Alexa স্বার্থ হাসিলেই মিথ্যাচার করেছেন ‘কুচক্রী’ প্রিয়া

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

স্বার্থ হাসিলেই মিথ্যাচার করেছেন ‘কুচক্রী’ প্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৪ ২০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২০:০২ ২০ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা রয়েছে বলে এবার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তার নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা এই অভিযোগই করেছেন।

তারা অভিযোগ করে বলেছেন, এলাকার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। এই সহবস্থান নষ্ট করার জন্যই ট্রাম্পের কাছে এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ‘কুচক্রী’ প্রিয়া সাহা।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে বহুদিন ধরেই হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিল। সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককেও আসামি করে হয়রানি করেছেন প্রিয়া সাহা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক হিন্দু নেতা অভিযোগ করে বলেন, মামলার কারণে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে রাতের বেলায় পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয় কুচক্রী প্রিয়া সাহা।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নাজিরপুরের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের জানান, প্রিয়া সাহা আমার নির্বাচনী এলাকার মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে নিজ দেশ, নিজের এলাকা সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছেন। এটা চরম অন্যায় ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। আর পিরোজপুরের নাজিরপুরসহ এ জেলার মুসলমান, হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছেন। যা একটি অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, নাজিরপুর বা পিরোজপুর জেলার কোনো হিন্দু বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের লোক গুম বা নিখোঁজ হয়নি। প্রিয়া সাহার বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নষ্টের উসকানিমূলক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এদিকে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, প্রিয়া সাহা তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করছেন। এই বিরোধের জেরে চলতি বছরের প্রথম দিকে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত বাড়িটিতে আগুন দেয়ার ঘটনা রহস্যজনক।

তিনি আরো বলেন, প্রিয়া সাহা তার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশে গিয়ে এমন উসকানিমূলক কথা বলেছেন। এতে নাজিরপুরের ভামমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। নাজিরপুরে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান বহুদিন ধরে সহাবস্থানে বসবাস করছে।

পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এ ধরণের একটি উদ্ভট মিথ্যাচার করবেন ভাবতেও পারিনি। প্রিয়া সাহা কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এভাবে মিথ্যাচার করেছেন তাও আমাদের বোধগম্য নয়। পিরোজপুরে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন ভালো রয়েছে। এখানে কোনো হিন্দু বা সংখ্যালঘু গুমের ঘটনাও নেই।

এছাড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা কথা বলেছেন। তার এ মিথ্যায় পিরোজপুরসহ দেশের সব ধর্মের লোকজনকে অপমানিত হয়েছে। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এর মূলে রয়েছে প্রিয়া সাহা। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত এসপি মোল্লা আজাদ বলেন, পিরোজপুর জেলার কোথাও প্রিয়া সাহার কোনো অভিযোগ নেই। জেলার পুলিশ প্রশাসন সাম্প্রদায়িক যে কোনো বিষয়কে সব সময়ই গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নাজিরপুর উপজেলায় বা পিরোজপুর জেলার কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে কেউ চেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করবে। দেশের বাইরে যে কোনো নাগরিকের উচিত দেশের বিষয়ে ভেবে-চিন্তে কথা বলা।

প্রসঙ্গত, প্রিয়া সাহা ‘শারি’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নির্বাহী পরিচালক। সংস্থাটি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে। এ সংস্থা পরিচালিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক প্রিয়া সাহা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে প্রিয়া বিশ্বাস। তার শ্বশুরবাড়ি যশোরে। স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতরে সহকারী উপ-পরিচালক। ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকেন। তাদের দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর


 

Best Electronics
Best Electronics