স্বামীর কাছে যেতে চাওয়ায় ভারতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

স্বামীর কাছে যেতে চাওয়ায় ভারতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:১১ ১ জুন ২০২০   আপডেট: ০৭:১৩ ১ জুন ২০২০

ডিবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার আবুল কাশেম

ডিবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার আবুল কাশেম

স্বামীর কাছে যেতে চাওয়ায় ভারতে নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকাকে হত্যা করেন আবুল কাশেম। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

রোববার যশোর পুলিশের মুখপাত্র অ্যাডিশনাল এসপি তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে ৩০ মে ভোরে ঢাকার পল্লবী থেকে কাশেমকে গ্রেফতার করে যশোর ডিবির একটি দল। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও তার পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আসমা ইসলাম যশোর শহরের পুরাতন কসবা আরবপুর পাওয়ার হাউজপাড়ার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী। গ্রেফতার কাশেম শহরের পুরাতন কসবা গাজীরঘাট রোড এলাকার বশির মিয়ার ছেলে।

অ্যাডিশনাল এসপি তৌহিদুল ইসলাম জানান, পরকীয়ার কারণে ২০১৩ সালে আসমাকে তালাক দেন স্বামী শাহানুর। এরপর থেকে তিনি নওদাগ্রামের মঞ্জু নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে থাকতেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান আসমা ও তার খালা মনোয়ারা বেগম। তারা সে দেশের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয়ে একটি হোটেলে (শ্যামাপ্রসাদ লজ) ওঠেন। সেখানেই আসমার সঙ্গে প্রেমিক কাশেমের দেখা হয়। এরপর কাশেম তাকে শপিং করতেও নিয়ে যান। পরদিন সকালে হোটেলের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আসমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বনগাঁ থানায় একটি মামলা হয়।

এদিকে আসমার স্বজনরা বনগাঁ থানা থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাশেমের বিরুদ্ধে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন দাখিল করেন নিহতের ভাই আজিম উদ্দিন। পরে আদালতের নির্দেশে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি ১৪ মে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন যশোরের এসপি।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সোমেন দাসের নেতৃত্বে ৩০ মে ভোরে ঢাকার মিরপুর পল্লবী বাউনিয়াবাদ বস্তি বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তারা কাশেমকে গ্রেফতার করেন। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঢাকার মানিকনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসমার সঙ্গে প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন কাশেম। কিন্তু তালাক দেয়ার কয়েক বছর পর শাহানুরের সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চান আসমা। এ সিদ্ধান্ত নেয়ায় কাশেম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। একপর্যায়ে কৌশলে ভারতে নিয়ে হত্যা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর