Alexa স্বপ্ন জয়ের পথে যেখান থেকে শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০

প্রথম বিশ্বকাপ

স্বপ্ন জয়ের পথে যেখান থেকে শুরু

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৩ ১৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ২১:৩৬ ১৯ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম মানেই যেনো বিশেষ কিছু, সেটি যে ক্ষেত্রেই হোক। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও নিজেদের খেলা প্রথম বিশ্বকাপ ছিল বিশেষ কিছু। ক্রিকেটে আজ  বাংলাদেশ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে তার পেছনে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপটি মেরুদন্ডের ভূমিকা রেখেছে বললেও অত্যুক্তি হবেনা।

ডেইলি বাংলাদেশ এর পাঠকদের জন্য আজ  আমরা তুলে ধরবো সেই বিশ্বকাপেরই গল্প।

যে কোন বৈশ্বিক আসরেই অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। ক্রিকেটে বারবার চেষ্টার পরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয়ে উঠছিল না। অবশেষে ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে আসে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে লাভ করে ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সপ্তম বিশ্বকাপের টিকিট। 

প্রথমবার এতো বড় আসরে খেলা নিয়ে এমনিতেই অনেক উচ্ছ্বাসিত ছিল মানুষ। বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্দীপনারও অভাব ছিলোনা। তবে এর প্রথম প্রকাশ দেখা যায় সম্ভবত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার পরেই। স্কোয়াডে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারন মানুষ। শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়েই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ।

১৭ মে ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামে বাংলাদেশ দল। শুরুতে ব্যাট করে ৩৭.৪ ওভার খেলে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৬ রান করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন এনামুল হক (১৯)। জবাবে ৩৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই জিতে যায় নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নামে ২১ মে। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান উইন্ডিজ)। এবারও প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। আরো একবার অল আউট হওয়ার আগে করতে পারে ১৮২ রান। এ ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে পঞ্চাশোর্ধ রানের দেখা পান মেহরাব হোসেন অপি(৬৪)। তবে জিমি এডামসের অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটের বড় জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

২৪ মে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলতে নেমে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। নান্নুর অপরাজিত ৬৮ রানের কল্যাণে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান করতে সমর্থ হয় তারা। গেভিন হ্যামিল্টনের অনবদ্য ৬৩ রানের ইনিংসের পরেও বাকী ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতায় ১৬৩ রানে অল আউট হয় স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ জয় পায় ২২ রানে।

আগের ম্যাচে জয় পাওয়া আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল ২৭ মে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নামে। নান্নুর আরো একটি হাফ সেঞ্চুরির পরেও বাংলাদেশ মাত্র ১৭৮ রান করতে সমর্থ হয়। ওপেনার এডাম গিলক্রিস্টের ৩৯ বলে ৬৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে মাত্র ২০ ওভারেই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামে  ৩১ মে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই দিন বা ম্যাচকে যে ঐতিহাসিক আখ্যা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে পুঁচকে বাংলাদেশ উড়ে যাবে এমন ধারণাই হয়তো ছিল অনেকের। কিন্তু সবাইকে ভূল প্রমাণ করে ছোট ছোট কিন্তু কার্যকরী কিছু ইনিংসের মাধ্যমে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২২৩ রান করতে সক্ষম হয়। জবাবে পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং ১৬১ রানে অল আউট হয়ে যায়। বাংলাদেশ পায় ৬২ রানের এক স্মরণীয় জয়। 

প্রথমবার বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে এসেই অসাধারণ পারফর্ম করে। ৫ ম্যাচের ভেতর ২টি  ম্যাচ জয় সে সময়ের প্রেক্ষাপটে এদেশের জন্য বড় ঘটনাই বটে।  

এই বিশ্বকাপের পারফরমেন্সের মাধ্যমেই মূলত বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। নিজেদের টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবীও শক্ত হয় এর পরেই।

ফলশ্রুতিতে কিছুদিন পর টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে টাইগাররা। সে সব দিক থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এ পর্যায়ে আসার পেছনে এই বিশ্বকাপই যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তা খুব নিশ্চিন্তে বলাই যায়।

১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড 


আমিনুল ইসলাম (অধিনায়ক), আকরাম খান, ফারুক আহমেদ, শাহরিয়ার হোসেন, মেহরাব হোসেন, এনামুল হক, নিয়ামুর রশিদ, নাইমুর রহমান, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ রফিক, শফিউদ্দিন আহমেদ, হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, মিনহাজুল আবেদীন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি