Alexa স্বপ্নিল শুরুর পর হতাশায় শেষ ক্যারিবীয় মিশন

ঢাকা, বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬,   ০৩ রজব ১৪৪১

Akash

স্বপ্নিল শুরুর পর হতাশায় শেষ ক্যারিবীয় মিশন

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৭ ১৮ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ক্রিকেট বিশ্বকাপের দামামা থেমে গেছে বেশ কয়েকদিন হলো। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে জয়লাভ করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ১০ দলের এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলই এসেছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে। তবে ফরম্যাটের কারণে গ্রুপপর্বেই বাদ গিয়েছে ছয় দল।

কেমন ছিল সেই দলগুলোর পথচলা? সেসব নিয়েই ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এবারের আয়োজন (অর্জনে ব্যর্থতা)। আজকের পর্বে থাকছে উইন্ডিজের ব্যর্থ হবার গল্প। 

আমেরিকা মহাদেশের দল উইন্ডিজ কোন একক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেনা একথা সকলেই জানে। কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে তৈরি এ দলের প্রতি খেলোয়াড়দের আবেগটাও তাই এখন তুলনামূলক কম। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট এসে আরো বিপদে পড়েছে দলটি। কারণ অধিকাংশ খেলোয়াড় এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে বাইরের লীগে খেলতেই বেশি পছন্দ করে।

তবুও বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাইরের লিগ মাতানো খেলোয়াড়দের নিয়েই দল গঠন করে উইন্ডিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যেনো হুংকার দেয় তারা। গতির ঝড়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১০৫ রানে বিধ্বস্ত করে জয়লাভ করে ৭ উইকেটে। 

এমন শুভ সূচনার পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ হারে ১৫ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ অবশ্য অমীমাংসিত থেকে যায়। পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মেন ইন মেরুনদের। 

এই ছন্দপতনের পর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি উইন্ডিজ দল। একের পর এক হারতে থাকে সব ম্যাচ। 

ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৮ উইকেটে হারার পর বাংলাদেশের সঙ্গেও হেরে বসে ৭ উইকেটের ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটাই এরপর যা প্রতিদ্বন্দিতা করতে পেরেছে তারা। কিউইদের বিপক্ষে ৫ রানে হারার পর ভারতের সঙ্গে হারে ১২৫ রানে। 

নিজেদের শেষ ২ ম্যাচে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় উইন্ডিজ। জয় পরাজয়ের ব্যবধান সমান থাকলেও ২ ম্যাচে তাদের অভিজ্ঞতা ২ ধরণের। শ্রীলংকার বিপক্ষে ২৩ রানে হারলেও আফগানদের সঙ্গে ম্যাচটি ২৩ রানে জিতে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে জেসন হোল্ডারের দল। 

গ্রুপপর্বে ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ জয় ও ৬ হারে ৫ পয়েন্ট অর্জন করে উইন্ডিজরা। ১০ দলের ভেতর ৯ম স্থান নিয়েই  সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। 

তবে শুরুর ম্যাচের পর তাদের এই ফলাফল দর্শকমহলেও তৈরি করেছে হতাশা। হারার কারণ বিশ্লেষণে মূলত দল হিসেবে খেলার অভাবকেই দায়ী করা যেতে পারে। 

উইন্ডিজের এই দলের অদিকাংশ খেলোয়াড়ই সারাবছর বিশ্বের বিভিন্ন লীগে খেলে থাকেন। তাই নিজেদের ভেতর একটি দল হয়ে খেলার অভিজ্ঞত অনেক কম মনে হয়েছে তাদের। 

এছাড়া খেলোয়াড়দের ফিটনেসও ছিল কম। টি-২০ নিয়ে মেতে থাকায় পর্যাপ্ত ফিটনেসের অভাবে ভুগেছেন অনেক ক্রিকেটার। 

মূল খেলোয়াড়দের ব্যর্থতাও দলটির এমন অবস্থার আরেক কারণ।  ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল সহ প্রায় পুরো টুর্নামেন্টেই ছিল ফ্লপ। তাই দলও বারবার তাদের অভাব বোধ করেছে। 

এভাবেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কারণে খারাপ পারফর্ম্যান্স করেছে উইন্ডিজ। সোনালী সময় কাটিয়ে আসা দলটির ভবিষ্যৎ আশা দেখাচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন করে সব ঢেলে সাজানো ছাড়া উপায় নেই দলটির। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি