Alexa স্বাস্থ্য কর্মকর্তার টাকার ক্ষুধা!

ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার টাকার ক্ষুধা!

এমাদুল হক শামীম, শরণখোলা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৩ ২ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাগেরহাটের শরণখোলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জামাল হোসেন শোভনের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অপ্রয়োজনে বাড়তি টেস্ট, অর্থের বিনিময়ে সাক্ষর দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ বছরের মে মাসে ডা. জামাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই রোগীদের জিম্মি করে এসব অনিয়ম করে আসছেন। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট দেখা দিলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ করছেন না তিনি।

জানা গেছে, ডা. জামাল হোসেন শোভন বিভিন্ন অজুহাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না এসে ৩৫০ টাকা ফি’র বিনিময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন। এ কারণে উপজেলার দুই লাখ মানুষ সেবা নিতে সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর দিকে ঝুঁকছে।

রোগীদের অভিযোগ, ডা. জামাল নিজেই অহেতুক বাড়তি টেস্ট দিয়ে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে পাঠান। টেস্টের ফি’র ৬০ ভাগ টাকা যায় তার পকেটে। বাকি অংশ নেয় ক্লিনিক মালিকরা। এছাড়া কেউ তার কাছে কোনো সার্টিফিকেট কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজ সত্যায়িত করাতে গেলে তিনি টাকা দাবি করেন।

উপজেলার খাদা গ্রামের দিনমজুর হেমায়েত উদ্দিন জানান, তার ছেলে আল-আমিনের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করবেন। এজন্য কাগজপত্র সত্যায়িত করাতে গেলে ডা. জামাল তার কাছ থেকে ছয়শ টাকা নিয়েছেন।

দক্ষিণ তাফালবাড়ীর গৃহিণী রাহিমা বেগম বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ সত্যায়িত করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তিনশ টাকা চেয়েছিলেন। আমি টাকা না দেয়ায় তিনি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে আমাকে বের করে দেন।

হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, এই স্যারের মতো টাকার ক্ষুধা আর কারো দেখিনি। তিনি নানা অজুহাতে অফিস ফাঁকি দেন। হাসপাতালের চেয়ে বেশি সময় প্রাইভেট চেম্বারে কাটান। হাসপাতালে রোগী এলে তাদের নিজের ক্লিনিকে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তিনি একচেটিয়া বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, ডা. জামাল সরকারি হাসপাতালের অপারেশোনের কিছু যন্ত্রপাতি নিজের ক্লিনিকে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। এমনকি তার নামে হাসপাতালের কয়েকজন নার্স নরমাল ডেলিভারির রোগীদের কাছ থেকে ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে।

অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জামাল হোসেন শোভন বলেন, আমি কারো সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করি না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দুর্নাম রটানো হচ্ছে। এসব অভিযোগ মনগড়া।
 
ডেইলি বাংলাদেশ/এআর