও রেষ্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ তাকে তাৎক্ষনিক ৫ হাজার ইয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি। তবে মহিলার স্বামী মি. মা এ ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার জানান। কারণ তিনি আগে তার স্ত্রীর শারীর অবস্থার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাতে চান। তারপর ক্ষতিপূরণ ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ‘রেষ্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে একজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন আপনার যদি ভয় পান তবে বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলুন। আমরা এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার ইয়ান দিবো। তবে আপনি ঘটনাটি চেপে যান।’

এ মরা ইদুঁরের ছবি ঘটনার দিনই চীনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই রেষ্টুরেন্টটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। কেউ লিখেছেন, ‘আমার তো শুনেই বমি পাচ্ছে। আর কোনদিন বাইরে স্যুপ খাব না।’ আরো একজন লিখেছেন, ‘শিয়াবু শিয়াবু আমার প্রিয় একটি রেষ্টুরেন্ট। আমি ভাবতাম তারা যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বিশ্বাস করতে পারছি না!’ আরেক জন আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘একটি শিশুর দাম ২০ হাজার ইয়ান? একটি জীবনের মূল্য এটি?’

ঘটনার পর রেষ্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঘটনাটি ‘অপ্রত্যাশিত’। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উইফাং শহরের নির্দিষ্ট রেষ্টুরেন্টটির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জোরালো তদন্ত করবে বলে জানানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড