ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

স্মৃতিতে স্মৃতিস্তম্ভ

নড়াইল প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৪৭ বছর পরও নড়াইলের লোহাগড়ায় নির্মাণ হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। এমনকি শহীদদের সমাধিস্থলগুলো সংরক্ষণে নেই কোনো উদ্যোগ।

এদিকে স্মৃতিস্তম্ভ না থাকায় ৮ডিসেম্বর লোহাগড়া মুক্ত দিবসসহ বিজয় দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মফিজুল হক বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মভূমি ও স্মৃতিধন্য লোহাগড়া উপজেলাতে রয়েছে বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা। তাই ৮ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষের মনেপ্রাণে অন্যরকম আনন্দ-আবেগ জাগ্রত হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও লোহাগড়ায় কোনো স্মৃতিসৌধ নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৩ মে লোহাগড়ার ইতনা গ্রামে মুক্তিকামী ৩৯ জনসহ ৫৬ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা করে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে কোনো স্মৃতি রক্ষা করা হয়নি। ইতিহাসের এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় স্থান পেয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের কবর, কোনো বধ্যভূমি ও স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়নি। শহীদদের নাম ফলক না থাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধাসহ লোহাগড়াবাসীর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ গণকবরগুলো চিহিৃত করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএম গোলাম কবির বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীণ সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। নকশালদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি উপজেলায় স্মৃতিফলক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা আলোরমুখ দেখেনি। বতর্মান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছেন। আশা করি আগামীতে সব শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, স্মৃতিফলক স্থাপন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর