স্বামী হত্যায় আটক স্ত্রীর লোমহর্ষক বর্ণনা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

স্বামী হত্যায় আটক স্ত্রীর লোমহর্ষক বর্ণনা

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় স্ত্রী সামিরা আক্তারসহ দুই জনকে আটক করেছে র‌্যাব। রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকা থেকে সোমবার রাতে তাদেরকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১ স্পেশালাইজড কোম্পানি পোড়াবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, রাজধানীর দক্ষিনখান থেকে নিহতের স্ত্রী সামিরা আক্তার ও শ্বশুর মো. আলী হোসেনকে সোমবার রাতে আটক করা হয়েছে।  

এর আগে গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রশিকার মোড় এলাকায় বহুতল ভবন থেকে তোষকে মোড়ানো ঝলসানো আব্দুর রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত আবদুর রহমানের স্ত্রী সামিরা জানায়, রহমান পেশায় একজন জমির ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবদুর রহমান তার এক ব্যবসায়ী পার্টনার রতন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন কাজে লিপ্ত করে।  

সামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে ধারালো দা দিয়ে স্বামী আবদুর রহমানের গলাকাটে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে রাখে। এরপর মরদেহ যেন চেনা না যায় তার জন্য মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়। হত্যার পর তিন দিন ওই বাসায় অবস্থান করে মরদেহ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায় সামিরা।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ খান এলাকায় তার চাচার বাসায় আত্মগোপন করে। অবশেষে র‌্যাব তাদেরকে রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিরা খুনের ঘটনার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সামিরা ও আবদুর রহমানের বাড়ী গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায়। 
 
২০১৬ সালে আবদুর রহমার তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বসবাস করেন। পূর্ব পরিচিতি থাকার কারণে আবদুর রহমানের টঙ্গী বাসা  থেকে সামিরা ডিগ্রি পরীক্ষা দেন।

সেই সুবাদে সামিরাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় আ. রহমান। সে সামিরাকে কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তার টঙ্গীর বাসায় ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও ও হত্যার ভয় দেখিয়ে সে সামিরাকে বারবার ধর্ষণ করে। 

ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় সামিরার প্রথম স্বামী তাকে ডিভোর্স দেয়। তারপর থেকে সামিরা শ্রীপুর নয়নপুর এলাকায় একটি ওষুধের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। 

গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সামিরাকে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন আবদুর রহমান। পরে তাকে নিয়ে শ্রীপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন। বিয়ের পর থেকে আ. রহমান ব্যবসায়িক স্বার্থে, কখনো টাকার বিনিময়ে তার পাটনারদের সঙ্গে স্ত্রী সামিরাকে যৌন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করত। এইসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সামিরা স্বামী আ. রহমানের কাছে ডিভোর্স চাইলে সে সামিরাসহ তার মা-ভাইকে খুন করার হুমকি দেয়। 

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামিরা তার স্বামীকে খুন করে। মঙ্গলবার সামিরাকে গাজীপুর শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৩ টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা কেওয়া পশ্চিম খন্ড (প্রশিকা মোড়) এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে আবদুর রহমানের ঝলসানো গলাকাঁটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

ভবনের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত এক মাস আগে ভবনটির ২য় তলায় সামিরা ও তার স্বামী রহমান দম্পতি ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গত ৪/৫ দিন ধরে তাদের রুমের দরজায় তালাবদ্ধ ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের মালিক শ্রীপুর থানায় ও গাজীপুর র‌্যাবকে অবহিত করেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে