Alexa স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি অসুস্থ

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি অসুস্থ

শাহজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

৩০ শয্যা দিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। লাকসামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোকের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩১ শয্যা থেকে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। জনবলসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করায় নানান সমস্যায় ডুবে আছে এখানকার চিকিৎসা সেবা। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

২০০৯ সালে ৫০ শয্যায় উন্নতি করলেও জনবল বাড়েনি একজনও। তার উপর বিদ্যমান পদগুলোর মধ্যে অধিকাংশ পদই শূন্য রয়েছে। ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টিটিভ ও দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নিজেই নিজেই এখন অসুস্থ। 

চিকিৎসক সংকটের জন্য কয়েকজন ডাক্তার বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে প্রতিনিয়িত হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের পক্ষে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা কর্মরত আছেন তারাও নিয়মিত কর্মস্থলে থাকছেন না। এমনকি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেই চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ও সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। প্রসবজনিত সমস্যাসহ অপারেশনের রোগীদের শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের রোগীরা আর্থিক সংকটসহ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এখানে শুধুমাত্র বহির্বিভাগেই প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাছাড়া ৬০ থেকে ৭০ জন মা ও শিশু ভ্যাকসিন সেবা নিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বের হলে বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ঘিরে ধরেন। তারা মোবাইলে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছেন। এতেও রোগীরা অতীষ্ট হয়ে পড়লেও বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছে না।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনিষ্ট সেন্টারের বা ক্লিনিকের দালালদের উৎপাতও চোখে পড়ার মত। হাসপাতালে নেই এমন পরীক্ষা নিজের কাছে নেওয়ার জন্য একাধিক ডায়াগনিষ্ট সেন্টারের দালালরা রোগীদের টানা হেচকরা করার ও অভিযোগ রয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্রানুযায়ী, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তার ২৬টি পদের মধ্যে ১৬টিই শূন্য। মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন রোগ, চক্ষু, অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদগুলো শূন্য থাকায় রোগী সাধারণ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। ডেন্টাল সার্জনের পদও শূন্য। ১২ জন মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জনের জায়গায় চারজন অফিসিয়ালি কর্মরত থাকলেও একজন দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ ডাক্তার ও এসএসএমওগণ কোনোমতে রোগীদের সেবা দেয়ার কাজ চালাচ্ছেন।

এদিকে, প্রধান সহকারীসহ কর্মচারীদের ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ক্যাশিয়ার, ভান্ডার রক্ষক, তিনজনের মধ্যে দুইজন ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট, তিনজন ফার্মাসিস্ট, কম্পাউন্ডার, কার্ডিওগ্রাফার, ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট, বাবুর্চি, মশালচি, তিনজন ওয়ার্ডবয়, দুইজনের মধ্যে একজন আয়া, মালি, দুইজন নিরাপত্তা কর্মীর একজন ও পাঁচ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে চিকিৎসক সংকট কাটবে। কিন্তু পুরো জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর প্রায় এক হাজার পদ খালি রয়েছে। এ পদগুলো পূরণে একটু সময় লাগবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, চিকিৎসকসহ জনবল এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও জনবলসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই এসব পদে নিয়োগ দেয়া হবে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে আমরা সঠিকভাবে রোগীদের উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস