স্বামীর আনুগত্যের সুফল ও অবমাননার কুফল (পর্ব-১)

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

স্বামীর আনুগত্যের সুফল ও অবমাননার কুফল (পর্ব-১)

নিলুফার ইয়াসমিন জান্নাত ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২২ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্বামীই নারীর জান্নাত জাহান্নাম-প্রতীকী ছবি

স্বামীই নারীর জান্নাত জাহান্নাম-প্রতীকী ছবি

যেসব নারী মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে তাদের উচিত আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও স্বামীর আনুগত্য করা এবং স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টায় ব্রতী হওয়া। 

স্বামীই তার জান্নাত এবং স্বামীই তার জাহান্নাম। কেননা নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে নারী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরণ করেছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

হাদিস শরিফে আছে,‘কোনো নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজান মাসের রোজা রাখে এবং স্বামীর আনুগত্য করে সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে তার ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।’ (আহমাদ)।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, স্বামীর জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও অনুগত নারীর জন্য শূন্যমণ্ডলে বিচরণশীল পাখি, পানির মাছ, আকাশের ফেরেশতা, চাঁদ-সুরুজ সবাই মাগফিরাত (ক্ষমা) কামনা করে যতক্ষণ পর্যন্ত সে স্বামীর আনুগত থাকে। আর যে নারী স্বামীর অবাধ্য হয় তার ওপর আল্লাহ তায়ালা, ফেরেশতারা ও গোটা মানবজাতি অভিশাপ বর্ষণ করেন। যে নারীর আচরণে স্বামীর চেহারায় অসন্তুষ্টির কালোছায়া নেমে এসেছে, সে যতক্ষণ তার স্বামীর মুখে হাসি ফোটাতে না পারবে এবং সন্তুষ্ট করতে না পারবে ততক্ষণ সে আল্লাহর রোষানলে থাকবে। যে নারী স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার ঘর থেকে বের হবে, না ফেরা পর্যন্ত  তার ওপর ফেরেশতা অভিশাপ দিতে থাকে। 

রাসূলুল্লা (সা.) আরো বলেছেন, চার প্রকারের নারী জান্নাতে যাবে এবং চার প্রকারের নারী জাহান্নামে যাবে। যারা জান্নাতে যাবে তারা হলো- ১. যে সতী-সাধ্বী নারী আল্লাহ এবং তার স্বামীর অনুগত, ২. বহু সন্তান বিশিষ্ট, ধৈর্যশীলা এবং স্বামী যা কিছু দিতে পারে তা নিয়েই সন্তুষ্ট, ৩. লজ্জাশীলা এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে এবং তার ধন-সম্পদকে হেফাজত করে এবং স্বামী উপস্থিত হলে নিজের জিহ্বাহকে সংযত করে এবং ৪. যে নারী তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার কচি কচি সন্তানদের  লালান-পালনের উদ্দেশ্যে  নিজেকে বিবাহ থেকে বিরত রাখে এবং নিজের সতীত্ব হেফাজত করে।

যে চার নারী জাহান্নামে যাবে- ১. যে নারী স্বামীর সঙ্গে কর্কশ ব্যবহার করে এবং অশ্লীন কথা বলে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে সংযত ও পবিত্র রাখে না এবং স্বামী উপস্থিত হলে কথা দিয়ে কষ্ট দেয়, ২. যে নারী তার স্বামীকে তার ক্ষমতার বাইরে কিছু করার জন্য বাড়াবাড়ি করে, ৩. যে নারী পুরুষের নিকট হতে পর্দা করে না এবং বেপর্দা অবস্থায় এবং অর্ধনগ্ন দেহে ঘর হতে বের হয় এবং ৪. যে নারী পানাহার ও বিশ্রাম ছাড়া অন্য কোনো কাজে আগ্রহী নয় এবং নামাজ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং স্বামীর আনুগত্যের প্রতি আগ্রহশীল নয়।

সুতরাং যে সমস্ত উপরোল্লিখিত স্বভাবের হবে এবং স্বামীর অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছায় বাইরে ঘোরাফেরা করবে সে আল্লাহর কাছে তওবা না কার পর্যন্ত জাহান্নামী, অভিশপ্ত থাকবে।  রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম যে, এর অধিকাংশ অধিবাসী হলো নারী। এর কারণ হলো- আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূল ও তাদের স্বামীদের প্রতি তাদের আনুগত্যের মাত্রা হলো অত্যন্ত কম এবং তারা অধিক পরিমাণে তাবাররুজ (খোলামেলা অবাধ মেলামেশা) করে থাকে। তাবাররুজ করার মানে হলো নারীদের বাইরে যাবার উদ্দেশ্যে গৌরবমন্ণ্ডিত দামী পোশাক পরিধান করা, সৌন্দর্য চর্চা ও সাজ-সজ্জা গ্রহণ কা, প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহার করা এবং অন্যদের আকর্ষিত করার জন্য বেরিয়ে পড়া যদিও সে নিরাপদে ফিরে আসে কিন্তু সে মানুষকে নিরাপদে থাকতে দেয় না। তাইতো নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নারীরা হলো গুপ্তধন। যখন তারা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে শয়তান তাদেরকে দখল করে নেয়।’

নারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মনোনীত ও উপযুক্ত স্থান হলো ঘর। হাদিস শরিফে আছে- নারীরা হলো গুপ্তধন (গোপনীয় বস্তু)। কাজেই তাদের ঘরে অবস্থান করতে দাও। কেননা নারীরা যখন রাস্তায় বের হয় তখন তার পরিবারের লোকেরা বলে-তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলে আমি রোগাক্রান্তকে শুশ্রুষা করে আসি। জানাযজায় অংশগ্রহণ করে আসি। অতঃপর শয়তান তার সাথী হয় এবং ঘর থেকে বের করে ছাড়ে। নারীরা ঘরে অবস্থান করেই আল্লাহর ইবাদত করলে এবং স্বামীর সেবাযত্ন করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন।

হজরত আলী (রা.) তার স্ত্রী ফাতিমা (রা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে ফাতিমা! নারীদের জন্য উত্তম কি? তিনি বললেন, তারা কোনো পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করবে না এবং কোনো পুরুষও তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না। হজরত আলী (রা.) আরো বলেছেন, তোমরা কি লজ্জাবোধ করো না, তোমরা কি ঘৃণাবোধ করো না যে, তোমাদের মধ্য থেকে কোনো লোক তার স্ত্রীকে পুরুষদের মাঝে ছেড়ে দেবে এবং সেও পুরুষদের দেখবে এবং পুরুষরাও তাকে দেখবে।

একবার হজরত আয়েশা (রা.) এবং হজরত হাফসা (রা.) নবী করিম (সা.) এর কাছে বসেছিলেন। এমন সময় হজরত আব্দুল্লা ইবনে মাকতুব (রা.) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। তখন নবী করিম (সা.) বললেন, তোমরা দু‘জন তার থেকে পর্দা করো। তারা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি তো অন্ধ। তিনি তো আমাদের দেখতে পান না এবং আমাদেরকে চিনতেও পারবেন না? তিনি জবাবে বললেন, তোমরা দু‘জন তো অন্ধ নও, তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না? (আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী)।

পুরুষরা যেমন নারীদের দেখলে চোখের দৃষ্টি নিচের দিকে অবনমিত করবে তেমনি নারীদেরকেও পুরুষদেরকে দেখলে দৃষ্টি অবনমিত করতে হবে। যেমন ইতিপূর্বেও এ সম্পর্কে হজরত ফাতিমা (রা.) এর বাণী উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, নারীদের জন্য মঙ্গলজনক হলো তারা কোনো পুরুষদের দিকে তাকাবে না এবং পুরুষরা তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না। যদি কোনো নারীর মাতা-পিতাকে অথবা আত্নীয়-স্বজনকে দেখতে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে অথবা হাম্মান খানায় যেতে হয় তাহলে স্বামীর অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। তবে 
সে সাজগোজ করে এবং প্রসাধনী ব্যবহার করে বের হতে পারবে না। আর তখনও সাধারণ পোশাকের ওপর বড় চাদর বা ওড়না দ্বারা আবৃত হয়ে বের হতে হবে। চলার সময় সে তার নিজের চোখ নিচের দিকে রাখবে এবং ডানে-বামে তাকাবে না, অন্যথায় সে গুনাহগার হবে।

বর্ণিত আছে যে, এক নারী পর্দা করতো না এবং সেজেগুজে নিজেকে প্রদর্শন করে বেড়াতো। সে মারা গেলে তার এক আত্নীয় স্বপ্ন দেখলো যে, তাকে মিহি কাপড় পড়া অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। তারপর বাতাস প্রবাহিত হলো এবং তার কাপড় উড়িয়ে নিয়ে গেল। আল্লাহ তায়ালা তখন তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, একে নিয়ে বাম দিকের জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। কেননা সে দুনিয়াতে বেপর্দা অবস্থায় এবং সাজগোজ করে ঘুরে বেড়াতো।

হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি এবং ফাতিমা (রা.) নবী করিম (সা.) এর নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি খুব কান্নাকাটি করছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কোরবান হোক। আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, হে আলী! ‘যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছে এবং আমাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে রাতে আমি আমার উম্মতের বহু নারীকে নানা প্রকার আজাব ভোগ করতে দেখেছি। তাদের কঠোর আজাব দেখে আমি কেঁদে দিয়েছি। এক নারীকে তার চুল দ্বারা বেঁধে লটকানো অবস্থায় দেখেছি এবং তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছিল। আর এক নারীকে তার জিহ্বা দ্বারা লটকনো অবস্থায় দেখেছি এবং তার মুখের ভেতরে গরম পানি ঢালা হচ্ছিল।  অন্য এক নারীকে দেখলাম তার পা স্তনের সঙ্গে এবং হাত কপালের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। অপর এক নারীকে তার স্তন দ্বারা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় দেখতে পেলাম। অপর এক নারীকে দেখলাম তার মাথা শূকরের মতো এবং দেহ গাধার মত, তার ওপর রয়েছে হাজারো প্রকার আজাব। অপর এক নারীকে কুকুরের আকৃতিতে দেখলাম। আগুন তার মুখ দিয়ে ঢুকে গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরুচ্ছে এবং ফেরেশতারা আগুনের হাতুড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করছে। চলবে...

সংগ্রহে: প্রিয়ম হাসান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে