স্বপ্ন ডানায় ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ 

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

স্বপ্ন ডানায় ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ 

 প্রকাশিত: ১৫:২৭ ২৭ মার্চ ২০১৯  

১৯৯২ সালের ৫ মার্চ গোপালঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রনি রেজা। প্রকৃতির রূপবৈচিত্রে ঘেরা গ্রামটিতেই তার বেড়ে ওঠা। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করা হলে বাংলা সাহিত্যে রয়েছে বিশেষ ঝোঁক। ছাত্রজীবনে দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে লিখতেন ফিচার, প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা। সে থেকেই যোগাযোগ গণমাধ্যমের সঙ্গে। একসময় এই সাহিত্যের গলি বেয়েই ঢুকে পড়েন সাংবাদিকতায়। দৈনিক ভোরের পাতা, সংবাদ প্রতিদিন, যমুনানিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম ও আজকের বাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন সহ-সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে। বর্তমানে ডেইলি বাংলাদেশর মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অব্যাহত রেখেছেন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি।

শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পারি আমরা। ছিনিয়ে আনতে পারি সফলতার সূর্য। শক্তি আমাদের একটাই। স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে পারি বলেই একাত্তরে হিংস্র পাক বাহিনীর বিপক্ষে নিরস্ত্র বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিল। সেই স্বপ্ন ডানায় ভর করেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে যে দেশ আমরা অর্জন করেছিলাম। আজ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সে দেশ বিশ্বের বিস্ময়। একের পর এক উন্নয়নে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক দূর। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনের শ্লোগান ছিল ‘ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত ১০ বছরে চোখে পড়ার মতো অনেক উন্নয়ন আমরা করেছি। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে উন্নয়ন হয়।’ যথার্থই বলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।  আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ নানা বিশ্ব সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রশংসা করছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে আইএমএফ এর মূল্যায়ন, যেভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য দূর এবং বৈষম্য কমানোকে সংযুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ দেয়ার মতো একটি দেশ।

২০১৪ সালেই বিশ্বব্যাংক একটি টেবিল উপস্থাপন করে দেখিয়েছিল, প্রধান ১২টি সূচকের মধ্যে ১০টিতেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর দারিদ্রসীমার নিচে ছিল ৯২ শতাংশ মানুষ। আর মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ছিল ১০০ ডলার। সময়ের ব্যবধানে এখন অনেক দূর এগিয়েছে দেশ। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ সালে নিম্নআয়ের দেশগুলোতে গড় মাথাপিছু আয় ছিল ৫২৮ ডলার। আর দক্ষিণ এশিয়ার গড় আয় এক হাজার ১৭৬ ডলার। সে সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ২৪ ডলার।

তিন বছরের মাথায় এখন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ ডলার। সাফল্য আছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারেও। বাংলাদেশে এখন এই হার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ আর দক্ষিণ এশিয়ার গড় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই গড় অনেক বেশি, ২ দশমিক ১ শতাংশ। স্বাধীনতার ঠিক পরেই দেশের মানুষ গড়ে বেঁচে থাকত ৪৬ বছর, এখন সেই গড় ৭১ বছর। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার গড় হচ্ছে ৬৫ বছর। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি স্কুলে যায় এই বাংলাদেশেই। বাংলাদেশ কেবল পিছিয়ে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে। মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৬ শতাংশের বাধা অতিক্রম করে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলারে।  স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তকমা ঝেড়ে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণের তিনটি পূর্বশর্ত পূরণ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের স্বীকৃতি আদায় করেছে। ব্যক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির সুবাদে সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারেই বেড়েছে। অবকাঠামোসহ নানা খাতে সরকার প্রতি বছর ব্যয় করছে লাখ কোটি টাকার বেশি। এক সময় খাদ্য চাহিদা পূরণ ও বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশিদের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর খাদ্যসহায়তা নেয় না। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলছে। মহাকাশে পৌঁছেছে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট। এছাড়া অর্থায়নের অভাবে ১৯৬৪ সাল থেকে আটকে থাকা রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ এরইমধ্যে এগিয়েছে বহুদূর। আর্থিক খাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেকটা সফলতা দেখাচ্ছে সরকার। শুধু শেখ হাসিনা বা দেশের মানুষই নয়; একথা স্বীকার করছে পুরো বিশ্ব।  সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়, এমনিক ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানের চেয়েও ভালো। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য দেখতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ২০১৬ সালের বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন করেন এ দেশে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এই উন্নয়ন এখন বিশ্বস্বীকৃত। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর সামনে রেখে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার কর্মসূচী ‘রূপকল্প ২১’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। বাংলাদেশের এই অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় পৌঁছাতে একটি ভিশন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার হাঁটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এগিয়েছে বিদ্যুৎ খাতও। সা¤প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্প ঘিরেই আগামীতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তিন বছরের মধ্যেই ৮ শতাংশের ঘরে উঠবে প্রবৃদ্ধি। নতুন বছর ঘিরে এমনটা প্রত্যাশা করছেন সবাই। ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাস। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপ দেয়ায় তারা অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাবে বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ এখন কর্মক্ষম। ২০২২ সালে কর্মক্ষম মানুষের হার ৬৯ শতাংশে উন্নীত হবে।  অপরদিকে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। বিপুল জনশক্তির কর্মের নিশ্চয়তা দিতে অবকাঠামো উন্নয়নে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। 

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের অবকাঠামো। অবকাঠামো খাতে বেশ বড় কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পের কাজ শেষে দেশের চেহারা অনেকটাই পাল্টে যাবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ শেষ হলে মোট দেশজ আয় ১ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন এসেছে শেখ হাসিনার হাত ধরে। থ্রি  ডাইমেনশনাল (থ্রি ডি) সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশলে বলীয়ান হওয়ার পথে বাংলাদেশ নৌবাহিনী’কে সরকার দুটি সাব মেরিন উপহার দিয়েছে। বন্ধুরাষ্ট্র চীন থেকে সংগৃহীত সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা পাহারা দেয়া এবং অনুপ্রবেশকারী শত্রুকে ঘায়েল করতে অত্যন্ত কার্যকর ভ‚মিকা  রাখতে পারবে। এরইধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহ, ঢাকা চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে রূপান্তর করা হয়েছে। চার লেনের কাজ চলছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করার কাজও চলছে।  

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আলোচিত কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি। এসব প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু ছাড়াও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল কাজ প্রায় শেষের দিকে। দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় তৈরি পোশাক, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।  কৃষিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে দেশ। জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে বাড়ছে শিল্প খাতে। ১৫ বছর ধরে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ খাতে প্রতি বছর ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রæতি দিলেও দাতারা শেষ পর্যন্ত ছাড় করেছে গড়ে ১৭৯ কোটি ডলার। লক্ষ্য অর্জনে অর্থ সঙ্কট বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে ২১টি টার্গেটের ১৩টি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা হয়েছে।

গত দশ বছরে দেশে কৃষি খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে প্রতি বছর সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে, তার শতভাগ পূরণ হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কার দেশকে শুধুই অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রগতি অব্যহত থাকবে এমন স্বপ্নই দেখছে গোটা দেশ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর