Alexa স্বপ্নের সমান বড় একজন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

স্বপ্নের সমান বড় একজন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

খাদিজা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ২৫ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে নিয়ে লেখার যোগ্যতা নিয়ে বলবো- আমি এ যোগ্যতায় খুবই ক্ষুদ্র, সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন একজন নগন্য মানুষ।

আমার এই অণু জ্ঞানকে পুঁজি করে এরকম আপাদমস্তক একজন জ্ঞানী মানুষকে নিয়ে লিখতে বসাটা অনেকটা ধৃষ্টতারই সামীল।সেজন্যে ভুল ভ্রান্তি এবং আমার সীমাবদ্ধতার জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কলম থেমে যায়, বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দ তবু কোথায় যেন ভালোবাসার জোর পাই। শ্রদ্ধার অসীম শক্তি অনুভব করি। নিজের ভাবনাগুলোর সঙ্গে যখন তার ভাবনাগুলোর মিল খুঁজে পাই তখন সাহস একটু বেড়ে যায়।লেখার জন্য আগ্রহ বোধ করি।

তাই যে কথাটা মিলে যায় সেটা হলো একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটা হলো, মানুষ সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবাসেন? যে উত্তরে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন,"নিজেকে। যে নিজেকে আমি স্পর্শ বা অনুভব করতে পারি, যাকে চিমটি কাটতে পারলে ব্যথা পাই, যার বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দে মৃত্যুর পদধ্বনি শুনি সেই নিজেকে। এজন্য আমার সবচেয়ে কাছের আমি নিজে।"এখানে তিনি আরো ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, নিজেকে ভালোবাসলে নিজের মানুষদের ভালোবাসা যায়। তারপর সমাজ, দেশ এবং সর্বোপরি পুরো পৃথিবীটাকেই ভালোবাসা যায়।সেজন্য নিজেকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।

প্রেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন,"প্রেম মানে না পাওয়া।যতক্ষণ পাওয়া হয়নি ততক্ষণই প্রেম।প্রেমে যখন দুজন দুজনের থেকে বিচ্ছিন্ন তখনো তা প্রেম,আবার কাছে থেকেও তাদের মধ্যে যদি অপ্রাপ্তি থাকে তবু তারাতো আসলে দূরে থাকলো।কাজেই সেটাও প্রেম।যার মধ্যে না পাওয়া থাকবে তার মধ্যে প্রেমও থাকবে।প্রাপ্তি এসে গেলে প্রেমটা মরে যায়।" যেন তিনি মনের কথা বলেন মনের কথা জানেন এমনই তার বিশ্লেষণ আর বোধ। 

কবি, বিদগ্ধ প্রবন্ধকার, আধুনিক গল্পকার, নাট্যকার, সক্রিয় সংগঠক ও কর্মী, টেলিভিশনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী উপস্থাপক, তুখোড় বক্তা এবং সর্বোপরি একজন মানুষ গড়ার সত্যিকার কারিগর হিসেবে যিনি জীবন্ত কিংবদন্তি তিনিই সকলের প্রিয় এবং শ্রদ্ধাভাজন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই পার্ক সার্কাস, কলকাতায়।সেদিন জন্ম হয়েছিলো একজন স্বপ্নদ্রষ্টার, একজন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগরের।বাবা ছিলেন শিক্ষক। তাই ছোট বেলা থেকেই বাবাকে দেখে শিক্ষক হবার সংকল্প করেছিলেন।আর সেজন্যই শিক্ষকতার পেশাই তার কাছে সেরা।১৯৬২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর তিনি অধ্যাপনা করেন। এখনো পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে তিনি সফল এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল সুন্দরকে খোঁজা।সহজভাবে স্বপ্ন দেখা, কথা বলা।তার বক্তৃতায় তিনি এতো সহজ সাবলীল এবং সহজাত যেটা আমাকে ভীষণ অবাক করে।কিভাবে একজন মানুষ এভাবে কথা বলতে পারে?কি অদ্ভুত সুন্দর আয়োজন তার প্রতিভার।আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি আর বিমোহিত হই।

তিনি একজন সব্যসাচী সাহিত্য সাধক।১৯৬৫ সালে ছোটকাগজ "কণ্ঠস্বর" বের করার মাধ্যমে শুরু হয় তার নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলন। ১৯৭৮ সালে আলোকিত মানুষ গড়ার অদম্য ইচ্ছায় গড়ে তুলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যার পথ চলার ৪০ বছরের উপরে সময় অতিবাহিত হচ্ছে।এবং ১ কোটি মানুষকে আলোকের সন্ধানে অগ্রপথিক করেছে এই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। 
ষাটের দশকে নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলনের পথিকৃৎ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে এদেশের নানান সাংগঠনিক, সামাজিক কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী কাণ্ডরি হিসেবে জড়িয়ে আছেন।তিনি তারুণ্যের বলিষ্ঠ প্রতীক।যাকে অনুসরণ, অনুকরণ করতে মন চায় লাখো কোটি তরুণের। তিনি পরিবেশের ও একজন শুশ্রূষাকারী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।তার জীবনের এই মহান কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার। ২০০৪ সালে তিনি রোমেন ম্যাগসাসে পুরস্কার পান।অপ্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন।প্রবন্ধে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।২০১৭ সালে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন থেকে পালমোকন-১৭ সম্মাননা পান।

২৫ জুলাই এই স্বপ্ন দ্রষ্টার ৮০ বছর পূর্ণ হলো।অথচ তিনি এখনো সজীব এবং সক্রিয়। তার কাজের মধ্যে, তার লেখনিতে।প্রায় প্রতি বছরই তিনি  তার সাহিত্য সৃষ্টির প্রকাশ ঘটান। তার সৃজনশীলতায় বা তার সৃষ্ট, কর্মে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।তাই তরুণদের কাছে তিনি আরো বেশি গ্রহণযোগ্য। তার সাবলীল উপস্থাপনা যেকোনো বিষয়ের উপর তার স্বচ্ছ শব্দগাঁথুনি তাকে আরও উচ্চমাত্রায় পৌঁছে দেয়।তাই ভালো লাগে যখন তিনি সুশীল সমাজের একজন হয়েও স্পষ্ট করে বলেন,"আজ এদেশে রাজনৈতিক সমাজ সুশীল সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। যে মানুষ ন্যায়ের বিবেকের বিশ্বাসের কথা বলবে সে আজ দলের কথা বলছে। এখন দেশে মাত্র একটা সোসাইটি। তার নাম পলিটিক্যাল সোসাইটি। "
তাকে সরাসরি কখনও দেখিনি আমি, তবে তার একটি বিমূর্ত রূপ আছে আমার কাছে যাকে অনুভবে স্পর্শ করে স্বপ্ন দেখতে শিখি ভাবতে পারি" মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।" একজন স্বপ্নমাতাল মানুষের মাঝে আশিবছরেও খেলাকরে তারুণ্যের ঝলকানি, সৃষ্টির উল্লাস। ভালো থাকুক এই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
Best Electronics