Alexa স্মার্ট মেয়েদের নিয়োগ অতঃপর মাদক চোরাচালান

ঢাকা, রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

স্মার্ট মেয়েদের নিয়োগ অতঃপর মাদক চোরাচালান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৮:১১ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৮:১১ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

র‌্যাবের অভিযানে আটক ব্যক্তিরা ‘স্মার্ট মেয়েরা’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দিয়ে বায়িং হাউজে নিয়োগ দিয়ে পরে মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করা হতো। পারদর্শী হয়ে ওঠলে এই স্মার্ট মেদের মাদক পাচারে বিদেশ পাঠানো হতো।

সোমবার রাজধানীর বিমানবন্দরের পাশে কাউলায় থেকে এমনই একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের তিন নারীসহ ৫ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচাল কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান।

আটককৃতরা হলেন, ফাতেমা ইমাম তানিয়া, আফসানা মিমি, সালমা সুলতানা, শেখ মোহাম্মদ বাধন ওরফে পারভেজ, রুহুল আমিন ওরফে সায়মন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৭০ টি ইয়াবা, বৈদেশিক মুদ্রা ও পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব পরিচালক বলেন, টাস্কফোর্সের অভিযানে গত ১২ জানুয়ারি উত্তরা থেকে চয়েজ রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পর ছায়াতদন্তে মাঠে নামে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জনকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, গেল বছর ডিসেম্বরে শ্রীলংকার কলম্বোতে বিশেষ অভিযানে মো. জামাল উদ্দিন ও রাফিউল ইসলাম নামক দুই বাংলাদেশিকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন উদ্ধার করে শ্রীলংকার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। এ ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই ৩২ কেজি হেরোইনসহ সূর্যমণি নামে অপর এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। এক মাসের মধ্যেই এত বিপুল পরিমানে হেরোইন ও কোকেনসহ বাংলাদেশি গ্রেফতারের ঘটনায় দেশে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চয়েজ রহমানকে আটক করে টাস্কফোর্স। 

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ৫জন স্বীকার করেছে তারা সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক মাদকপাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য। বাংলাদেশে তাদের প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. আরিফ উদ্দিন। তার আল-আমিন ফ্যাশন বায়িং হাউস নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ব্যবসার নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মেয়েদের নিয়োগ দেয়া হতো। এই ব্যবসার আড়ালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে মাদকের ব্যবসা করতেন। তার এই সিন্ডিকেটে ১৫ থেকে ২০ জন যুক্ত রয়েছ। 

জিজ্ঞাসবাদে আটককৃতরা আরো জানায়, আরিফ, রেহানা ও আটক রুহুল আমিন রিক্রুটিং (নিয়োগ) করত। রিক্রুটিংয়ে মূলত স্বল্প শিক্ষিত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্মার্ট মেয়েদেরকে প্রাধান্য দেয়া হতো। প্রথম ব্যবসার কাজে নিয়োজিত করলেও বিশস্ত হয়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন এলাকা তাদেরকে দিয়ে মাদক সংগ্রহ, সরবরাহ কাজে ব্যবহার করা হতো। পারদর্শী হয়ে উঠলে তাদেরকে বিদেশে মাদক পাচার কাজে পাঠানো হত ওই মেয়েদের। তাদের মাদক সিন্ডিকেটের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায় নেটওয়ার্ক রয়েছে। মাদক পরিবহনে তারা বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে।

আসামি আরো জানায়, শরীয়তপুরের মেয়ে আটক ফাতেমা ২০১৬ সালে এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়। যুক্ত ওয়ার পর তিনি দুইবার ভারতে, তিনবার চীন, ৮ থেকে ১০ বার মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেছেন। শ্রীলংকায় মাদক ব্যবসার জন্য তাদের ৪টি ভাড়া বাসা রয়েছে। আটক অন্যরাও মাদক পাচারে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তবে ফাতেমা সবচেয়ে বেশিবার বিদেশে গেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/ইএ/এমআরকে