Alexa স্বপ্ন ড্রাগনে

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

স্বপ্ন ড্রাগনে

 প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ৮ জুন ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সফলতা পাওয়ায় শেরপুরের নকলার চাষিরা এখন ড্রাগন ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন।

এরইমধ্যে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন। চলতি মৌসুমে প্রতিটি ড্রাগন গাছে ফুল আসায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। গাছে ফুল দেখে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন ওইসব চাষি পরিবারের সদস্যরাও। স্বপ্নপূরণের আশায় ড্রাগন গাছ ও ফুলে নিয়মিত ঔষধ স্প্রে করাসহ নানা রকমের পরিচর্যাও বাড়ানো হয়েছেন। চার বছর আগে এ উপজেলার বানেশ্বর্দী গ্রামে ছোট আকারে ড্রাগন চাষ শুরু করেন কয়েকজন চাষি। সম্ভাবনা দেখে স্বাবলম্বী হতে বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন এলাকার শতাধিক প্রান্তিক চাষি। কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টাতেই ড্রাগনফল এদেশে আমদানি করা সম্ভব হয়েছে। যার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, ক্যাকটাস গোত্রের এই ফলের চাষ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে জামালপুর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে এবং নকলা কৃষি অফিস প্রাথমিকভাবে উপজেলার বানেশ্বর্দী ও চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের ৩২০ জন কৃষকের মাঝে ড্রাগনের কাটিং করা চারা বিনামূল্যে বিতরণ করে।

ছোট মোজারের গ্রামের মোসা শেখ, আবু বাক্কার, বানেশ্বর্দীর চুন্নু মিয়া, মিরাজ আলী ও আজিজুল হক বলেন, তিনবছর যাবত নিয়মিত ফুল-ফল আসায় তারা লাভবান হয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার তারা কেউ ৫০ শতাংশ বা কেউ ১শ’ শতাংশ জমি নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগনফল চাষ শুরু করেছেন। তাদের বাগানে প্রা দুইশতাধিক ড্রাগন গাছ রয়েছে বলে তারা জানান।

চলতি মৌসুমে প্রথম বারের মতো মোজার বাজারের কিতাব আলী, পোলাদেশী গ্রামের আব্দুল হালিম, সাজু ও আকাব্বর আলী বলেন, গাছে ফুল আসায় আমরা খুব খুশি। এখন নিজেরাই কাটিং করে ড্রাগনফলের চারা তৈরি করতে পারছি। নিজেদের জমিতে রোপন করে অতিরিক্ত প্রতিটি চারা ৩শ’ থেকে ৫শ’৫০ টাকা করে বিক্রি করা যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। বিক্রির জন্য তারা প্রায় এক হাজার চারা তৈরি করেছেন বলে জানান।

চাষি আবু হাসমত, দুলাল মিয়া ও আহমেদ আলী বলেন, স্বল্প জায়গায় নামমাত্র শ্রমে প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তারা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে ড্রাগনফলেই কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন করা যাবে।

বানেশ্বর্দী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসমাতুন জাহান পলাশী বলেন, আমি নিজেও ড্রাগনফল চাষী। এ ফল চাষের সফলতা বিবেচনা করে আমার পূর্বের কর্মস্থল উপজেলার ভূরদী এলাকায় ড্রাগন ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার ২৫ জন কৃষকের মাঝে ড্রাগন গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ওই সংস্থার হেলাল, বেলাল, ঈসমাইল ও কামালসহ আরো অনেকেই চারা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে রোপন করেছে। এছাড়া বানেশ্বর্দী, মোজারকান্দা, ছোটমোজার ও পোলাদেশী গ্রামের অর্ধশতাধিক চাষির ড্রাগন গাছে সাদা-হলুদাভ বর্ণের দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য ফুল ঝুলছে। যার পরিচর্চায় নিয়োজিত আছেন চাষিরা। আর তাদের চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। ড্রাগনফুল রাতে ফোটে, তাই একে নাইট কুইনও বলা হয়।

কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, পুষ্টিমান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বিবেচনায় এ ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিনই বাড়ছে।

তিনি জানান, প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা গেলেও, বেলে দোঁ-আশ মাটি ড্রাগনফল চাষের জন্য উত্তম। চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় জুন-জুলাই মাস। ফুল আসে এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আর ফল পাঁকা শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। বাণিজ্যিকভাবে নকলায় বাউ ড্রাগন-১ ও বাউ ড্রাগন-২ চাষ হচ্ছে। তবে হলুদ ও কালচে লাল ড্রাগন ফলও এদেশে চাষ করা সম্ভব।

এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, নকলার মাটি ড্রাগনফল চাষের জন্য উপযোগী। তাই কৃষকদের ড্রাগনফল চাষে আগ্রহী করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন নিয়মিত। এখন চাষিরা ড্রাগনফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আঙ্গিণা ও অনাবাদি জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে যেকেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টাতেই ড্রাগনফল এদেশে আমদানি করা সম্ভব হয়েছে। যার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরঅার

Best Electronics
Best Electronics

শিরোনাম

শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৫ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩